লড়তে চান বিএনপির কামাল ইসলামী আন্দোলনের মাসুমও

আগের সংবাদ

দুই শতাধিক যুদ্ধাপরাধীর খোঁজ নেই

পরের সংবাদ

কুয়েট অশান্তির নেপথ্যে ভিসি!

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৫, ২০২১ , ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ৫, ২০২১ , ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ

তদন্ত কমিটির অপারগতা

নতুন কমিটি ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদকসহ ৯ ছাত্র বহিষ্কার

হঠাৎ করেই অশান্ত হয়ে উঠেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)। এই অশান্তির নেপথ্যে উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ হোসেনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু ভিসিই নয়, সঙ্গে একজন প্রতিমন্ত্রীর ভাইও জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসটি বিএনপি-জামায়াতের অভয়ারণ্য বলেও অভিযোগ আছে।

সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করে বলেছেন, আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী এই ভিসি বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগকে সহ্যই করতে পারেন না। নানা ছুতোয় তিনি ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ প্রগতিশীলদের ওপর চড়াও হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অস্থিরতা সামাল দিতে গত শুক্রবার হঠাৎ করেই ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করেছেন তাবলিগ-জামায়াতের অনুসারী এই ভিসি।

অধ্যাপকের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ না থাকলেও কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানসহ ৯ ছাত্রকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছেন তিনি। যদিও এই ঘটনার তদন্তে গঠিত প্রথম কমিটি অপারগতা জানানোর পর নতুন আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একাধিক শিক্ষক বলেছেন, ওই শিক্ষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু ভিসি এখানে কৌশলে একটি গ্রুপকে ব্যবহার করে ওই শিক্ষকের মৃত্যুর জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করতে চেয়েছেন। এর ফলে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বহিষ্কার করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি সূত্র বলেছে, হলে খাবার নিয়ে অধ্যাপক ড. সেলিমের সঙ্গে ছাত্রদের কথা হয়েছে অন্তত দুসপ্তাহ আগে। কিন্তু গত সপ্তাহে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার পর ভিসিসহ শিক্ষকদের একটি অংশ ছাত্রলীগকে সামনে টেনে এনে প্রমাণ করতে চাইছে, এই মৃত্যুর জন্য ছাত্রলীগ দায়ী। কট্টরপন্থি এই ভিসিকে নিয়োগ দেয়ার জন্য সরকারের একজন মন্ত্রীর তদবিরকে দায়ী করে কমিশন সূত্র আরো বলেছে, নিজের আখের গোছাতে ওই মন্ত্রী তদবির করে আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী এই ব্যক্তিকে উপাচার্য করে নিয়ে গেছেন কুয়েটে। এরপর থেকেই কুয়েটে অশান্তি নিত্যসঙ্গী। মূলত তিনি উপাচার্য হওয়ার যোগ্যই নন।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভোরের কাগজকে বলেন, কুয়েট উপাচার্যের মেয়াদ আছে আর প্রায় এক বছর। গত তিন বছর ধরেই তিনি সেখানে নানা অপকর্ম করেছেন। আর এতে তাল দিচ্ছেন মন্ত্রী ও তার ভাই। এসব পদে নিয়োগ দেয়ার আগে সরকারকে ভালো করে খবর নেয়া উচিত বলে জানান তিনি। কারণ আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী, সরকার বিদ্বেষী এই অধ্যাপক কুয়েটে উপাচার্য পদে নিয়োগ পান কী করে, প্রশ্ন তার।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক বলেছেন, ভিসির এসব অপকর্মে সাহস দিচ্ছেন প্রতিমন্ত্রীর ভাই। তারা ভিসিকে নানা অপকর্মে সহযোগিতা করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুনাফা নেন। এমনকি গতকাল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ যে ৯ ছাত্রকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে ক্যাম্পাসে প্রতিমন্ত্রী গ্রুপের সঙ্গে তাদের দূরত্ব রয়েছে।

জানতে চাইলে কুয়েটের জনসংযোগ কর্মকর্তা মনোজ কুমার ভোরের কাগজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসব বিষয়ে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ নেই। ভিসি স্যার ও রেজিস্ট্রার স্যারই সব বলবেন। কিন্তু ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন এবং রেজিস্ট্রার মো. আনিসুর রহমান ভুঁইয়ার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি জানালে তিনি বলেন, আমাদের করার কিছু নেই।

এদিকে ক্যাম্পাস অশান্ত হওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর ভাই শাহাবুদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, গত দশ দিন ধরে আমি ঢাকায় রয়েছি। সঙ্গত কারণেই কুয়েট ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। ঘটনা ঘটার পর আমি সব শুনেছি। এও শুনেছি সেখানে তদন্ত কমিটি হয়েছে। ছাত্রলীগের যারা বহিষ্কার হয়েছে তারা ক্যাম্পাসে আপনাদের গ্রুপে রাজনীতি করতেন না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সব বের হয়ে আসবে।

৯ ছাত্র বহিষ্কার: এদিকে, কুয়েট প্রশাসন গতকাল শনিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক মো. সেলিম হোসেনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় আলোচনা হয়। সেখানে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ছাত্র শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অসদাচরণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এর ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নয়জনকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত হয়। এই ৯ ছাত্র হলেন- সাদমান নাহিয়ান সেজান, মো. তাহামিদুল হক ইশরাক, মো. সাদমান সাকিব, আ স ম রাগিব আহসান মুন্না, মাহমুদুল হাসান, মোহাম্মাদ কামরুজ্জামান, মো. রিয়াজ খান নিলয়, ফয়সাল আহমেদ রিফাত ও মো. নাইমুর রহমান অন্তু। জানা গেছে, তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। এদিকে শিক্ষক মৃত্যুর ওই ঘটনা তদন্তে পাঁচ সদস্যের নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রাতে এই কমিটি গঠন করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, গত মঙ্গলবার কুয়েটের ইইই বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন (৩৮) ক্যাম্পাসের পাশের ভাড়া বাসায় মারা যান। ভিসিপন্থি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অধ্যাপক সেলিমকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তার ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়।

কিন্তু এ তথ্যের সঙ্গে একমত নন শিক্ষকদেরই বড় একটি অংশ। অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অভিযোগ তুলেছে, শিক্ষকের হার্ট অ্যাটাক/স্ট্রোকে স্বাভাবিক মৃত্যুকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে একটি বিশেষ মহল ও শিক্ষক সমিতির একটি অংশ সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগকে অভিযুক্ত করতে চাইছে। ফাঁস হওয়া ভিডিও ফুটেজে সব প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কার হওয়ার পরও সরকারবিরোধী একটি চক্রের অপপ্রচারে ঘি ঢেলে দিতেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ দিয়ে অস্থিরতাকে উসকে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ক্যাম্পাস বন্ধের নির্দেশ আসার আগে সকালেই ছাত্রলীগ প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ না করাসহ ৫ দফা দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। কিন্তু তা না করে ক্যাম্পাস বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসের বাসায় শৌচাগারে অচেতন হয়ে পড়ার পর ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রভোস্ট ড. সেলিমকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ উঠেছে, তার মৃত্যুর পরই শুরু হয় বিশেষ মহলের রাজনীতি। যার সঙ্গে আছে ভিসিসহ শিক্ষক সমিতিরই একটি অংশ। ছাত্রদের একটি অংশ হঠাৎই দাবি তোলে, শিক্ষক ওই দিন বাসায় ফেরার আগে তাকে ছাত্রলীগের একটি অংশ লাঞ্ছিত করেছিল। যদিও সঙ্গে সঙ্গেই ছাত্রলীগ নেতা কর্মীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটি গঠনের দুদিন বাদে বৃহস্পতিবার দুই সদস্যের অপারগতা প্রকাশের কথা জানান কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক কাজী সাজ্জাদ হোসেন। এরপরে শুক্রবার আবার নতুন করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এদিকে অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুতে কুয়েট শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার ১০টা থেকে ১ ঘণ্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষকরা কালোব্যাজ ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্বার বাংলা ভাস্কর্যের পাদদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে স্মারকলিপি দেন। এর আগে বুধবার থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছেন। অধ্যাপক সেলিমকে বুধবার রাতে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রামে নিজ বাড়িতে দাফন করা হয়।

ছাত্র রাজনীতি বন্ধ ও শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে দায় চাপাতে একটি মহল চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাই। শিক্ষার্থী অরূপ বলেন, আমরা ছাত্রলীগ বা নির্দিষ্ট কাউকে প্রমাণ ছাড়া দোষ দেয়ার পক্ষে নই। ভিডিও ফুটেজে অনেক কিছু পরিষ্কার। তদন্তে আরো পরিষ্কার হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে প্রশাসন অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। শিক্ষকদের অনেকেই আমাদের বলছেন তারা এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, ওই শিক্ষকের সঙ্গে ডিপার্টমেন্টে হলের ছাত্ররা দেখা করার পর তিনি আরো দুজনের সঙ্গে কথা বলে নিজে একা অফিস রুমে তালা দিয়ে বের হয়ে যান। তাহলে ছাত্রলীগের বা অন্য কারো নির্যাতনের কথা কেন আসছে সেই প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে।

সেদিন কী ঘটেছিল : এ অবস্থায় ড. সেলিম হোসেনের মৃত্যুকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রলীগকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা হচ্ছে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ। জ্যেষ্ঠ শিক্ষকরা তুলেছেন একই অভিযোগ। ভিডিও ফুটেজে যে শিক্ষার্থীদের দেখা যায় তারা লিখিতভাবে তুলে ধরেছেন পুরো কাহিনি। তারা লিখেছেন, স্যার গত ৯ মাস আগে কুয়েটের লালন শাহ হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। কুয়েটের হলগুলোতে যখনই কোনো নতুন প্রভোস্ট নিয়োগপ্রাপ্ত হন ছাত্রকল্যাণ কমিটির পক্ষ থেকে প্রভোস্ট মহোদয়ের সঙ্গে হলের ফাইনাল ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়, যেন হলের বিভিন্ন কর্মসূচি যেমন অ্যানুয়াল ফিস্ট, ক্রীড়া অনুষ্ঠান, জাতীয় দিবস উদযাপন এবং সার্বিক কর্মকাণ্ড ছাত্র-শিক্ষক সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়।

সেই কারণেই, দুপুর ১২টায় প্রভোস্ট স্যার নিজ অফিস কক্ষে একটি মিটিং নির্ধারণ করেন। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করে পূর্বনির্ধারিত মিটিং এ যোগ দিতে আনুমানিক ৪০ মিনিট বিলম্ব হয়। ঘটনাক্রমে আমাদের দেরি হওয়ায় পথিমধ্যে স্যারের সঙ্গে দেখা হয় এবং তিনি বলেন- ‘এই তোমরা এখন আসছ? আমি তো বের হয়ে আসছি। তারপর আমাদের দেরির কারণ জানালে স্যারই আমাদের তার কক্ষে আসতে বলেন। এরপর স্যার তার কক্ষের তালা খুললে শিক্ষার্থীরা তার অনুমতি সাপেক্ষেই ভেতরে প্রবেশ করে। সব শিক্ষার্থীর আসন সংকুলান না হওয়ায় স্যার সিনিয়রদের ভেতরে বসতে এবং জুনিয়রদের কিছুক্ষণ বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। সিনিয়রদের সঙ্গে তার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর, স্যার বাইরে অপেক্ষমাণ ছাত্রদের ডাকেন এবং বলেন, আমার তো আড়াইটায় ল্যাব আছে, আমি সন্ধ্যায় হলে গেলে তোমাদের সঙ্গে পরিচিত হবো। এরপর, স্যার সবাইকে চা অফার করেন, কিন্তু পর্যাপ্ত কাপ না থাকায় এবং লাঞ্চ আওয়ার চলায়, স্যারের অসুবিধার কথা ভেবে শিক্ষার্থীরা তখন কিছু না খেয়ে হলে ডাইনিং করার কথা জানায়। তখন স্যার তার রুমের দরজার পাশে থাকা টেবিলে এক বোতল মধু দেখিয়ে শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে মধু খেয়ে যেতে বলেন।

তখন জুনিয়র শিক্ষার্থীরা ভেতরে প্রবেশ করে মধু খায় এবং রুম থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়। এরপর সিনিয়ররাও স্যারের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে হাস্যোজ্জ্বল মুখ নিয়ে রুম থেকে বের হয়। এর ঘণ্টাখানেক পর, দুপুরবেলায় স্যারের অসুস্থতার সংবাদ পাওয়া মাত্র হলে থাকা ছাত্ররা সিটি মেডিকেলে যায় এবং সেখানে গিয়ে জানতে পারে তিনি নিজ বাসায় স্ট্রোক করেছিলেন এবং তখন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুয়েট মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিটি মেডিকেলে রেফার করেন।

কিন্তু সিটি মেডিকেলের ডাক্তাররা জানান, পথিমধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এরপর, স্যারের মৃতদেহ নিয়ে খুলনা মেডিকেলে গিয়ে মৃত্যুসনদ সংগ্রহ করা হয়, যেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে স্ট্রোকের কথা উল্লেখ ছিল। এরপর, স্যারের মৃতদেহ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে অসংখ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গুণগ্রাহী তার জানাজায় শরিক হন। এরপর মৃতদেহ দাফনের উদ্দেশ্যে তার গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। সেখানে তার পরিবার-পরিজন, সহকর্মীরা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

অথচ তার এই অকাল মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরেই একটি কুচক্রী মহল সাধারণ শিক্ষার্থীদের জড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়াসহ দেশের মেইনস্ট্রিম মিডিয়াগুলোতে নোংরা রাজনীতিতে লিপ্ত হয়েছে বলে বলছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, কোনো ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়া প্রিয় শিক্ষকের অকাল মৃত্যুর সঙ্গে শিক্ষার্থীদের যোগসূত্র ঘটিয়ে আমাদের যে মানসিক ট্রমার মধ্যে ধাবিত করেছে, তা এক কথায় জঘন্য এবং ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের শামিল।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়