আমরা গুলি ছাড়াই শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আগের সংবাদ

বৃহস্পতিবার থেকে চলবে বেনাপোল এক্সপ্রেস

পরের সংবাদ

বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত উড়িরচরের প্রতিটি ঘর

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২১ , ৩:৪৯ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২১ , ৩:৫৩ অপরাহ্ণ

সন্ধ্যা নামতেই ঘরে আলো জ্বালাতে হয় অজিফা খাতুনের। বাড়ির প্রাত্যহিক কাজকর্ম ও ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ায় একমাত্র ভরসা ছিল কেরোসিনের কুপিবাতি কিংবা হারিকেন। কারণ এ চরে কোনো বিদ্যুৎ ছিল না। তবে এখন আর কুপিবাতি বা হারিকেনের আলো জ্বালাতে হবে না এ গৃহবধূর। তার ঘর আলোকিত করছে বিদ্যুতের আলো।

এ ব্যাপারে খুশি অজিফা খাতুন বলেন, বিদ্যুৎ পেয়ে আমাদের চেয়ে বেশি খুশি হয়েছে ছেলে-মেয়েরা। তারা বিদ্যুতের আলোয় স্বচ্ছন্দে লেখাপড়া করতে পারছে।

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা ইউনিয়ন চর এলাহী। এই ইউনিয়নের একটি অংশ উড়িরচর ও চর বালুয়া। মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় জনবসতি গড়ে ওঠার পর থেকে বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলো ২৫ হাজার মানুষ। অবস্থা সম্পন্ন হাতেগোনা কিছু বাড়িতে নিজস্ব সৌরবিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলেও সেখানকার অধিকাংশ বাসিন্দাদের রাত কাটতো প্রায় অন্ধকারে।

সম্প্রতি মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুতের আলো পৌঁছেছে এ চরে। মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে শতভাগ বিদ্যুতায়নের অংশ হিসেবে প্রায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে এ চরকে আলোকিত করেছে নোয়াখালীপল্লী বিদ্যুত সমিতি। বিদ্যুৎ পেয়ে খুশি এ চরের বাসিন্দারা। এখন বিদ্যুতের আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করার স্বপ্ন দেখছেন তারা। সন্ধ্যার পর ঘুমিয়ে পড়া চর এখন জেগে থাকে মধ্য রাত পর্যন্ত। বেড়েছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। গতি আসতে শুরু করেছে মানুষের জীবনে। সারাদিন ক্ষেত-খামার আর গৃহস্থালীর কাজ শেষে রাতে বিদ্যুতের আলোয় কাজ করে বাড়তি রোজগার করছেন অনেকে।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে চার কিলোমিটার নদীর তলদেশ পাড়ি দিয়ে চরবালুয়ায় ১০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র স্থাপন করে সংযোগ দেয়া হয়েছে সাড়ে তিন হাজার পরিবারকে। তবে সক্ষমতা রয়েছে ১ লাখ পরিবারকে বিদ্যুতের আওতায় আনার।

নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে সরেজমিনে দেখা গেছে, চর বালুয়ার সমিতি বাজার ও বারো আউলিয়া বাজারে প্রবেশের মুখেই সড়কের পাশে বসানো হয়েছে বিদ্যুতের খুঁটি। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য টানানো হয়েছে বিদ্যুতের তার। বাজারের দোকানগুলোতে চলছে টিভি। কম্পিউটারে কাজ করছে কয়েকজন যুবক।

চর বালুয়ার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিন ও বারো আউলিয়া বাজারের দোকানিরা জানান, তারা কোনোদিন ভাবেননি তাদের ঘর আলোকিত হবে বিদ্যুতের আলোয়। চরবাসীর স্বপ্ন পূরণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নোয়াখালীর কৃর্তি সন্তান সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিদ্যুৎ সুবিধার কারণে এখন তারা কৃষিসহ সব সেক্টরে উন্নতি করতে পারবেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউল হক মীর বলেন, বিদ্যুতের কারণে চরের মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে। ডিজিটাল সুবিধাসহ কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবন-মান উন্নয়নের আওতায় আসবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত গ্রাম হবে শহর সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

নোয়াখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে সারমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়েছে উড়িরচরে। গত ১৫ নভেম্বর পুরো চরকে আলোকিত করার কাজ শেষ করে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়