নাসির-অমির জামিন, চার্জশিটে পরী মনির নারাজি

আগের সংবাদ

সরকার খালেদা জিয়াকে স্তব্ধ করে দিতে চায়: ফখরুল

পরের সংবাদ

নামে মিল, বিনা দোষে রাকিব জেলে!

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ১, ২০২১ , ১:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: ডিসেম্বর ১, ২০২১ , ১:৫৮ অপরাহ্ণ

রাকিব (২৫), বাড়ি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামে। মাদকের একটি মিথ্যা মামলায় গত ২২ দিন ধরে তিনি জেলহাজতে। বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে এমন অভিযোগ করেন রাকিবের বাবা-মা ও তার গ্রামবাসী।

রাকিবের বাড়িতে শুনসান নীরবতা। গত ২২ দিন ধরে তার পরিবারের কারো নাওয়া-খাওয়া নেই। পুরো বাড়ি খা খা করছে। রাকিবের মা রাহিমা বেগম বার বার ছেলের কথা বলে মূর্ছা যাচ্ছে। তার ছেলে স্থানীয় বিভিন্ন পোলট্রি ফার্ম থেকে মুরগি নিয়ে উত্তরায় দোকানে দোকানে সাপ্লাই দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু মিথ্যা মামলায় ছেলেকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে। এখন সে ওই মামলায় জেলখানায়।

রাহিমা বেগম বলেন, আমার ছেলে গ্রামে কারো কোনো ক্ষতি করে নাই। তবে কেন আমার ছেলেকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হলো? আমার ছেলের মুক্তি চাই।

রাকিবের বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধি আক্তার হোসেন কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, সে আমার একমাত্র ছেলে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছি। এখন সে লেখাপড়ার পাশাপাশি পিকআপ দিয়ে পোলট্রি ফার্মের ব্যবসা করে।

মামলার বরাত দিয়ে আক্তার হোসেন জানান, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২০৩ পিস ক্যান বিয়ারসহ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের সাইজউদ্দিনের ছেলে শহিদুল্লাহকে (৩২) আটক করে। পরে পুলিশ ধৃত আসামি শহিদুল্লাহর জবানবন্দি অনুযায়ী ওই ঘটনায় পরদিন ২৮ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে শহিদুল্লাহ তার ছোট ভাই আশরাফুলসহ রাকিব ও রুবেল নাম উল্লেখ করে কালীগঞ্জ থানায় একটি মাদক মামলা (নং ৯) দায়ের করেন। তবে মামলায় রাকিব ও রুবেলের বাবার নাম অজ্ঞাত ছিল। ওই মামলায় ডিবি পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই করার জন্য কালীগঞ্জ থানায় একটি অনুসন্ধান টিম পাঠায়। পরে কালীগঞ্জ থানার পক্ষে ওই অনুসন্ধান টিম নিয়ে উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মুকুল তালুকদার তদন্ত করে রাকিবের বাবার নাম আক্তার উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেন এবং মামলার আরেক আসামি রুবেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর মাসের শুরুর দিকে আমরা জানতে পারি আমার ছেলে ওই মামলার আসামি। পরে সরল মনে ছেলেকে নিয়ে আমরা আদালতে আত্মসমর্পন করতে গেলে আদালত আমার ছেলেকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন সে ২২ দিন ধরে জেলে আছে। আমি আমার নির্দোষ ছেলের মুক্তি চাই।

ওই মামলার ২নং আসামি রাথুরা গ্রামের সাইজউদ্দিনের ছেলে মো. আশরাফুল মুঠো ফোনে জানান, আসলে ওইদিন আমাদের সঙ্গে এই ঘটনায় আক্তার কাকার ছেলে রাকিব জড়িত না। আমাদের সঙ্গে যে রাকিব জড়িত ছিল সে আমার বন্ধু, তার বাড়ি পাড়াবর্তা (নাওটান) গ্রামে, তার বাবা তাইজউদ্দিন তাজু।

ওই গ্রামের বাসিন্দা রাথুরা মোল্লাবাড়ী জামে মসজিদের সহ-সভাপতি ষাটোর্ধ্ব হাজী আব্দুল বাতেন জানান, ছেলেটি খুব ভাল। নামের সঙ্গে মিল থাকায় বিনা দোষে জেল খাটছে। এখন সে জেলে থাকায় তার ব্যবসাগুলো নষ্ট হচ্ছে।

কালীগঞ্জ থানার পক্ষে আসামিদের নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাইকারী পুলিশ কর্মকর্তা মুকুল তালুকদার বর্তমানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানায় কর্মরত আছেন। তিনি মুঠোফোনে জানান, আমি মাত্র এক মাস কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা ফাঁড়ির অধীনে কাজ করেছি। আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাম ঠিকানা পাঠিয়েছি।

মামলার বাদী গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, আমি মামলায় ৪ জনের নাম দিলেও শহিদুল্লাহ এবং আশরাফুলের বাবার নাম উল্লেখ করেছি। তবে রাকিব ও রুবেলের বাবার নাম জানতে না পারায় অজ্ঞাত রেখেছি। পরে ওই মামলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বদিউজ্জামান তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিউজ্জামান বলেন, এখানে আমার কিছু করার নেই। আমরা ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান টিম পাঠিয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় পূর্ণাঙ্গ নাম নিয়েছি এবং মামলায় রুবেল নামে এক আসামির সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছি।

কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. আনিসুর রহমান বলেন, আসলে যাকে তদন্ত করতে পাঠাই, সে তদন্ত করে দিলে আমি শুধু স্বাক্ষর করি। আমার পক্ষে যাচাই-বাছাই করার কোন সুযোগ নেই। তবে এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেটা দুঃখজনক।

গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আমির হোসেন জানান, আসলে আমরা অনুসন্ধান টিমের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। অজ্ঞাত হিসেবে নাম দেওয়ার পর কালীগঞ্জ থানা পুলিশ বাবার নাম উল্লেখ করে আমাদের প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। ওই সময় বিষয়টি নিয়ে আমার সন্দেহ হলে আমি তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোনে ওই পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত করতে বলি। পরে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে এই ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে এটা অনাকাঙ্খিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

রি-এ/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়