নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

পূর্বধলায় বিজয়ী প্রার্থীর হামলায় পরাজিত প্রার্থীসহ আহত ২

পরের সংবাদ

পঞ্চগড় মুক্ত দিবস আজ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২১ , ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২১ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

আজ পঞ্চগড় হানাদার মুক্ত দিবস। এই দিনে মুক্তিকামী জনতা কঠিন লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পঞ্চগড়কে পাক হানাদার মুক্ত করেছিলেন। মুক্তিকামী মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই দিনটি আনন্দের। প্রতি বছর জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে জাকজমকপূর্ণভাবে দিনটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকালে সার্কিট হাউজের সামনে অবস্থিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল, মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ ও করতোয়া সেতুর উত্তর পাড়ে শহীদ বধ্যভূমিতে পুস্পস্তবক অর্পণের পর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে এসে ১৭ই এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড় দখল করে নেয়। পরবর্তীতে জেলার চার থানা তারা দখলে নিলেও অমরখানায় চাওয়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ মুক্তিযোদ্ধারা ভেঙ্গে দেওয়ার কারণে পাকসেনারা আর তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তেঁতুলিয়া ছিল পাক হানাদার মুক্ত। মুক্ত অঞ্চল হিসেবে তেঁতুলিয়া সকল কর্মকাণ্ডের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

পহেলা নভেম্বর থেকে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে ভারতীয় মিত্র বাহিনী যৌথভাবে পাকবাহিনীর ডিফেন্সের উপর হামলা চালায়। ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা মুক্ত হতে থাকে। মরণ কামড় হিসেবে মুক্তি ও মিত্র বাহিনী পর্যায়ক্রমে পাকবাহিনীর উপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়ে ২০ নভেম্বর অমরখানা, ২৫ নভেম্বর জগদলহাট, ২৬শে নভেম্বর শিংপাড়া, ২৭শে নভেম্বর পূর্ব তালমাসহ একইদিনে আটোয়ারী, মির্জাপুর, ধামোর, শক্রমুক্ত করে রাতেই তারা পঞ্চগড় সিও অফিস ও ঘাটিয়ারপাড়া এলাকায় ফ্রন্টলাইন গড়ে তেলেন। ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা চারদিক থেকে পাকবাহিনীর উপর ঝড়ো আক্রমণ করে। এ আক্রমণে পঞ্চগড় শহরের পূর্বদিকে ডিফেন্স নিয়ে থাকা পাকবাহিনী টিকতে না পেরে টুনিরহাট দেবীগঞ্জ ভায়া ডোমার হয়ে কাঁচা রাস্তা ধরে সৈয়দপুর অভিমুখে পিছু হটতে থাকে। ওইদিন রাতে মুক্তি, মিত্র, ট্যাংক ও পদাতিক বাহিনীর সম্মিলিত সাড়াশি আক্রমণে পরাজিত হয়ে পাক বাহিনী পঞ্চগড়ের মাটি ছেড়ে চলে গেলে ২৯ নভেম্বর ভোরে পঞ্চগড় হানাদার মুক্ত হয়। এদিন পাকবাহিনীর সাথে ভয়াবহ যুদ্ধে ৪৮ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় শতাধিক মিত্র বাহিনীর সদস্য শহীদ হন। আহত হন অনেকে।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়