ওমিক্রন ডেল্টার চেয়ে ৬ গুণ দ্রুত ছড়ায়, দাবি বিশেষজ্ঞদের

আগের সংবাদ

বিনিয়োগ সম্মেলন: দেশে ২৭০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ আসছে

পরের সংবাদ

কয়লা এবং জীবাশ্ম জ্বালানীর সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২১ , ১০:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২১ , ১০:২৬ অপরাহ্ণ

বিশ্বনেতারা জলবায়ু সমস্যা সমাধানের জন্য ডাকেন। জলবায়ু সম্মেলন আহ্বান করেন। কিন্তু তারা সমস্যার সমাধান করেন না। শুধু আশ্বাস দেন। বিশ্বনেতারাই বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকটের সৃষ্টি করেছেন। ফলে এর সমাধান আমাদের নিজেদেরই করতে হবে।

সোমবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে “২৬তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৬) এর প্রাক্কালে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা এবং প্রস্তাবনা” শীর্ষক এক নাগরিক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিয়ারডি), কোস্ট ফাউন্ডেশন, সিসিডিবি, সিডিপি, ইপসা, মালেয়া ফাউন্ডেশন, এসডিএস, ক্যানসা-বাংলাদেশসহ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফ এর সভাপতি জনাব ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহম্মেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিআরডি’র প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা। অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুল কাদের, বাংলাদেশ পরিবেশ সংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম, ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্ণালিষ্ট ফোরামের সভাপতি কাওসার রহমান, সিডিপি’র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গির হাসান মাসুম, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক সৈয়দ আমিনুল হকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সংগঠনের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা।

এ সময় কয়লা ও জীবাশ্ম জ্বালানি সম্পূর্ণ অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমরা অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গেলেও হতাশ হই। আমরা ভেবেছিলাম, কপ-২৬ সম্মেলনে অনেক চুক্তি হবে। কিন্তু সেটা হয়নি। যেহেতু এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, তাই আমাদের বৈশ্বিকভাবেই সমাধান করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য সঠিক হারে কার্বন নির্গমন হ্রাস করতে ব্যর্থ হলে এবারের কপ সম্মেলনের সব প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগই বিফলে যেতে পারে। বক্তারা উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে আনুপাতিক হারে নির্গমন গ্রাসকরণের বিষয়ে অঙ্গীকার চান।

সভায় পল্লী কর্ম সহায়কের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান কাজী খলিকুজ্জামান বলেন, করোনার সময়ে খুব দ্রুত টিকা বের হয়ে গেলো। এর কারণ ক্ষমতাবানদেরও করোনা ধরেছিল। ক্ষমতাবানরা যখন সমস্যার সম্মুখীন হন, তখন তারা সমাধানের পথ বের করেন। জলবায়ু সমস্যায় বাংলাদেশের মতো দেশগুলো ভুগছে। তাই আমাদেরই এর সমাধানে চেষ্টা করতে হবে। বাংলাদেশে জলবায়ু নিয়ে গবেষণা হয় না মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশের পক্ষে যারা কথা বলি, তারা মন থেকে বলি না। আমরা অন্যের লেখা ও বলা থেকে ধারণা নিয়ে কথা বলি। নিজেরা গবেষণা ও চিন্তা করি না। তিনি বলেন, আমাদের অগ্রাধিকারে গলদ আছে। আমরা এজন্য অগ্রগতিতে সমাধান পাচ্ছি না। আমাদের সরকারের যথেষ্ট সদিচ্ছা আছে। কিন্তু যারা বাস্তবায়ন করেন, তাদের অগ্রগতিতে সদিচ্ছার অভাব রয়েছে। জলবায়ূ পরির্বতনের নেতিবাচক অভিঘাতের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, এর জন্যই আমরা দেখছি বহু অঞ্চলে উদ্বাস্তু মানুষের ঢল নেমে যাবার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আর যদি আমরা বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে না পারি এবং এটিকে ১ দশমিক ৫ এর স্থলে যদি ২ ডিগ্রি ঘোষণা করা হয় তাহলে সেটি অনেক অঞ্চল এবং দেশের জন্য মৃত্যুদন্ড ঘোষণারই নামান্তর।

প্রধান আলোচক হিসেবে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতা এবং সমালোচনা থাকলেও কপ-২৬ সম্মেলনে অনেকগুলো ভালো অর্জনও আছে। এবারের কপ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নতুন কিছু আশার আলো নিয়ে এসেছে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের একমত হওয়ার বিষয়টিকে নতুন পথচলার সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ব্যাপারে তাগিদ দেন তিনি।

ড. নুরুল কাদের বলেন, এ বছর সিভিএফ মোটামুটি সক্রিয় ছিল কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত দেশের প্ল্যাটর্ফম হিসাবে সিভিএফকে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দেশের নেগোশিয়েটরদের মাঝে সবজান্তা সাজার একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়, কিন্ত কার্যক্ষেত্রে তাদের সেই পান্ডিত্বের প্রতিফলন দেখি না। কাউসার রহমান অভিযোগ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় আর্থিক সাহায্য দেয়ার পরির্বতে সাহায্যের নামে ঋণ দেয়া এবং ব্যবসায়ীক ক্ষেত্র তৈরির পায়তারার বিষয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সজাক দৃষ্টি রাখার দাবি জানান। সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, কপ -২৬ এ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের চাওয়ার যথাযথ প্রতিফলন হয়নি। উপকূলের জন্য আরো সুনির্দিষ্ট অভিযোজন পরিকল্পনা নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখনই উপকূলীয় বহু অঞ্চলের মানুষকে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে জীবন নির্বাহ করতে হয়, বহুমানুষ জোয়ারের সময় তাদের বাড়ি যেতে পারেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রি-এআরজে/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়