ওমিক্রন : নতুন ধরন মোকাবিলায় এখনই সতর্ক হতে হবে

আগের সংবাদ

রাষ্ট্রধর্ম বিতর্ক

পরের সংবাদ

ই-পাসপোর্ট পেতে সহজ হোক প্রক্রিয়া

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

বিমা কর্মকর্তা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৯, ২০২১ , ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৯, ২০২১ , ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন ই-পাসপোর্ট চালু করেছে। ই-পাসপোর্টের আগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু ছিল। পাসপোর্ট একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পাসপোর্ট ছাড়া দেশের কোনো নাগরিক দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। বর্তমান সময়ে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পাসপোর্ট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের লাখ লাখ লোক কর্মরত আছেন। তাদের প্রত্যেকের কাছে রয়েছে বাংলাদেশি পাসপোর্ট। বর্তমানে সরকার ই-পাসপোর্ট চালু করায় যেমনি সুবিধা হয়েছে তেমনি অসুবিধা হয়েছে অনেক। ই-পাসপোর্ট জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তৈরি হচ্ছে। আগের মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের সঙ্গে জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্যে মিল না থাকলে ই-পাসপোর্ট হচ্ছে না। বর্তমানে দেশের অধিকাংশ মানুষের ভোটার আইডি কার্ডে ছোটখাটো ভুল রয়েছে। এই ভুলের কারণে বাংলাদেশের নাগরিকরা ই-পাসপোর্ট পাচ্ছে না।
প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে অসংখ্য ই-পাসপোর্ট আটকা পড়ে আছে। ই-পাসপোর্ট আটকে যাওয়ায় দেশের মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়ে গেছেন। অনেকে পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ই-পাসপোর্ট নিতে গিয়ে আটকে আছেন। অনেক প্রবাসী ভিসার মেয়াদ থাকা সত্ত্বেও বিদেশে যেতে পারছেন না। অনেকে জরুরি কাজে, ব্যবসায়িক কাজে, চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যেতে পারছেন না। এতে সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদনকারীরা মাসের পর মাস স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ধরনা দিতে দিতে হয়রান হয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা তাদের সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারছেন না। কারণ ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম পরিচালিত হয় রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পাসপোর্ট অফিস থেকে। হাজার হাজার ই-পাসপোর্টে এ জটিলতা থাকায় এগুলো সহসা সমাধান করা যাচ্ছে না। আগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সংশোধন করার সুযোগ থাকায় পাসপোর্ট পেতে তেমন সমস্যা হতো না। বর্তমানে ই-পাসপোর্টে সংশোধনের সুযোগ থাকলেও তা পাসপোর্ট আবেদনকারীদের স্বার্থে সীমিত পর্যায়ে করা হচ্ছে। যে কারণে ই-পাসপোর্ট আবেদনকারী চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
বর্তমানেই পাসপোর্ট বানাতে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। এই জটিলতার কারণে দেশের লাখ লাখ পাসপোর্ট আবেদনকারী অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করতে গিয়ে পাসপোর্ট আবেদনকারীরা কী যে সমস্যায় পড়ছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। বাংলাদেশের নাগরিকদের পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রাখে। কিন্তু ই-পাসপোর্টে যেসব নিয়মকানুন বা জটিলতা রয়েছে সেগুলোর কারণে অধিকাংশ মানুষ ই-পাসপোর্ট পাচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হবে। ই-পাসপোর্ট সহজভাবে পেতে জটিলতা কমাতে হবে। পাসপোর্ট আবেদনকারীর তথ্যে ভুল-ভ্রান্তি থাকলে তা সহজে সমাধান করার সুযোগ দিতে হবে। এ ব্যাপারে পাসপোর্ট অধিদপ্তর অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যদি আন্তরিকভাবে বিশেষ উদ্যোগ নেন তবে ই-পাসপোর্টের জটিলতা কমে যাবে। পাসপোর্ট আবেদনকারীরা সহজে পাসপোর্ট পেতে পারবেন। কারণ পাসপোর্টের সঙ্গে দেশের অর্থনীতির বিশাল যোগসূত্র রয়েছে। ই-পাসপোর্টের সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও কেউ এর সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে এ ব্যাপারে সরকারের উচ্চমহলের সহায়তা চেয়েছেন ই-পাসপোর্টের আবেদনকারীরা। আশা করি এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হবে। এ ব্যাপারে যত দ্রুত উদ্যোগ নেয়া হবে ততই মঙ্গল হবে।

আবুল কাসেম ভূঁইয়া : বিমা কর্মকর্তা, ঢাকা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়