বাসর ঘরে যাওয়ার আগেই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার যুবক!

আগের সংবাদ

শিক্ষার্থীদের চুল কেটে নেওয়া সেই শিক্ষক স্বপদে বহাল

পরের সংবাদ

চট্টগ্রামে স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যানার

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২১ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২১ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ

একাত্তর সালে বাংলাদেশে গনহত্যার জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে’-এমন একটি শ্লোগান সম্বলিত ব্যানার রবিবার (২৮ নভেম্বর) দেখা গেছে নগরীর সাগরিকা এলাকায় জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দেয়ালে। ব্যানারটি সাটানো হয়েছে বীর চট্টলার জনতা’ নামে। প্রায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই ব্যানারটি অনেক ক্রীড়ামোদী দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখ্য এই স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পকিস্তান টেষ্ট ম্যাচ চলছে এবং খেলার তৃতীয় দিন।

বীর চট্টলার জনতা’র নামে ব্যানার টানানোর ঘটনাকে অনেকে সময়োপযোগী ও সাহসী বলেই অভিহিত করেছেন। এর আগে গত শুক্রবার বাংলাদেশী এক যুবক পাকিস্তানী জার্সি গায়ে দিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপ্ত স্থানীয় কিছু প্রতিবাদী তরুন তাকে স্টেডিয়ামে ঢুকতে দেয়নি। শুধু তাই নয় তাকে ধাওয়া দিলে সে একটি ডোবায় পড়ে যায় এবং সেখান থেকে বার বার হাত জোর করে ক্ষমা চাইতে দেখা গেছে। পাকপ্রেমী ওই বাংলাদেশী যুবক আর কখনো পাকিস্তানী জার্সি পড়বে না এমনটি অঙ্গীকার করে ছাড়া পেয়েছে সেদিন।

এদিকে রবিবার স্টেডিয়াম সংলগ্ন দেয়ালে লাগানো ব্যানারটি যে কয়েকজন প্রতিবাদী যুবক লাগাতে গিয়েছিল তখন নাকি তাদেরকে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কিছু সদস্য নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। রবিবার দুপুরে তাদেরই একজন অনুপম বড়ুয়া ওই ব্যানারটি লাগানোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিককে বলেছেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এদেশে নির্মম গণহত্যা চালিয়েছে। ৩০ লক্ষ বাঙালি শহীদ হয়েছে। দুই লক্ষ নারী তাদের হাতে নিগৃহীত হয়েছে। লুটপাট, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ- আরও অনেক মানবতা বিরোধী অপরাধ তারা করেছে। তাদের নৃশংসতার কথা বাঙালি জাতি এখনও ভুলে যায়নি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সেই পাকিস্তানের ক্রিকেট দল এদেশে এসে খেলায় অংশ নিচ্ছে, অথচ তারা এখনও কৃতকর্মের জন্য ক্ষমাও চায়নি। আমরা এদেশের আপামর বাঙালির প্রাণের দাবিটি তুলে ধরেছি।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি সুত্র অভিযোগ করেছে এই ব্যানার টানানোর জন্য অনুপম বড়ূয়া নামে যুব ইউনিয়নের ওই নেতাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নানাভাবে হয়রানী করছে। তবে রবিবার রাত ৮ টার দিকে পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, আমি বিকেলেও ব্যানারটি দেখেছি। তবে কে বা কারা সেটি লাগিয়েছেন তা ঠিক বলতে পারবোনা। যারা ব্যানার লাগিয়েছে তাদের কাউকে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কেউ নিয়ে গেছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি মোস্তাফিজ বলেন, না না এমন কিছু ঘটেছে বলেতো শুনিনি, আমি ব্যানারটি বিকেলেও দেখেছি। কিন্তু রবিবার রাতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুব ইউনিয়নের নেতা অনুপম বড়ূয়ার মোবাইলে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলে তার মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়