প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীর প্রতিবাদ

আগের সংবাদ

তাইজুলের ভেলকি, নবমবার পাঁচ উইকেট

পরের সংবাদ

অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৮, ২০২১ , ২:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৮, ২০২১ , ৩:০৫ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা অর্থনৈতিক কূটনীতিকে প্রাধান্য দিচ্ছি। দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার চুক্তি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও সমন্বিত অর্থনৈতিক বাণিজ্যচুক্তি সম্পাদনের কাজ করা হচ্ছে।

রবিবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) আয়োজন করা দুই দিনের এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদ ভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ভূটানের সিঙ্গে পিটিএ সই করেছি। বাংলাদেশ বিশ্বে ৩৮ টি দেশে একতরফা শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা পাচ্ছে। ৩৬টি দেশের সঙ্গে দ্বৈত করার্পন পরিহার চুক্তি বলবৎ আছে। আমার বিভিন্ন বাণিজ্য জোটের সঙ্গে নিবিরভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

ছবি:পিএমও

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ এর নির্বাচনে জয়ী হয়ে পরপর তিনদফা এই দেশ চালাবার সুযোগ পেয়েছে। এতে দেশে বিরাজমান রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, দক্ষ পরিশ্রমী জনবল সৃষ্টি, আকর্শনীয় প্রণোদনার মাধ্যমে উদার বিনিয়োগ নীতি, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্বের বিশাল জনগোষ্ঠির বাজারের মধ্যে ভৌগলিক অবস্থানের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশের প্রতি আস্থার ফলে ৭ শতাংশেরও বেশি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আসছে পুন:বিনিয়োগের মাধ্যমে। আমরা জাতীয় শিল্পনীতি সহ খাত অনুযায়ী শিল্প নীতিমালা প্রণোয়ন করেছি। শ্রম আইন ২০১৮ প্রণোয়ন করেছি। প্রতিটি প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। রপ্তানিমুখী শিল্পের বৃদ্ধির জন্য বন্ড ব্যাবস্থাপনাকে অটোমেশন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা ৩৯ টি হাইটেক পার্ক নির্মাণ করেছি। পর্যায়ক্রমে ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল আমরা গড়ে তুলছি। অর্থনৈতিক অঞ্চলসমুহে ২৭ দশমিক ০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছি। মীরের সরাই, সোনাগাজী, সীতাকুন্ড উপজেলায় বঙ্গবন্ধু শিল্পনগর গড়ে তুলেছি। আড়াই হাজারে জাপানিজ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে। আমরা বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব আইন প্রণোয়ন করেছি এবং সরকারি-বেসরকারি অংশিদারিত্ব কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি। বর্তমানে ৬৯ টি পিপিপি প্রকল্পে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে সরকারের অঙ্গিকারের কথা পুনব্যক্ত করেন সরকার প্রধান। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সাল থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে ৩৫ টি সংস্থার ১৫৪ টি বিনিয়োগ সংস্থার সেবা অনলাইনে প্রদানের লক্ষে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ‘আমরা বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে অবকাঠামো সহ সকল সহায়তা প্রদানে অঙ্গিকারবদ্ধ।

এ সময় বিএনপি সরকারের আমলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে আমরা এক সময় বিনামুল্যে সাবমেরিন কেবল এবং ফাইবার অপটিকসে সংযুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। সে সময় বিএনপি ক্ষমতায় ছিলো তারা সে সুযোগটা নেয় নি। বরং প্রত্যখ্যান করেছিলো’, যোগ করেন সরকার প্রধান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বে এখন উন্নয়নের রোল মডেল। আমরা এসডিজি প্রোগ্রেস এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। আমরা প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ মানুষের ঘরে বিদ্যুত পৌছে দিয়েছি। আমাদের ১২ কোটির বেশি মানুষ ইন্টারনেট ব্যাবহার করছে। তথ্য প্রযুক্তি জ্ঞ্যান সম্পন্ন মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে চতুর্থ শিল্প বিল্পব থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আহরনের প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি। ২০২৫ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলারে আইটি পন্য রপ্তানি করার লক্ষ্য আমরা স্থির করেছি। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট ১ উৎক্ষেপন করেছি, পদ্মা সেতু নির্মান কাজ প্রায় সমাপ্তির পথে যা আমরা স্বঅর্থায়ণে করেছি। ঢাকায় মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দরে রুপান্তর, কক্সবাজারে আরো একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মান, চট্টগ্রামে কর্নফূলি নদীর নিচে টানেল, মাতারবাড়ী ও পায়রায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

দেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারত সহ বিশ্বের ১৫ টি দেশের ২৩৩৫ জন অংশগ্রহনকারী নিবন্ধন করেছে যেনে আমি আনন্দিত। বিনিয়োগের জন্য আমরা সম্ভাবনাময় ১১টি খাত চিহ্নিত করে দিয়েছি। এর মধ্যে অবকাঠামো, পুজিবাজার, ফিন্যানসিয়াল সেবা, তথ্য প্রযুক্তি, ইলেক্ট্রনিক্স উৎপাদন, স্ময়ংক্রিয় ও হালকা প্রকৌশল, চামড়া, কৃষিপন্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্বাস্থ্য সেবা ও ঔষধ, পাট ও বস্ত্র এবং ব্লু ইকোনমি। আমি বিশ্বাস করি, এ সম্মেলনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের এইসব সম্ভাবনামতয় খাত সম্বন্ধে বিস্তারিত জানতে পারবেন। বিশ্বে বাংলাদেশি পন্যের নতুন বাজার সৃষ্টি হবে এবং বাংলাদেশ কাঙ্খিত বিনিয়োগ আকর্ষণেও সক্ষম হবে।

জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) আকারের তুলনায় দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। এটা কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিতে সরকার দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উৎসাহিত করছে। এর অংশ হিসেবে লাভজনক বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই দুদিনের এই সম্মেলন।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়