নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

সংসদে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পক্ষে বলায় তোপে হারুন

পরের সংবাদ

লাইসেন্স ছাড়াই ময়লাবাহী গাড়ি চালায় সিটি করপোরেশন কর্মীরা

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১ , ৪:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২১ , ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া রাজধানীর পান্থপথে ময়লাবাহী গাড়ির চাপায় গণমাধ্যমকর্মী আহসান কবির খানের ঘাতক হানিফ চালাচ্ছিলেন ডাম্প ট্রাক। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কোনো পেশাদার চালকও নয় সে। গাড়ি মেরামত ওয়ার্কশপে কর্মরত ছিল। শনিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করেন র‌্যাব লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তবে অবৈধভাবে গত তিন বছর যাবৎ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ধরনের হালকা ও ভারী যানবাহন চালিয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত এক বছর যাবসে ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক চালাচ্ছিল। ডিএনসিসির গাড়ি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত একজনের সঙ্গে তালিকাভুক্ত কর্মচারী বা চালক না হয়েও ময়লাবাহী ভারি ডাম্প ট্রাকটি বরাদ্দ দেয়া হয় তাকে। যা চালানোর জন্য তার নেই পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বর রাজধানীতে ময়লাবাহী গাড়িচাপায় এক শিক্ষার্থীসহ দুজন নিহত হন। গত বুধবার (২৪ নভেম্বর) গুলিস্তান এলাকায় নটরডেম কলেজের ছাত্র নাঈম খান ময়লাবাহী গাড়িচাপায় নিহত হন। এইচএসসি পরীক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকের মূল চালক হারুনকে গত ২৬ নভেম্বর আটক করে র‌্যাব-৩ এর একটি দল। অন্যদিকে গণমাধ্যমকর্মী আহসান কবির খান (৪৬) পান্থপথের বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্স এর উল্টোদিকে ময়লাবাহী আরেকটি গাড়ির চাপায় নিহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত আহসান কবির খান গত ২৫ নভেম্বর তার মগবাজারের বাসা থেকে মিরপুরের কর্মস্থলে রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাওয়ের মাধ্যমে একটি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে আনুমানিক দুপুর আড়াইটার সময় সোনারগাঁ মোড় থেকে পান্থপথে যাওয়ার রাস্তার সিগন্যালে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় অন্যান্য গাড়ির সঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক (পরীক্ষাধীন নম্বরঃ ৫১২৮) সেখানে অপেক্ষা করছিল। সিগন্যাল ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই আহসান কবির খানের মোটরসাইকেল ধাক্কা খেলে তিনি মাটিতে ছিটকে পড়েন। ময়লাবাহী গাড়ির চালক গাড়িটি না থামিয়ে তার ওপর দিয়ে চালিয়ে চলে যায়। এ সময় অন্যান্য মোটরসাইকেল চালক এবং স্থানীয় লোকজন গাড়িটিকে ধাওয়া করলে ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকটি গ্রিনরোড সিগন্যাল পর্যন্ত গিয়ে চালক এবং তার সহকারী গাড়িটি রেখে পালিয়ে যায়।

উপস্থিত পথচারীরা আহসান কবিরকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার নিকট প্রাপ্ত পরিচয় পত্র থেকে তাকে সনাক্ত করা হয়।

ওই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাদিরা পারভীন বাদী হয়ে কলাবাগান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ৩৩। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত আহসান কবির খান দৈনিক সংবাদে কর্মরত ছিলেন। ইতোমধ্যে প্রথম আলোসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন তিনি। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় র‌্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে।

র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‌্যাব-২ এর অভিযানে শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সময় ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাকের চালক মো. হানিফ ওরফে ফটিককে (২৩) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি কুমিল্লার সিটিপল্লী ১৪ মধ্য বস্তিতে। বাবার নাম কামাল মিয়া। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হানিফ দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বীকার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত হানিফকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কমান্ডার মঈন বলেন, গত ২৫ নভেম্বর কারওয়ান বাজার থেকে গাবতলীতে ময়লা পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ছিল এবং সকালে দুবার ময়লা নিয়ে গিয়েছিল। ময়লা নিয়ে তৃতীয়বার যাওয়ার সময় ময়লাবাহী ট্রাক দিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তাকে ধাওয়া করলে সে কৌশলে গাড়ি থেকে নেমে লোকাল বাসে করে গাবতলীতে চলে যায়। গাবতলী থেকে সেদিনই সদরঘাট হয়ে লঞ্চে করে চাঁদপুরের হাইমচরে আত্মগোপন করে।

গ্রেপ্তার হানিফ আরও জানায়, সে প্রথমে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের গাড়ি মেরামত ওয়ার্কশপে মূল মেকানিকের সহযোগী হিসেবে কাজ করতো। গাড়ি পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই/একজন ব্যক্তির সাথে প্রায় ছয়/সাত বছর যাবত সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালিয়ে আসছে। কর্মকর্তার যোগসাজশে মেকানিক থেকে ড্রাইভার হানিফ পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই ঘাতক হানিফের ময়লাবাহী ডাম্প ট্রাক একটি ভারী যানবাহন, যা চালানোর জন্য পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রয়োজন হলেও তার নামে হালকা যানবাহন চালানোর একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে বলে জানায়।

এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার মঈন বলেন, সরাসরি ঘাতক ময়লার ড্রাম্প গাড়িটি কার নামে বরাদ্দ, কে মূল চালক তা জানে না গ্রেপ্তার হানিফ। তবে আমরা গোয়েন্দা তথ্যের জানতে পেরেছি কে মূল চালক। সেটি আমরা ডিএনসিসিকে জানাবো। তারা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবে।

অন্য প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব গণমাধ্যম প্রধান বলেন, নটরডেম ছাত্র নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার হারুন ছিলেন পরিচ্ছন্ন কর্মী। তার কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না। মূল চালক ছাড়াই সে দেড় বছর ধরে চালক হিসেবে গাড়িটি চালাচ্ছিল। আর ঘটনার দিন গাড়িটি চালাচ্ছিল সহকারি রাসেল। তারা চালক হিসেবে বেতন পেতো না। তেল চুরিই তাদের মজুরি। ১৭ থেকে ২০ লিটার তেল তারা বাঁচিয়ে মজুরি বা বেতন হিসেবে তুলে নিত। রাসেল কর্তৃক চালনার দিনে ময়লার গাড়িটি দুর্ঘটনার ঘটায়। খবর পেয়ে হারুন আত্মগোপনে চলে যায়। পরে হারুনকে যাত্রাবাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সহযোগী রাসেলও দুই তিন জন ডিএসসিসির কর্মকর্তার যোগসাজশে ট্রাক চালাচ্ছিল। সেও চুরি করা তেল বিক্রি করতো। রাসেলকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পান্থপথে গণমাধ্যম কর্মী আহসান কবির নিহতের ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার হানিফও পেশাদার চালক নন। গ্রেপ্তার হানিফের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

আর- এআরজেড / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়