কৃষি গুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি দিতে গিয়ে আটক এক শিক্ষার্থী

আগের সংবাদ

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ৮৭ জন হাসপাতালে ভর্তি

পরের সংবাদ

ইবি ভর্তি নির্দেশিকায় বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষিত

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৭, ২০২১ , ৬:৩৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৭, ২০২১ , ৬:৩৪ অপরাহ্ণ

শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে প্রথমবারের মতো ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা। পরীক্ষার ফলাফলও প্রকাশিত হয়েছে। এখন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের সমন্বিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি নির্দেশিকা অনুযায়ী ইউনিট ভিত্তিক ভর্তি আবেদন করতে হবে। গত ২২ নভেম্বর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ-স্নাতক (সম্মান) শ্রেণীর ভর্তি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষ। ইউনিট ভিত্তিক বিভাগ অনুযায়ী বিভাগীয় শর্তও আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে শর্ত নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা কমিটির বিরুদ্ধে বিভাগীয় সভাপতিদের একাডেমিক সভার পরামর্শকে উপেক্ষা করার অভিযোগ তুলেছেন অনেক শিক্ষক। বিভাগীয় একাডেমিক সভার পরামর্শ অনুযায়ী দেয়া ভর্তির শর্ত না মেনে ভর্তি পরীক্ষা কমিটি গতানুগতিক শর্ত আরোপ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

নির্দেশিকায় দেখা যায়, ‘এ’ ইউনিটের বিভাগগুলোতে পরিসংখ্যান এবং বায়োটেকনোলজি এন্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় যথাক্রমে গণিত এবং জীববিজ্ঞানে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। এছাড়া বাকি ৯টি বিভাগের কোনটিতে গণিত কোনটিতে জীববিজ্ঞান আবার কোন বিভাগে উভয় বিষয় ঐচ্ছিক বা আবশ্যিক থাকতে হবে। ‘বি’ ইউনিটের বিভাগগুলোর ক্ষেত্রে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে কোন শর্ত দেওয়া হয়নি। অথচ আরবী বিভাগে পড়তে হলে শিক্ষার্থীকে আরবী ভাষা জানা আবশ্যক। ইংরেজীতে ভর্তির ক্ষেত্রে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় এই বিষয়ে জিপিএ ৩.৫০ থাকতে হবে। এছাড়া বাংলায় থাকতে হবে জিপিএ ৩.০০। চারুকলা বিভাগে ভর্তি হতে হলে অঙ্কন বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এদিকে আইন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ৯টি বিভাগ এবং ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ৬টি বিভাগে ভর্তির ক্ষেত্রে ইংরেজীতে জিপিএ ৩.০০ থাকলেই ভর্তি হতে পারবে শিক্ষার্থীরা। তবে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত মাস কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম বিভাগে (অনুমোদনহীন বিভাগ) ভর্তি হতে হলে বাংলা ও ইংরেজিতে জিপিএ ৩.২৫ থাকতে হবে বলে ভর্তি নির্দেশিকায় বলা হয়।

বিভিন্ন অনুষদের কয়েকটি বিভাগের সভাপতি জানায়, ভর্তি পরীক্ষা কমিটি বিষয় ভিত্তিক নম্বরের বদলে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষার বিভিন্ন বিষয়ের উপর পাওয়া জিপিএ নূন্যতম স্কোরকে মানদন্ড হিসেবে দিয়েছেন। তবে যে স্কোর দেওয়া হয়েছে তা সচারচর শিক্ষার্থীরা পেয়ে থাকে। এতে বিভাগের মান ও অবস্থান অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষার্থী পাওয়ার বিষয়ে সংশয় তৈরী হয়েছে। এছাড়া গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে ইউনিট ভিত্তিক মেধা তালিকা ও নূন্যতম স্কোর নিরূপণ না করায় ভর্তি করার ক্ষেত্রে বেগ পেতে হতে পারে বিভাগগুলোকে। ইউনিট পরিবর্তন করে ভর্তির ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো জটিল আকার ধারণ করবে। এতে শিক্ষার্থীদের গুনতে হবে অতিরিক্ত অর্থ। ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে শিক্ষকদেরও।

আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোশতাক মুনাওয়ার আলী বলেন, আমরা বিভাগ মিটিং করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের যেকোন একটিতে আরবি বিষয় থাকার শর্ত প্রস্তাব করেছিলাম। আমাদের প্রস্তাবিত কোন শর্তই রাখা হয়নি। প্রশাসন নিজেদের মতো করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্দেশিকা প্রকাশের আগে মিটিং করে আবারও জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রশাসন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে আমাদেরকে মৌখিকভাবে আশ্বাস দিয়েছে। তবে উদ্বেগ ও শঙ্কা থেকেই যায়।

আল-ফিকহ এন্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ওহাব বলেন, বিভাগীয় একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভর্তি ক্ষেত্রে মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশের শর্ত প্রস্তাব করেছিলাম। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি যে প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত নিয়েছে এতে আমাদের কিছু বলার ছিল না।

ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও নির্দেশিকা প্রকাশ কমিটির আহ্বায়ক এবং বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, যদি পরীক্ষার আগে বিভাগ বা ইউনিটে ভর্তির শর্তের কথা উল্লেখ না থাকে তাহলে পরীক্ষার পরে এবং পরীক্ষার বিষয়ের উপর শর্ত দেয়া আইন সিদ্ধ নয়। সভায় সিদ্ধান্তের পর সভাপতিরা নোট অব ডিসেন্ট দিতে পারতেন। নতুন পদ্ধতির কারনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আগে থেকে কোন শর্ত দিতে পারেনি। টোটাল সিস্টেমটার ভিতরে যোগাযোগের একটা ঘাটতি ছিলো তাই আমরা অনেক ক্ষেত্রে অনিশ্চিত ছিলাম। তাছাড়া আমাদের শর্ত অনুযায়ী ভাল শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, অন্যান্য বছর বাংলা, ইংরেজী আবশ্যিক থাকে। এবার তা ছিলো না। ইউনিট ভিত্তিক বিষয় অনুযায়ী পরীক্ষা হয়েছে। সবাই তো আরবী পারে না। তবে আমরা চেষ্টা করি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকে সর্বজনীন করা। সেটা করতে গিয়ে যা হবার তাই হবে।

রি-আরএম/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়