প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড আইন বিতর্ক

আগের সংবাদ

নটর ডেম ছাত্রের মৃত্যু : সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন কত দূর?

পরের সংবাদ

খেলা, রাজনীতি এবং পাকিস্তানপ্রীতি

বিভুরঞ্জন সরকার

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

খেলার সঙ্গে রাজনীতিকে মেশাতে চান না অনেকেই। এই অনেকের সংখ্যা আসলে কত তা বলা কঠিন। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার কত শতাংশ ক্রীড়ামোদী এবং এই ক্রীড়ামোদীর কত শতাংশ মানুষ খেলার সঙ্গে রাজনীতি মেশাতে চান না, তার কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছেই নেই। তবে এটা অনুমান করা যায় যে, দেশে ক্রীড়ামোদীর সংখ্যার চেয়ে পাকিস্তানভক্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না! সম্প্রতি মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলা দেখতে গিয়ে পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে উল্লাস করেছে, পাকিস্তান জিন্দাবাদ সেøাগান দিয়েছে এবং একজন তো পাকিস্তান ভাঙার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছে। এরা বয়সে তরুণ। এদের মধ্যে এমন পাকিস্তানপ্রেম কীভাবে উথলে উঠল, সে প্রশ্ন উঠছে। এটাও বলা হচ্ছে যে, গত ১২ বছর ধরে টানা ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পতাকাবাহী বলে মনে করে থাকে। তাহলে তারা ক্ষমতায় থাকতে দেশে তরুণদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রতি মহব্বত বাড়ছে কেন এবং কী কারণে?
বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রযোজন। কেউ কেউ বলছেন যে, খেলার মাঠে রাজনীতি ঢোকানো উচিত নয়। কে কোন দলকে সমর্থন করবে, কোন খেলোয়াড়ের ফ্যান কে হবে- এটা বাইরে থেকে চাপিয়ে দেয়ার বিষয় নয়। এটা যার যার ব্যক্তিগত রুচি ও পছন্দের ব্যাপার। বাংলাদেশের একজন তরুণ বা যে কোনো বয়সের মানুষ যে কোনো দেশের ক্রিকেট বা ফুটবল টিমের সমর্থক হতে পারেন। কেউ যদি ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা বা জিম্বাবুয়ের সমর্থক হতে পারেন, তাহলে আরেকজন কেন পাকিস্তানের সমর্থক হতে পারবেন না?
এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, অন্য কোনো দেশ বাংলাদেশে গণহত্যা চালায়নি। পাকিস্তান চালিয়েছে। পাকিস্তানি বর্বর শাসকগোষ্ঠী ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে। দুই লাখের বেশি বাঙালি নারী পাকিস্তানি সেনাসদস্য এবং তাদের দেশীয় দোসরদের দ্বারা চরম পাশবিকতার শিকার হয়েছে। পাকিস্তানিরা তখন ‘মুসলমান ভাই ভাই’ নীতি অনুসরণ করেনি। ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে সব বাঙালিকে শত্রæ ভেবেছে এবং শত্রæ নিধনে চরম নিষ্ঠুরতার আশ্রয় নিয়েছে। পাকিস্তান যদি একাত্তরে জয়লাভ করত তাহলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। পাকিস্তানকে পরাজিত করেই বাঙালিরা স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। কাজেই অন্য দেশের সমর্থক হওয়া আর পাকিস্তানের সমর্থক হওয়া এক কথা নয়। আমাদের হারতে দেখলে (শুধু খেলার মাঠে নয়) যারা খুশি হয়, তাদের জন্য যারা অন্তরে দরদ পোষে তাদের দেশাত্মবোধ নিয়ে প্রশ্ন জাগাটা অযৌক্তিক নয়।
কানাডা প্রবাসী সাংবাদিক শওগত আলী সাগর তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন : ১. ‘ঢাকার খেলার মাঠে পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়ে উল্লাস করছে বাংলাদেশিরাই’- এই দৃশ্যটি অসহনীয়। কিন্তু যারা পাকিস্তানি পতাকা নিয়ে মাঠে গেছে তাদের আমি শুরুতেই গালি দেবো না। তার আগে তাদের মানসপটটা বোঝার চেষ্টা করব। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যকার খেলায় বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে পাকিস্তানকে সমর্থন এবং সেদেশের পতাকা নিয়ে উল্লাস করার পেছনে তাদের কী ভাবনা কাজ করেছে- সেটা বোঝার চেষ্টা করতে চাইব।
ইতোমধ্যে কোনো মিডিয়া তাদের এই প্রশ্নটা করেছে কি-না জানি না। কিন্তু করাটা দরকার ছিল। তারা কেন এটা করছে- কেবল সেটা জানার জন্যই না, আমাদের এতে কোনো দায় আছে কি-না, সেটা বোঝার জন্যও আমি এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পক্ষে।
২. খেলার মাঠে পাকিস্তানকে সমর্থন করা বা পাকিস্তানের পক্ষে উল্লাস করা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক দিন ধরেই এগুলো চলে আসছে। এখন সেটা সংখ্যায় বেড়েছে। ‘খেলার সঙ্গে রাজনীতি মিশাবেন না’- এমন আপ্তবাক্য আর ‘এরা সব পাকি জারজ সন্তান’- এমন গালি দিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করেছি। এর বাইরে আর কিছু ভাববার দরকার আছে বলে কখনো মনে করিনি।
৩. খেলার সঙ্গে কেন রাজনীতি জড়িয়ে যায়, কেবল রাজনীতিই নয়, সংস্কৃতি, দেশপ্রেম জড়িয়ে যায়- সেগুলো বোঝার সক্ষমতা না থাকলে, অন্যকে বোঝানোর সক্ষমতা না থাকলে আমরা অন্যকে কী দিয়ে প্রভাবিত করব! ‘পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ করেছি, কিংবা পাকিস্তানিদের নৃসংসতা’ অন্যদের কেন স্পর্শ করা উচিত- এই বোধটা এই মানুষগুলোর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া সম্ভব ছিল কি-না, সেটাও ভাববার চেষ্টার মধ্যে রাখতে চাই।
৪. রাজনীতি, সংস্কৃতির চর্চা না থাকা একটা দেশে ‘বাংলাদেশ নব্বই শতাংশ মুসলমানদের দেশ’ প্রচারণার সঙ্গে সঙ্গে একটা জনগোষ্ঠীর কাছে পাকিস্তান তাদের মুসলিম উম্মাহ হিসেবে ঠাঁই পেয়েছে কি-না, মুসলমানিত্বের শতকরা হিসেবে তাদের কাছে বাংলাদেশ ‘কম ইসলামি দেশ’ মনে হয়েছে কি-না- এগুলো জানার কৌতূহলও আমার আছে।
৫. মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে খেলার মাঠে পাকিস্তানের পতাকা নিয়ে উল্লাস করা মানুষের সংখ্যা কেন বাড়ে, কীভাবে বাড়ে, রাষ্ট্র হিসেবে, সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি আছে কি-না, লেখক হিসেবে, সংস্কৃতি কর্মী হিসেবে, মিডিয়া হিসেবে নাগরিকদের মনন এবং মনে দেশপ্রেম, স্বাধীনতাযুদ্ধের মন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে যথাযথ ভূমিকা আমরা রেখেছি কি-না- এগুলো নিয়ে ভাবাটাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করব।
৬. পাকিস্তানি পতাকাওয়ালাদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দিয়ে, ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তাদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।
স্বাধীনতাবিরোধী, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান যাতে দেশে না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে ‘আওয়ামী লীগের অপরিহার্যতা’ আমরাই কিন্তু জনগণের সামনে তুলে ধরেছিলাম।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দেশের কোনো জনগোষ্ঠীর মনে পাকিস্তান প্রেম কীভাবে বেড়ে উঠে- সেই প্রশ্নের উত্তরও আমাদেরই দিতে হবে। অন্য কারো কাছে না হলেও নিজের কাছে তো বটেই। এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। যারা শাসনক্ষমতায় আছেন, তাদের এগুলো নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হবে। দেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে, নানা ধরনের দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো গড়ে উঠছে, মানুষের গড় আয়, আয়ু বাড়ছে। আমরা তো এগিয়ে যাওয়ার জন্যই মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম, রক্ত নদী সাঁতরে আমরা বিজয়ী হয়েছি। এখন স্বাধীনতার ৫০ বছরে অনেক দূর আমরা এগিয়েছি। বড় বড় অর্জন অবশ্যই আমাদের আছে। আবার এই সময়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের পিছু হটার ঘটনাও আছে। আমরা একট অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। ধর্মীয় পরিচয়কে বড় করে দেখে আমরা মানুষে মানুষে বিভেদ তৈরি করতে চাইনি। অথচ আজ আমরা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠতে পারছি না। পাকিস্তানিরা মুসলমান আমরাও মুসলমান, তাই তাদের জয়ে আমাদের কেউ কেউ উল্লসিত হয়- একাত্তরের রক্তস্মৃতি ভুলে গিয়ে। এটাকে যারা ছোট বিষয় মনে করেন তারা আসলে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্য ভুলিয়ে দিতে চান। মানুষকে তার শিকড় থেকে উপড়ে ফেলতে পারলে পরাজিত করা সহজ হয়। আমরা কি সে পথেই হাঁটছি না?
ভোরের কাগজের প্রথম পৃষ্ঠায় ঝর্ণা মনির প্রতিবেদনটি প্রাসঙ্গিক মনে করে উদ্ধৃত করছি :
‘গায়ে পাকিস্তানি জার্সি। হাতে চাঁদ-তারা মার্কা পাকিস্তানি পতাকা। যে পতাকার রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে একাত্তরে গর্জে উঠেছিল তিরিশ লাখ বাঙালির রক্তে কেনা লাল-সবুজের পতাকা। বিজয়ের পঞ্চাশ বছরে দাঁড়িয়ে কিছু কুলাঙ্গার সন্তান একাত্তরের মতোই ফের অসম্মান করেছে বাংলা মাকে। একাত্তরে যেমন পাকিস্তানি বাহিনীর বিশেষ সহযোগী রাজাকার-আলবদর-আলশামস হিসেবে ঘরের শত্রæ বিভীষণ ছিল; তেমনি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতেও পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়ে, পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের চার-ছক্কায় উল্লাস করে ফের একাত্তরের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহিতামূলক অপরাধ করেছে রাজাকার-সন্তানরা। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকদের মতে, এটি নিছকই পতাকাবিধি লঙ্ঘন নয়। এটি পঞ্চাশ বছরের গভীর ষড়যন্ত্র। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড, জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতার বহিঃপ্রকাশ। এদের দ্রুত চিহ্নিত করে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে বিচারের দাবি জানিয়েছেন কেউ কেউ। এক্ষেত্রে আইন, স্বরাষ্ট্র ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে যৌথ উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ তাদের। বিষয়টি দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও মিরপুরের গ্যালারিতে পাকিস্তানি দর্শকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি দর্শকদের হাতে পাকিস্তানের পতাকা দেখা গেছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের আউট করলে বা পাকিস্তানের কোনো ক্রিকেটার চার-ছক্কা মারলে দর্শকদের উল্লাস দেখে বোঝার উপায় ছিল না এটা বাংলাদেশের মাঠ নাকি অন্য কোনো দেশের! এরপরই প্রশ্ন উঠেছে ঢাকার মাঠে পাকিস্তানি পতাকা হাতে ওরা কারা? দেশের খেলায় পাকিস্তানিদের সমর্থন দিয়ে পতাকা উড়ানো নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। গত রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জার্সি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিষয়টি দেখে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। মন্ত্রী বলেন, আমরা আবশ্যই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব। এটা দুর্ভাগ্যজনক, যদি কেউ করে থাকে। একটা টিমকে যে কেউ সাপোর্ট করতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে খেলার দিন অন্য টিমকে সাপোর্ট করা, একটা দেশপ্রেমিক নাগরিকের জন্য শোভনীয় নয়। নিঃসন্দেহে কারো কাছেই এটি শোভনীয় মনে হবে না। কবি আবদুল হাকিমের ‘বঙ্গবাণী’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রী বলেন, ‘যে সবে বঙ্গেত জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী, সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি’। কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে, এ নিয়ে কোনো আইন রয়েছে কি-না- জানতে চাইলে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক ভোরের কাগজকে বলেন, রক্তে কেনা স্বাধীন দেশের নাগরিক নিজ দেশের খেলায় একাত্তরের পরাজিত শক্তির পতাকা বহন করে উল্লাস করবে, এটি কখনো ভাবা যায়! অকল্পনীয়। এটি বিবেকের প্রশ্ন। আমরা এখন বিষয়টি নিয়ে ভাবব। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বসে করণীয় ঠিক করব এবং ব্যবস্থা নেব।’
করণীয় ঠিক করে ব্যবস্থা নিতে বেশি দেরি করলে বিপদও বাড়বে- এটা মনে রাখতে হবে সরকারের নীতিনির্ধারকদের। শত্রæর সঙ্গে গলাগলি করা আর মিত্র চিনতে ভুল করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
বিভুরঞ্জন সরকার : জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়