চার উইকেট হারিয়ে চাপে টাইগাররা

আগের সংবাদ

চট্টগ্রামে টেস্ট সিরিজের মাঠের পাশে কারখানায় আগুন

পরের সংবাদ

ওসমানী বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবে ভারতীয়রাও

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ১২:০৭ অপরাহ্ণ

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে এখান থেকে বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট যাবে। তখন ভারতের লোকজনও এই বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাংসদ ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) সকালে ওসমানী বিমানবন্দরের নির্মাণাধীন কার্গো টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

সাংবাদিকরা সিলেটের সীমান্তবর্তী ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপনের পরিকল্পনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করেন। যাতে ভারতের নাগরিকরা এ চেকপোস্ট সহজেই সিলেটের সীমান্তবর্তী সাদাপাথরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াত করতে পারেন।

এ প্রসঙ্গে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, (ভোলাগঞ্জে ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট স্থাপনের বিষয়ে) আমি ঠিক জানি না। আমরা এই (ওসমানী) বিমানবন্দর অনেক বড় করছি। উদ্দেশ্য যে শুধু সিলেটের লোকজন বিদেশে যাবেন, সেটা নয়। (ভারতের) সেভেন সিস্টার্সের লোকেরা, করিমগঞ্জ, শিলংয়ের লোকেরা এখানে এসে এটা ব্যবহার করতে পারবেন। এখানে আটটা বোর্ডিং ব্রিজ হবে। তখন এখান থেকে সরাসরি ফ্লাইট যাবে। এখন শুধুমাত্র লন্ডন ও ম্যানচেস্টারে সরাসরি ফ্লাইট যায়; যা কোভিডের কারণে বন্ধ ছিল, এখন আবার শুরু হবে। (কাজ শেষ হলে) এখান থেকে বিভিন্ন দেশে সরাসরি ফ্লাইট যাবে। তখন আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্রের লোকেরা এখানে এসে বিদেশে যাবেন।

কার্গো টার্মিনাল ঘুরে দেখার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কার্গো টার্মিনালের কাজ মোটামুটি শেষের দিকে, মূল মেশিনটা বসে গেছে। এটা (মেশিন) ডিটেকশন (শনাক্ত) করবে যে কার্গোতে কী মালামাল আছে। এটার সবচেয়ে সুবিধা হলো, এক সঙ্গে অনেক কার্গো দিতে পারবেন। কিন্তু কার্গোতে কী আছে, তা প্রত্যেকটা আপনি ডিটেকশন করতে পারবেন। আমাদের দেশে এ ধরনের অনেকগুলো কার্গো কেনা হয়েছে। আরো ছয়টি ঢাকার জন্য কেনা হয়েছে। শুধুমাত্র আমাদের সিলেটেরটা ইনস্টল (বসানো) হয়েছে। সুতরাং এটা একটা ভালো খবর।

ড. মোমেন বলেন, বর্তমানে সিলেট থেকে যারা কার্গো পাঠান, তারা প্রথমে ঢাকায় নেন। সেখানে নিয়ে (মেশিনে চেক করে) তারপর কার্গো বিদেশে পাঠান। এতে অনেক খরচ বাড়ে। এখান (সিলেট) থেকে কার্গো বিদেশে গেলে পাঠানোর খরচ (শিপমেন্ট খরচ) কমে আসবে।

মন্ত্রী বলেন, আমাদের যথেষ্ট সম্পদ আছে। বিভিন্ন রকমের শাকসবজি আছে। এই সিলেটে আনারসসহ অনেক কিছুই হয়, যার বিদেশে মার্কেট ভালো। এজন্য আগামীতে আমরা এদিকে বেশ নজর দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, কিছু কার্গো ফ্রেইট (মালামাল বহনকারী বিমান) কিনবেন। আমাদের কার্গো ফ্লাইট নেই। আমরা এখন সাধারণ বিমানের মাধ্যমে পাঠাই। আগামীতে যদি কার্গো ফ্লাইট হয়, তাহলে আমরা অনেক বেশি মালামাল বিদেশে পাঠাতে পারবো। সেজন্য নতুন কার্গো ফ্রেইট কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ওসমানী বিমানবন্দর থেকে কার্গো পাঠাতে নিরাপত্তার দিকে যেন নজর রাখা হয়, সে বিষয়ে সতর্ক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ বিমানবন্দরের কার্গো টার্মিনালে ১০০ টনের বেশি মালামাল রাখা যাবে বলেও জানান তিনি।

এ সময় সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ, সিসিক কাউন্সিলর ও মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আজাদুর রহমান আজাদ, জেলা পরিষদ সদস্য ও জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমদ, মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে বিমানযোগে ঢাকা থেকে সিলেটে এসে পৌঁছান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়