৩৮৮ বিচারকের দপ্তর বদল, পদোন্নতি ৬৫ জনের

আগের সংবাদ

আ.লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা আজ

পরের সংবাদ

এক কমিটিতেই ১১ বছর!

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ৯:১০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৬, ২০২১ , ৯:১০ পূর্বাহ্ণ
  • ষড়যন্ত্র ঠেকাতে প্রয়োজন গতিশীল নেতৃত্ব: যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ

এক কমিটিতেই প্রায় এক যুগ। ২০১১ সালের ২৯ জানুয়ারি লন্ডনের হিল্টন হোটেলে সবশেষ সম্মেলন হয় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের। এরপর পেরিয়ে গেছে ১১ বছর। ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরিফ গত দু’বছর থেকে অসুস্থ। বৈশ্বিক করোনায় পাঁচজন সহ-সভাপতিসহ অনেক নেতাকর্মী মারা গেছেন। ফলে নেতৃত্বে কিছুটা গতিহীনতা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি লন্ডন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানসহ বিএনপি-জামায়াতের অসংখ্য নেতাকর্মী লন্ডন থেকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। বিএনপি-জামায়াত ঠেকাতে গতিশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন বলে মনে করছেন তরুণ নেতারা। এজন্য আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তারা। নেতাকর্মীরা বলছেন, দলীয়প্রধান চাইলে যে কোনো সময় সম্মেলন হতে পারে। সেজন্য প্রস্তুত রয়েছেন তারা।

দেশের বাইরে আওয়ামী লীগের বৃহৎ সংগঠন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া। যুক্তরাজ্যে আওয়ামী লীগের শাখা কমিটি গঠনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল দুটি। প্রথমত, স্বাধীনতা সংগ্রামের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠন। দ্বিতীয়ত, পূর্ব বাংলার স্বায়ত্তশাসন দাবি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছয় দফা আন্দোলন থেকেই মূলত. যুক্তরাজ্য প্রবাসীদের সম্পর্ক। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে এই সম্পর্ক আরো গভীর হয়। ঊনসত্তরের অক্টোবরে বিলেত সফরে এসে বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তিসনদ ছয় দফার সমর্থক ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময় গঠিত শেখ মুজিব ডিফেন্স ফান্ডের সদস্য ও অন্যান্য কমিউনিটি নেতাদের যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করতে বলেন। আদমজীতে দাঙ্গার খবরে তিনি যদি সফর সংক্ষিপ্ত করে ফিরে না যেতেন তাহলে হয়তো নিজ হাতেই যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটি গঠন করে যেতে পারতেন। ১৯৭০ সালে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু। সত্তরের নির্বাচনে নৌকার বিশাল বিজয় ও তৎপরবর্তী অসহযোগ আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনে অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে। পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর সর্বপ্রথম লন্ডনেই যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি গৌস খানের নেতৃত্বে প্রতিবাদ ও বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে উদ্যোগ নেয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনার পরামর্শে শেখ রেহানা উদ্যোগী হয়ে স্যার টমাস উইলিয়াম কিউসিকে চেয়ারম্যান করে গঠন করেন সর্ব ইউরোপ বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও বঙ্গবন্ধু হত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিটি। বর্তমানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ৬২টি শাখা রয়েছে।

লক্ষ্য ব্রিটিশ নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করা: রেওয়াজ আছে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নিজে উপস্থিত থেকে সম্মেলনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করেন। মহামারি করোনার মধ্য গত দুই বছর নেতাকর্মীরা অপেক্ষায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কখন যুক্তরাজ্য আসবেন। সম্প্রতি শেখ হাসিনার যুক্তরাজ্য সফরে কমিটি নিয়ে আগ্রহী ছিলেন নেতাকর্মীরা। বর্তমানে তাদের দাবি, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী করতে দীর্ঘদিন থেকে বঞ্চিত, দলের জন্য নিবেদিত মাঠের কর্মীদের মাধ্যমে নতুন কমিটি করা হোক। তবে কমিটি নিয়ে দলীয়প্রধানের ইচ্ছাকেই গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ একটু ভিন্নভাবে কাজ করছে মন্তব্য করে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুক ভোরের কাগজকে বলেন, সুযোগ্য নেতৃত্ব তৈরিই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা বরাবরই ব্রিটিশ নেতৃত্বের সঙ্গে কাজ করতে চেয়েছি। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৬০০ বছরের ইতিহাসে গত ২০১৭ সালে প্রথম বারের মতো বৃটিশ পার্লামেন্টে সব দলের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে ২০১৮ ও ২০১৯ সালেও হয়েছে। ব্রিটিশ মন্ত্রী, স্যাডোমন্ত্রীরা জয় বাংলা স্লোগান দিয়েছেন। এটি আমাদের গর্বিত অর্জন। ব্রিটিশ ১০০ এমপি নিয়ে মুজিব শতবর্ষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোভিডের কারণে তা বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, দেশের সব প্রগতিশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত। ওয়ান ইলেভেন, বিএনপি-জামায়াতের জ¦ালাও-পোড়াও আন্দোলনের প্রতিবাদে আমরা রাজপথে সরব ছিলাম। কমিটির বিষয়টি সম্পূর্ণ নেত্রীর ওপর নির্ভর করছে। তিনি যখন চাইবেন, তখনই কমিটি হবে।

ষড়যন্ত্র ঠেকাতে প্রয়োজন গতিশীল নেতৃত্ব: দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় প্রতিযোগিতা বাড়ছে। উদীয়মান নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মেজবাউর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ১/১১ তে ফখরুদ্দীন-মঈনউদ্দীনের বিরুদ্ধে ভূমিকা ছিল। ১১ বছর আগে সম্মেলন হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতা থাকবে। সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ অসুস্থ। বয়স হয়ে গেছে। এ ছাড়া এখানে বিএনপি-জামায়াত অত্যন্ত শক্তিশালী। তারা টাকা-পয়সা খরচ করে অস্থিরতার জন্য লবিং করে। ষড়যন্ত্রকারীরা থেমে নেই। এজন্য গতিশীল নেতৃত্ব প্রয়োজন।

লন্ডন কেন্দ্রিক বিএনপি-জামায়াতের আস্তানায় সরকারবিরোধী অব্যাহত অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ কতটুকু ভূমিকা রাখছে এমন প্রশ্ন উঠেছে? জানতে চাইলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী লেখক ও কলামিস্ট সুজাত মনসুর ভোরের কাগজকে বলেন, ডিজিটাল আইন হওয়ায় সবচেয়ে অসুবিধায় পড়েছে বিএনপি-জামায়াতের অনলাইন একটিভিস্টরা। তারা দেশে অবস্থান করে অপপ্রচার না করতে পেরে আশ্রয় নিয়েছে লন্ডনসহ ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডায়। সুতরাং আইনিভাবে এদের তৎপরতা বন্ধ করা কঠিন। এদের মোকাবিলা করতে হবে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে। আর সেই মূল দায়িত্ব পালন করতে পারে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য দেশে ক্রিয়াশীল আওয়ামী লীগের শাখা কমিটিগুলোকে। কিন্তু সেই দায়িত্ব কি তারা পালন করছে? যুক্তরাজ্যের কথাই যদি বলি তাহলে বলতে হয় কর্মীদের অনেকেই নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলেও সাংগঠনিকভাবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের দৃশ্যমান কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি; কেবল হেফাজতের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে কতিপয় ভার্চুয়াল সভা করা ছাড়া।

তারেকের সাজা কার্যকর চায় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ: একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে দণ্ড কার্যকরের দাবি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের। সংগঠনের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ বলেন, হত্যাকারীর দোসররা আজো বাংলার ষড়যন্ত্র করছে দেশ-বিদেশে বসে। এদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দন্ড কার্যকর করা হোক। লন্ডন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক ভোরের কাগজকে বলেন, লন্ডন আওয়ামী লীগ খুবই সংগঠিত। ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে একই ছাতার নিচে থেকে নেত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা কাজ করছি। দলে কোনো কোন্দল নেই। আমাদের দাবি, তারেক রহমান ফেরারি আসামি। তাকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে সাজা কার্যকর করা হোক। দেশের সম্পদ চুরি করেছে। গ্রেনেড হামলার আসামি। প্রত্যাশা, বাংলাদেশ সরকার পদক্ষেপ নেবে। তারেক, শহীদউদ্দিন খান, ডালিমসহ সব খুনিদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর আবেদন জানাচ্ছি। বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ব্যারিস্টার এনামুল হক বলেন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে দণ্ড কার্যকর করা হোক।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়