সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি রাঙ্গা, মহাসচিব এনায়েত উল্যাহ

আগের সংবাদ

বয়সে সর্বোচ্চ ২১ মাস ছাড় পাচ্ছেন ব্যাংকের চাকরিপ্রার্থীরা

পরের সংবাদ

সংসদে বক্তারা

বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপামর বাঙালির আশ্রয়স্থল

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২১ , ৯:৩১ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১ , ৯:৫১ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দেয়া সংসদে স্মারক বক্তৃতা সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হয়েছে। বৃহষ্পতিবার স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্বে কণ্ঠ ভোটে ১৪৭ বিধিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উত্থাপিত প্রস্তাবটি দুদিনের আলোচনা শেষে সংসদে সর্বসম্মক্রমে গ্রহণ করা হয়। এ প্রস্তাবের ওপর প্রধানমন্ত্রীসহ ৫৯ জন এমপি ১০ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট আলোচনা করেন। বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু না জম্মালে এদেশ স্বাধীন হতো না। তিনি ছিলেন, সমগ্র বাঙালী জাতির আশ্রয়স্থল।

বৃহষ্পতিবার প্রস্তাবটির ওপর আলোচনায় সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের বর্ষিয়ান নেতা আমীর হোসেন আমু বলেন, বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান সৃষ্টি হবার জম্ম থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন, এটা আমাদের বাঙালি জাতির জন্য হয়নি। তাই তিনি ধাপে ধাপে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বাঙালিদের জন্য অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। সেই থেকে তার যাত্রা শুরু। আমু বলেন, আমরা ছাত্ররা বঙ্গবন্ধুর শেখানো লাহোর প্রস্তাব বাস্তবায়নের দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করেছিলাম। তার দেয়া ৬ দফা ছিল বাঙালির সনদ হিসেবে পরিগণিত।

এই ৬ দফার মাধ্যমে দেশের আপামর জনগণ উজ্জীবিত হয় এবং একমাত্র দাবি হিসেবি পরিগণিত হয়েছিল। তিনি ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র কায়েমের দাবি জানিয়েছিলেন। তিনি তার দেয়া ৭ই মার্চের ভাষণের উল্লেখ করে বলেন, এটা ছিল স্বাধীনতার ডাক, একটি গেরিলা যুদ্ধের রুপরেখা। বঙ্গবন্ধুই ছিলেন এদেশের বাঙালির একমাত্র আশ্রয়স্থল। কিন্তু এদেশের স্বাধীনতা বিরোধীরা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দেয়। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, তিনি মাদার অব হিউম্যানিটিসহ ২৭টি পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের উপনেতা জি এম কাদের বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে বলেন, তিনি স্বাধীনতার প্রশ্নে এক বিন্দু আপস করেন নি। তিনি বলেছিলেন, এদেশ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হবে। তবে এখনো দেশে দুর্নীতি চলছে, এটাকে বন্ধ করতে না পারলে আমরা কাক্ষিত অবস্থানে যেতে পারবো না।

সংসদে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে রাষ্ট্রপতির দেয়া ভাষণের বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জোর দিয়ে বলেছেন, দেশের সব রাজনৈতিক দলকে দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। দেশ থেকে প্রতি হিংসার রাজনীতি দূর করতে হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে অবাধ ও সুষ্ঠ করার দাবি জানান। তিনি দেশের গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবার আহ্বান জানান। সুশাসন নিশ্চিত করা এবং অবিচার অনাচার, সামজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দুর করার দাবি জানান তিনি। জিএম কাদের জাপার সাবেক প্রেসিডেন্ট হুসেইন মোহম্মদ এরশাদের আমলের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। বিচার বিভাগকে আরো স্বাধীনতা দেবার আহ্বান জানিয়ে সংবিধানে যেসব বিষয় সাংঘর্ষিক আছে তা সংশোধনের দাবি করেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম তার ভাষণে বলেছেন, বিএনপির সুশাসন মানে বঙ্গবন্ধুর আইনের শাসনকে, গণতন্ত্রকে অন্ধকারের আস্থাকুড়ে নিক্ষেপ করে সেনা শাসন-অগণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করা। গণতন্ত্র হরণ, আলবদর, রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দেয়া। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি আইনের মাধ্যমে বিদেশে রাষ্ট্রদূত করে পুরষ্কৃত করা। জিয়ার আমলে বিনা বিচারে ক্যান্টনমেন্টে প্রতি রাতে শত শত নিরাপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মুখে এখন গণতন্ত্রের কথা মানায় না।

আইনমন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়া সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়েও বাসায় থেকে তিনি বার হাসপাতালে গিয়েছেন। বিএপির হারুনুর রশীদ প্রধানমন্ত্রীকে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। কেন এদেশে কি চিকিৎসা হয় না? আমরা বিদেশ থেকে ডাক্তার এনে চিকিৎসার কথা বলেছি। তারা একই কথা বলেই চলেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন, জেল হত্যা, চার নেতা হত্যার বিচার করেছেন। ইনডেমনিটি আইন বাতিল করেছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। প্রচণ্ড রিস্ক নিয়ে উনি গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ফিরিয়ে আনেন। আমি মনে করি, তার সুযোগ্য নেতৃত্বে তিনি ভবিষ্যৎ প্রজম্মকে এমন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়ে যাবেন যা হবে একটা সুন্দর ও ধনী দেশ, এই আমার প্রত্যাশা।

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা এ দেশে এসেছিলেন আলোক বর্তিকা হিসেবে। তিনি এখনো আছেন এদেশের আপামর জনগণের সঙ্গে। এই করোনার সময় যখন সবাই ভেবেছিলেন সব কিছু স্তব্ধ হয়ে যাবে সব কিছু শেষ হয়ে যাবে, তখন প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের হাতে মোবাইলে টাকা পাঠিয়েছেন। তিনি অত্যন্ত সুদক্ষভাবে এ ক্রান্তিকালকে কাটাতে সফল হয়েছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির এদেশের কোন কিছু পছন্দ হয় না, দেশের অর্থ লুট করে তাদের বিদেশ যেতে হবে এটাই তাদের ইচ্ছে। ২১ এ গ্রেনেড হামলায় আহত (নিহত) আইভি রহমানকে দেখতে বিএনপি সরকার তার ছেলে-মেয়েদেরকেও দেখতে দেয়নি। অথচ খালেদা জিয়াকে জেলে না রেখে বাসায় থেকে তার কুলঙ্গার ছেলের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন, চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী।

চীফ হুইপ নূর ই আলম চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশের পদ্মা সেতু, পায়রা বন্দর, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানাবিধ উন্নয়নের কথা বলেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে প্রধানমন্ত্রী অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে। দেশ অচিরেই উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে।

এছাড়া স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে ১৪৭ ধারার রাষ্ট্রপতির দেয়া এই ভাষণের ওপর আরো বক্তব্য দেন, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাবেক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মুস্তাফিজুর রহমান, সাবেক চীফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, ডা. প্রাণ গোপাল দত্তসহ ৫৯ জন এমপি। পরে সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীনতা সুবর্ণ জয়ন্তীতে দেয়া রাষ্ট্রপতির ভাষণটি গৃহিত হয়।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়