বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে

আগের সংবাদ

নটরডেমের শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়া গাড়ি চালাচ্ছিলেন সুইপার

পরের সংবাদ

ইউপি নির্বাচন সমাজের প্রেক্ষাপট

জাফরুল ইসলাম

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৫, ২০২১ , ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৫, ২০২১ , ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ

বাংলাদেশ তার জন্মের ৫০ বছর অতিক্রম করছে। ১৯৭১-২০২১ সাল কত দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি। বাংলাদেশে এই দীর্ঘ সময়ে অর্জন নেহাত কম নয়। আজকে না হয় অর্জনগুলো নিয়ে আলোচনা না করে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করা যাক। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গণতান্ত্রিক দেশ। ১৯৭০ সালের নির্বাচন জয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালিরা দেখিয়ে দিয়েছিল তারা কতটা গণতন্ত্রের পূজারি। সেদিন আওয়ামী লীগ ১৬৭ আসনে জয়লাভ করে, গণতান্ত্রিক দল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিল। যখন কিনা আমরা পশ্চিম পাকিস্তানের অংশ ছিলাম। আর শাসক ছিল সেই সেনাশাসক ইয়াহিয়া। যে বাঙালিদের শোষণ-নির্যাতনের স্টিম রোলার চালিয়েছেন। এরপর দীর্ঘ নয় মাস যুদ্ধের পর বিজয় লাভ করলাম আমরা। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু দেশে ফিরে আসলেন। এসেই তিনি সংবিধান প্রণয়ন করলেন। তারপর ১৯৭৩ সালে নির্বাচন কার্যকর করলেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর সরকার গঠন করে শাসনকার্য পরিচালনা করলেন। বঙ্গবন্ধু কিন্তু চাইলেই সে সময় নির্বাচন কার্যকর না করে শাসন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি, কারণ তিনি ছিলেন একজন গণতন্ত্রের পূজারি। দীর্ঘদিন পর আজ আমরা সভ্য সমাজে বসবাস করছি। সৌভাগ্যক্রমে আজ আমাদের শাসন ক্ষমতায় সেই গণতন্ত্রের পূজারি বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় যেহেতু গণতান্ত্রিক দল সেহেতু দেশে গণতন্ত্র চর্চা হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজ দেশে নির্বাচন ব্যবস্থার দিকে নজর দিলে মনে হয় গণতন্ত্র নামক বস্তুটা নামসর্বস্ব। মাকাল ফলের মতো দেখতে সুন্দর কিন্তু ভেতরে অপদার্থ দিয়ে ভরপুর। তাহলে চলুন কথাটা বিশ্লেষণ করা যাক। আমরা জানি দেশে এখন নির্বাচন চলছে, স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচন- যাকে বলা হয় ইউপি নির্বাচন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাধারণ জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের মাধ্যমে নিজের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন যিনি। কিন্তু সেখানেও বিপত্তি দেখা দিয়েছে, কারণ এসব নির্বাচনে প্রতীক দেয়া হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের প্রতীক। যা দেয়ার কারণে সমাজের মধ্যে দুটি দলে ভাগ হয়ে যায়। একদল থাকে সরকারি দল, অপরটি বিরোধী দল। দুই দলের মধ্যকার সম্পর্ক আবার অহিনকুল। একজন অপরের শত্রæতে পরিণত হয়। দেখা যায় একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভাজন, ফলে দাঙ্গা-হাঙ্গামা শুরু হয়, যা একসময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। যেখানে অনেক সময় হত্যার মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। আবার এমনও দেখা যায়, যে সরকারি প্রতীক পায় সাধারণ জনগণ ধরেই নেয় সে নির্বাচনে জয়ী হবে। কারণ সে তার দলের ক্ষমতাকে ব্যবহার করবে। তার নেতৃত্বে কিছু বাহিনী তৈরি হয়, যারা সাধারণ মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায় করে নেয়। একজন মানুষের যে ভোট দেয়ার অধিকার ছিল সেখান থেকেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়। শুধু কি তাই, নির্বাচন উপলক্ষে রাস্তা ব্লক করে দিয়ে মোটরসাইকেল দিয়ে শোডাউন এবং শোডাউন ব্যবহার করা হয় বাঁশি, বিভিন্ন রকম শব্দের কারণে সমস্যায় পতিত হয় সমাজের সাধারণ মানুষ জন। আবার কেউ যে কিছু বলবে তারও কোনো জো নেই। কারণ বললেই শুরু হবে তার ওপর নির্যাতন। কয়েক বছর আগেও যখন নির্বাচন হতো, তখন আমরা দেখতাম সমাজের শিক্ষিত এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের প্রার্থী হিসেবে। আর তাদের প্রতীকগুলো ছিল সাধারণ, যেমন ছাতা, গরুর গাড়ি, আনারস, আর সাধারণ মানুষ এসব প্রতীকে ভোট প্রদান করে তার অধিকার আদায় করে নিত। পত্রিকা খুললেই দেখা যায় দাঙ্গা-হাঙ্গামার মতো ভয়ংকর ঘটনার চিত্র। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় হত্যার মতো ঘটনা। আজ নির্বাচনে প্রার্থীদের দিকে তাকালে দেখা যায় তার শিক্ষিত ও সম্মানিত কোনোটাই তাদের মধ্য নেই। তবে দুটো জিনিস তাদের মধ্যে আছে, এক টাকা-পয়সা, দুই দলের ক্ষমতা। আজ বহু আক্ষেপ করে বলতে ইচ্ছা করছে এই গণতন্ত্রে স্বপ্ন দেখেছিল বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযোদ্ধারা কি এই গণতন্ত্রের কারণে নিজের জীবন দিয়ে লড়েছিল ৯ মাস। মা-বোনেরা তাদের মূল্যবান সম্পদ নিজেদের লজ্জা বিলিয়ে দিয়েছিল এই গণতন্ত্রের কারণে। বাঙালি জাতি আজ লজ্জা-শরমের চরম সীমানায় পৌঁছে গেছে। যখন দাঙ্গা-হাঙ্গামার ঘটনা প্রকাশ হয় তখন আর দেশের মান রক্ষিত হয় না। আজ আক্ষেপ করে বলতে চাই। দয়া করে আপনি যখন আপনার দল থেকে কাউকে মনোনয়ন দেবেন তখন গোপন গোয়েন্দা রিপোর্টের মাধ্যমে দেবেন। তার জীবনবৃত্তান্ত ভালো করে যাচাই করে যেন মনোনয়ন দেয় হয়। তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করবেন। কোনো খুনি চোর ডাকাতকে যেন ভোট দিতে না হয় তার ব্যবস্থা করবেন। আর সে যতই দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত হোক না কেন, সে যেন কোনো রকম সুযোগ-সুবিধা না পেতে পারে তার ব্যবস্থা করবেন। আর আমাদের আদর্শ জাতির জনকের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ার কারিগর যেন কলঙ্কমুক্ত হয় এমনটা আশা করি। আর মাঠ পর্যায়ে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে আমাদের স্থানীয় নির্বাচন পরিচালিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করি।
জাফরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়