'ও ধর্ষক, আমার শৈশব নষ্ট করেছে', ম্যারাডোনার বিরুদ্ধে অভিযোগ

আগের সংবাদ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতন সমন্বয় হবে না এখন?

পরের সংবাদ

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ

প্রকাশিত: নভেম্বর ২৪, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২৪, ২০২১ , ১:১৪ পূর্বাহ্ণ

‘খেলার সঙ্গে কোনো কিছু মেলানো যায় না এটা ঠিক, কিন্তু খেলাটা যখন আমাদের দেশে আর সেখানে অন্য যে দেশই খেলুক না কেন, তাদের পতাকা তাদের দেশের মানুষ ছাড়া আমাদের দেশের মানুষ উড়াবে, এটা দেখে সত্যি কষ্ট লাগে। যে যাই বলুক, ভাই দেশটা কিন্তু আপনার। আজ হয়নি তো কাল হবে, না হলে পরশু হবে। আপনারা পাশে না থাকলে আর হবেই না। হারি বা জিতি স্টেডিয়ামে আমাদের দেশের পতাকা উড়–ক চিৎকার হোক বাংলাদেশ।’
উপরোক্ত কথাগুলো আমাদের গর্বের সাবেক টাইগার ক্রিকেট টিম অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার। হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে মাশরাফির। সঙ্গে কোটি কোটি বাংলাদেশিরও। পাকিস্তান-বাংলাদেশ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মিরপুরের গ্যালারিতে পাকিস্তানের সাফল্যে পাকিস্তানিদের পাশাপাশি কিছু অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশির পাকিস্তানি পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করতে দেখে গত শুক্রবার তার ফেসবুক আইডিতে উক্ত পোস্টটি দিয়েছেন সফল অধিনায়ক ম্যাশ।
এরপরও গত শনিবারে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছে পাকিস্তানি পতাকা হাতে ওই বাংলাদেশি নামধারী অকৃতজ্ঞরা। ওদের কাণ্ডজ্ঞানহীন উল্লাস দেখে ভাবতেই পারছি না যে, একজন বাংলাদেশি হয়ে কীভাবে উলঙ্গভাবে নিজের জাত্যাভিমান ভুলে নিজের দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজের দেশের মাঠে দাঁড়িয়ে অন্য দেশের পতাকা হাতে নিয়ে সে দেশকে সমর্থন দিতে পারে!
ক্রিকেটপাগল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। সে হিসেবে ঢাকায় কোনো সিরিজ মানেই দর্শকে পরিপূর্ণ গ্যালারি। এজন্য বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে গর্ব করতেই পারি। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় হলো- প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি দুটি ম্যাচেই দেখা গেল, কোনো পাকিস্তানি বোলার কোনো বাংলাদেশি উইকেট নিলে বা কোনো পাকিস্তানি ব্যাটার ছক্কা হাঁকালে পাকিস্তানিদের সঙ্গে কিছু বাংলাদেশিও চাঁদ তারা পাকিস্তানি পতাকা হাতে উল্লাস করেছে। দেখে সত্যিই বুকের ব্যথা বেড়ে হার্টফেল হওয়ার জোগাড়। হয়তো অনেকেরই এমন অবস্থা হয়েছে। এতে বোঝা যায় যে, আমাদের সমাজ ব্যবস্থা বর্তমানে কোন পর্যায়ে চলে গেছে বা কত দৈন্যতা পেয়ে বসেছে এ সমাজকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, এ তরুণেরাই খেলা শেষে বের হওয়ার সময় পাকিস্তানি পতাকা হাতে বলেছে, আমরা বাংলাদেশি হলেও পাকিস্তানকে সমর্থন করি। প্রশ্ন জাগে, এটা কি ওদের পারিবারিক শিক্ষা নাকি কোনো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা বা অন্য কোনো দেশবিরোধী সংগঠন আমাদের তরুণ সমাজের মাথা ধোলাই করছে? একজন বাংলাদেশি হিসেবে এমন মনমানসিকতা হয় কী করে! দেশপ্রেম বলে কি কিছুই নেই এদের!
কে বোঝাবেন এসব তরুণকে, পাকিস্তানিরা কোনোদিন আমাদের আপন হয় না? তা পাকিস্তানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের করুণ অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়, যারা ৭১-এ পাকিস্তানকে ভালোবেসে পাকিস্তানে রয়ে গিয়েছিলেন। বাংলাদেশে আটকে পড়া পাকিস্তানিরা যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন তেমন সুযোগ করাচিতে বসবাসরত বাংলাদেশিরা পাচ্ছেন না।
যারা আজ মিরপুরের গ্যালারিতে পাকিস্তানি চাঁদ তারা পতাকা হাতে নিয়ে নিজের দেশের বিরুদ্ধে গিয়ে পাকিস্তানিদের সাফল্যে উল্লাস করছে তাদের এসব বাস্তব অবস্থাগুলো সম্পর্কে ধারণা দেয়া উচিত। তাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া উচিত, পাকিস্তানিরা আমাদের কোন চোখে দেখে। প্র্যাকটিসের সময় পাকিস্তানি খেলোয়াড়েরা পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এরা বাংলাদেশকে এখনো মেনে নিতে পারেনি। দেশপ্রেমিক জনগণ মনে করেন, এরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ ও দেশের জনগণকে অপমান করেছে। এতে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলেও ক্রীড়ামন্ত্রীসহ বিসিবি কর্তৃপক্ষের নীরবতা মেনে নিতে পারছেন না দেশের জনগণ। বর্তমান প্রশাসনের প্রশ্রয়ে দেশবিরোধী গোষ্ঠী এতটাই মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে যে, খেলার মাঠেও লজ্জা-শরম ত্যাগ করে এরা ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে কুণ্ঠাবোধ করছে না। অথচ পাকিস্তানে যদি এমন ঘটনা ঘটত বা কোনো পাকিস্তানি লাহোরের মাঠে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে অথবা পতাকা ছাড়া বাংলাদেশের সাফল্যে উল্লাস করত, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে হয়তো সে লোকটির ধর থেকে মাথাটাই আলাদা হয়ে যেত। তাই দেশের একজন নগণ্য নাগরিক হিসেবে দাবি করছি, যেসব অকৃতজ্ঞ বাংলাদেশি পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সাফল্যে চাঁদতারা পতাকা নিয়ে উল্লাস করেছে, তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।
গোপাল নাথ বাবুল
দোহাজারী, চট্টগ্রাম।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়