আরও তিন মাস ৮ ঘণ্টা করে বন্ধ শাহজালালে ফ্লাইট

আগের সংবাদ

ভোটকেন্দ্রে লুট করতে আসলে পুলিশ বসে থাকবে না: ইসি রফিকুল

পরের সংবাদ

রঘুনাথের পদচিহ্নই অনিতার সম্বল

প্রকাশিত: নভেম্বর ২২, ২০২১ , ১০:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২২, ২০২১ , ১০:৪৫ অপরাহ্ণ

দেশের অন্যতম বিশিষ্ট পটশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তীর অনন্তলোকে যাত্রার ছয় বছর পূর্ণ হয়েছে গতকাল সোমবার। বিগত ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর মাত্র ৪৬ বছর বয়সে অমূল্য কিছু পটচিত্র রেখে স্বর্গলোকে প্রবেশ করেন নিঃসন্তান এই শিল্পী। তার আঁকা ছবি, রং-তুলি আর যাপিত জীবনের স্মৃতিটুকুকে সম্বল করে রাজধানীর এক কোণায় এখনো বেঁচে আছেন তার স্ত্রী নমিতা চক্রবর্তী।

২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর শিল্পীকে যখন শেষবারের মত চারুকলা প্রাঙ্গণে আনা হয়েছিল, তখনো কুয়াশার চাদরে ঢাকেনি ঢাকা শহর। শীতের আমেজে জবুথবু হয়নি শহরের মানুষ। অগ্রহায়ণের স্নিগ্ধতা ছড়িয়ে ছিল চারুকলার আঙ্গিনা জুড়ে। তবুও নবান্নের উৎসবকে বরণ করে নিতে প্রস্তুত বকুলতলা শোকে যেন মুষড়ে পড়েছিল। সবার চোখে জল।

পটশিল্পী রঘুদা আর কখনো আসবেন না চারুকলায়। অথচ তিনি চারুকলার ছাত্র বা শিক্ষক নন। ছবি আঁকায় নেই তার কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। মায়ের সঙ্গে আল্পনা আঁকা থেকেই তার তার শিল্পী জীবনের হাতেখড়ি। তার শেষযাত্রায় সঙ্গী হলেন সবাই। শ্রদ্ধা জানালেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। ছাত্র শিক্ষক সবার ভালোবাসায় সিক্ত হলেন বাংলার অন্যতম বিশিষ্ট পটশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তী।

১৯৬৯ সালের ১ নভেম্বর গাইবান্ধার শনিমন্দির রোডে জন্ম গ্রহণ করেন রঘুনাথ চক্রবর্তী। বাবা বাসুদেব চক্রবর্তী ও মা অচলী চক্রবর্তী। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। মায়ের সঙ্গে বিভিন্ন পূজার আল্পনা আঁকা থেকেই তার ছবি আঁকা ও প্রতিমা তৈরির আগ্রহের শুরু। গ্রাম বাংলার সৌন্দর্য, পারিপার্শ্বিক জীবন ও প্রকৃতির খুঁটিনাটি ছিল তার পটচিত্রের বিষয়।

মোটা কাপড় বা কাগজের খণ্ডে তুলির সাহায্যে রং লাগিয়ে এক অসাধারণ সহজী ভঙ্গীতে তিনি এঁকে গেছেন মানুষ, মাছ, পশু-পাখি, বৃক্ষ, লতাগুল্ম, ফুল-ফল ইত্যাদি নিজস্ব ঢঙে। বাংলার অপরূপ রূপ তার ভেতরের অনবদ্য প্রতিভা ও শিল্পী সত্তার বিকাশ ঘটিয়েছিল। হাজার বছরের বাঙালি এতিহ্যের বাহক এই পটচিত্র।

পৌরণিক, সমসাময়িক বা লোকজ বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠতো বিভিন্ন সঙ্গীত, মঙ্গল কাব্য অথবা পটচিত্র। মনসা মঙ্গল, আনন্দ মঙ্গল, কৃষ্ণ লীলা ইত্যাদি গল্প-গাঁথার গল্প ধারাবাহিক চিত্রায়ন এই পটচিত্র। পটচিত্র ছিল এ উপমহাদেশের জন-জীবনের আনন্দ, বিনোদন ও শিক্ষার অন্যন্য এক মাধ্যম। যাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন শিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তী।

কলেজ শেষের পরপরই ঢাকায় চলে আসেন পটশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট প্রাঙ্গণ হয়ে উঠে তার সবসময়ের বিচরণ ক্ষেত্রে। পটচিত্রই হয়ে উঠে তার জীবন ও জীবিকা। দৃক, ছায়ানটসহ প্রবাসেও শিল্পীর দশের অধিক একক চিত্র প্রদশর্নী হয়েছিল। স্বচ্ছলতার মুখ তিনি দেখেননি। তবে বয়ে গেছে দিন। চারুকলা, সোনারগাঁয়ের শিল্পাচর্য জয়নুল লোক ও কারুশিল্প জাদুঘরে রক্ষিত আছে পটশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তীর অনবদ্য শিল্পকর্ম।

প্রিয়তম মানুষটার আজও হু হু করে ওঠে নমিতা চক্রবর্তী মন। শহরটা তার ছাড়তে ইচ্ছা করে না। সারা শহরে পটশিল্পী রঘুনাথ চক্রবর্তীর পদচিহ্নকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করেন। অগ্রহায়ণে চারুকলায় এখনো উৎসব হয়। আঙিনায় ছেলে মেয়েরা রং তুলি দিয়ে জীবনের প্রতিচ্ছবি আঁকে। ওদের পাশে বসে, ওদের আনন্দিত মুখের মধ্যে তিনি রঘুনাথ চক্রবর্তীর মুখ খুঁজে বেড়ান। উত্তরাধিকার বলতে যে শুধু ওইটুকুই সম্বল তার।

নমিতা চক্রবর্তী ভোরের কাগজকে বলেন, তার জন্য এখন এ শহরটাকে আকড়ে আছি। তার চিত্রকর্ম দেখলে এখনও হু হু করে ওঠে মন। তবে এভাবে চলাটা বড় কঠিন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়