ম্যানইউ কোচ সুলশার বরখাস্ত

আগের সংবাদ

অসংক্রামক রোগে অনেক পরিবারই নিঃস্ব হয়ে যায়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

পরের সংবাদ

সরকারি হাসপাতালে ঔষুধ পান মাত্র ৩ শতাংশ রোগী

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ৫:৪৫ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ৬:১২ অপরাহ্ণ

বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশের বাজেট কম। একইসঙ্গে সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের জন প্রতি স্বাস্থ্য খাতে খরচ সবচেয়ে কম (৪৫ ডলার)। সরকারি হাসপাতাল থেকে মাত্র ৩ শতাংশ রোগী ঔষুধ পান। আর ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়। অধিকাংশ রোগীকে বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সেবা নিতে হয়। এতে রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয় বেড়ে যায় এবং প্রায়ই রোগী আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন। শুধুমাত্র সরকারি অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে এর সমাধান সম্ভব না। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের খরচ করার দক্ষতা থাকতে হবে যাতে করে বাজেট অব্যবহৃত থেকে না যায়।

রবিবার (২১ নভেম্বর) হোটেল ইন্টার কনটিনেন্টালে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব লোকমান হোসেন মিয়া, স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব আলী নূর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশীদ আলম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহান আরা বানু। বাংলাদেশ ন্যাশনাল হেলথ একাউন্ট সেলের মুখপাত্র ডা. সুব্রত পাল পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের নিজ পকেট থেকে চিকিৎসার জন্য ব্যয় অবস্থা, এ থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. নুরুল আমিন ‘রোগী নিজ পকেট থেকে চিকিৎসার জন্য উচ্চ ব্যয়ের নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান’ শীর্ষক প্রবন্ধটি উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত প্রবন্ধগুলোতে জানানো হয়, রোগীর নিজ পকেট হতে ব্যয়ের প্রধান উৎস হলো ঔষধ খাতে ব্যয়। যা প্রায় ৬৪ ভাগ। হাসপাতালে অন্তর্বিভাগ ও বহির্বিভাগ হতে সেবা নেয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে ১২ ও ১১ ভাগ ব্যয় হয়। এ ছাড়া রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে ব্যয় হয় ৮ ভাগ। গ্রামপর্যায়ে বিস্তৃত সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যথাযথ কার্যকর না হওয়ায় এবং শহর এলাকায় পর্যাপ্ত প্রাথমিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা না থাকায় রোগী বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা নিতে বাধ্য হন। তাছাড়া সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ ঔষধ দেয়া হয় না। এবং রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ ও থাকে না।

প্রবন্ধে আরো উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপত্র ব্যতিত এন্টিবায়োটিকসহ প্রায় সব ধরণের ঔষধ কেনার সুযোগ থাকায় এবং ঔষধ উৎপাদনকারী কোম্পানীগুলোর মাত্রাতিরিক্ত বিপণনের কারণে স্বীকৃত ডাক্তারদের পাশাপাশি পল্লী ও হাতুড়ে ডাক্তারও ব্যবস্থাপত্রে অতিমাত্রায় ঔষধ লিখে থাকেন। ফলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঔষধ খেতে হয়। আর রোগীর ব্যয় বেড়ে যায়। জরুরি ঔষধের তালিকা সংশোধন ও সম্প্রসারণ এবং ব্যবস্থাপত্রে প্রটোকল অনুসরণপূর্বক কোম্পানীর ঔষধের ‘ব্র্যান্ড নাম’ ব্যবহারের পরিবর্তে ‘জেনেরিক নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হলে এ ব্যয়ে লাগাম টেনে ধরা সম্ভব।

আর বেসরকারি হাসপাতাল এক্রিডিটেশন পদ্ধতি না থাকা এবং এর সেবা মান ও মূল্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নজরদারী না থাকায় সেবাগ্রহীতারা প্রতিনিয়ত বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সেবা বিষয়ে রোগীদের অসন্তুষ্টি ও কখনো কখনো আস্থার ঘাটতি তাদেরকে দেশের পরিবর্তে বিদেশ থেকে সেবা নিতে উৎসাহিত করে। এ ভাবে চিকিৎসার ব্যয় মিটাতে গিয়ে অনেক মানুষ ভিটে জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন।

অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, সর্বজনীন স্বাস্থ্য সেবার অর্থ কোনো ধরণের আর্থিক দুরবস্থায় না পড়ে সমাজের প্রতিটি মানুষ যেনো তার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত স্বাস্থসেবা নিতে পারেন তা নিশ্চিত করা। এর তিনটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া; প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত স্বাস্থসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে আর্থিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করা। প্রথম দু’টি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার জন্যে দেশে ১৪ হাজারের বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্য সেবায় উন্নতির ফলে সূচকে দেখা গেছে অভাবনীয় সাফল্য, মিলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কিন্তু তৃতীয় ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে বাংলাদেশ বহুদূর পিছিয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশে রোগীর নিজ পকেট থেকে ব্যয় ছিল ৬৪ ভাগ। ২০৩২ সালের মধ্যে এই ব্যয় ৩২ ভাগে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা অর্থায়ন কৌশল: ২০১২-৩২ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে এই খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ ভাগ। এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের উপায় খুঁজে বের করতে স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় ‘নিজ পকেট থেকে গৃহস্থালি ব্যয় সংকোচনের কৌশল’ শীর্ষক টেকনিক্যাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। এই রিপোর্টের অবহিতকরণ কর্মশালাই এদিন অনুষ্ঠিত হয়।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়