প্রসঙ্গত স্বাস্থ্যসেবায় বিদেশ নির্ভরতা নয় : সহনশীলতায় অনন্য শেখ হাসিনা

আগের সংবাদ

আইন-আদালত মানেন না বলেই বিএনপি লাগামহীন কথা বলছেন: তথ্যমন্ত্রী

পরের সংবাদ

রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান : আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় ভূমিকা জরুরি

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গাদের সুরক্ষার বিষয়ে ওআইসি ও ইইউ উপস্থাপিত একটি প্রস্তাব গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। ২০১৭ সালে সংকট শুরুর পর এই প্রথম রোহিঙ্গাবিষয়ক কোনো প্রস্তাব জাতিসংঘে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হলো। জাতিসংঘের এ স্বীকৃতি সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃঢ় প্রতিশ্রæতির প্রতিফলন বলেই পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। ইইউ ও ওআইসি ছাড়াও রেজুলেশনটিতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলের সর্বোচ্চসংখ্যক দেশ সমর্থন জুুগিয়েছে এবং সহ-পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানবাধিকার পরিস্থিতির পাশাপাশি গত ১ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারির প্রেক্ষাপটের মতো বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা, বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত দ্বিপক্ষীয় চুক্তির বাধ্যবাধকতাগুলো পূরণ করা, মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতসহ সংস্থার সব মানবাধিকার ব্যবস্থাপনাকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করতে এবারের প্রস্তাবে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ১১ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রিত। তাদের প্রতি সমবেদনা এবং মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি সংহতি এবং রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসনের তাগিদ জানিয়ে আসছে বিশ্ব সম্প্রদায়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। দুই দফা সময় দিয়েও তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়নি। এ অবস্থায় বাংলাদেশ নিয়মিত কূটনীতির অংশ হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করলেও সবাই চুপচাপ শুনছে, কোনো প্রতিক্রিয়া বা পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। মানবিক কারণেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের নাগরিকদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। এই বিপুলসংখ্যক মানুষের বাড়তি দায়িত্ব বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই বড় বোঝা। প্রত্যাবাসনের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের হতাশা ক্রমে তীব্র হচ্ছে, যা এ অঞ্চলে নানা ধরনের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। ইতোমধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চুরি-ছিনতাই-রাহাজানির মতো সামাজিক ব্যাধি বেড়েই চলেছে। শিবিরগুলোর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে সদা তটস্থ থাকতে হচ্ছে। আমরা আশা করছি, দ্রুত এই সংকটের সমাধান হবে। এ অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতি এবং নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গা ইস্যুর রাজনৈতিক সমাধান অপরিহার্য। প্রত্যাবাসন না হওয়ায় মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে। বাড়ছে আঞ্চলিক সংকটও। রোহিঙ্গাদের কারণে নানা সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয়রা। রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ উদ্যোগ কাজে দিচ্ছে না। একমাত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপই মিয়ানমারকে এ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে বাধ্য করতে পারে। প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ রাখতে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়