নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার বিচার চান পরিবার

পরের সংবাদ

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনে এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের যাতায়াত শুরু

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ৪:০৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ৪:০৭ অপরাহ্ণ

শুরু হল দেশের প্রথম সমুদ্রগামী জাহাজ এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসের সরাসরি কক্সবাজার-সেন্টমার্টিনসের মধ্যকার যাতায়াত। কক্সবাজার শহরের বিমানবন্দর সড়কের বিআইডব্লিউটিএ ঘাট থেকে শনিবার সকাল সাড়ে সাতটায় যাত্রা শুরু করে দুপুর ১ টায় সেন্টমার্টিনস পৌঁছায় জাহাজটি। ওখানে ২.৩০ ঘন্টা যাত্রা বিরতীর পর বিকেল ৩.৩০ টায় কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বিলাসবহুল এই জাহাজ। গত বছর ৩০ জানুয়ারি এক জমকালো আনুষ্ঠানিকতার মধ্য যাত্রা শুরু হয় কাংখিত এই নৌরুটের।

কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিনস পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের দাবি দীর্ঘদিনের। কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স (লি.) এর উদ্যোগ ও পরিচালনায় অবশেষে এই দাবি পূরণ হল বলা চলে। অন্যদিকে আগামী ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্রগ্রামের পতেঙ্গা ওয়াটার বাসটার্মিনাল থেকে সেন্টমার্টিনসের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এই কোম্পানীর আরেক বিলাসবহুল ক্রুজশীপ ‘এমভি বেওয়ান’। এটাও চলতি পর্যটন মৌসমে চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনসের মধ্যে নিয়মিত চলাচল করবে। চট্রগ্রাম-সেন্টমার্টিনস রুটেও সমুদ্রগামী বিলাসবহুল কোন জাহাজের যাতায়াত এটাই প্রথম।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে লিলাভূমী বাংলাদেশ পর্যটন শিল্প থেকে এতদিন পিঁছিয়ে থাকলেও যুগান্তকারী কিছু উদ্যোগের কারনে পর্যটনের সম্ভাবনাগুলো ক্রমশঃ এখন ডানা মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি এই শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদ। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার থেকে সরাসরি সেন্টমার্টিন সমুদ্রভ্রমণে বিলাসবহুল জাহাজের যাত্রার মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন এই গুনী উদ্যোক্তা তথা শিল্পপতি।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশিদ জানান, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেসকে নিজস্ব ডকইয়ার্ডে একটি অত্যাধুনিক বিলাসবহুল জাহাজ হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে ও ১১ মিটার প্রশস্ত এই নৌযানে মেইন প্রপালেশন ইঞ্জিন- দু’টি। আমেরিকার বিখ্যাত কামিন্স ব্র্যান্ডের এই ইঞ্জিনের একেকটির ক্ষমতা প্রায় ৬০০ বিএইচপি করে। জাহাজটি ঘণ্টায় প্রায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ১৭টি ভিআইপি কেবিন সমৃদ্ধ এটি। নৌযানটিতে তিন ক্যাটাগরির প্রায় ৫০০ আসন রয়েছে। রয়েছে কনফারেন্স রুম, ডাইনিং স্পেস, সি ভিউ ব্যালকনিসহ আধুনিক বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা।

উল্লেখ্য, পাহাড় সমুদ্র বরাবরই টানে পর্যটকদের। সাগরের বিশালতার কাছে গেলেই প্রকৃতি সকলকে আপন করে নেয়। তাই বিশ্বের বৃহত্তম সৈকত কক্সবাজার এর গুরুত্ব অন্যতম। এদিকে কক্সবাজার জেলা শহর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে সাগরবক্ষের ক্ষুদ্রাকৃতির নয়নাভিরাম প্রবাল দ্বীপ- সেন্টমার্টিনস্। যা বিশ্বের অন্যতম সুন্দর প্রবালদ্বীপ হিসেবে পরিচিত। ফলে পর্যটকদের কাছে কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিনস এর গুরুত্ব বরাবরই অসিম। কিন্ত কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনস যাতায়াত করতে পর্যটকদের পাড়ি দিতে হত টেকনাফের এবরোথেবরো বিরক্তিকর দীর্ঘ স্থল পথ। সম্প্রতি এম ভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস সেই বোরিং জার্নিকে নীল সমুদ্রের নান্দনিক ভ্রমণে রুপ দিয়েছে। নিংসন্দেহে যা এক বিরল সুযোগ ও সম্ভাবনার পদধ্বনী।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়