বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ওয়াশিংটনে

আগের সংবাদ

অনন্ত হাঁ মুখের ঝুলন্ত শিকার

পরের সংবাদ

আপনাকে পড়েছি পড়তেই থাকব

প্রকাশিত: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ২১, ২০২১ , ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

যখন আমাদের ছেড়ে কেউ চলে যায় তখন আর তাকে নিয়ে লিখতে ইচ্ছে করে না। এ ইচ্ছেটাকে অনেকটা নিজে থেকেই নিঃশব্দে আঁটুনি দিয়ে রাখি সবসময়। চারপাশ ভরে উঠছে লোকারণ্যে, কোলাহলে! হৈ-হুল্লোড়ে ভরে ওঠে পোস্টারের দেয়াল, নাটকের মঞ্চ অথবা বাজার দর বৃদ্ধিতে প্রতিবাদী জনতার তীব্র কণ্ঠে! অথচ কোথাও কোথাও কেমন যেন নিবিড় শূন্যতা। এই একাকী পথে হাঁটা নির্ধারিত হয়ে যাচ্ছে আমাদের পুরো প্রজন্মের!
বসন্ত আসবে এ শীতের পরও। শীতে কাঁপতে কাঁপতে এবারো আমরা হয়তো মরা ধান খেতের আল বেয়ে গান ধরব কোনো এক পথের গান, অথবা দূর গাঁয়ে কোনো বাউল গানের আসরকে কেন্দ্র করে মেতে উঠব নিজের মতো করে, মেলা বসবে নদীর তটে তটে, প্রেম আসবে জীবনকে রাঙিয়ে দিতে! অথচ তখন আমাদের ভাবতে হবে হাসান আজিজুল হক স্যার নেই, নেই হুমায়ূন আহমেদ স্যারের মতো অনেক তারকা মানুষ! তার মানে আরো অনেকেই নেই যাদের দেখে দেখে, শুনে শুনে আমরা বড় হয়ে উঠেছি।
এবার যখন পুরো বসন্ত আসবে তখন হঠাৎ যদি করবী গাছের কথা মনে পড়ে তারপরই সব নিস্তব্ধ হয়ে যাবে! ছোট গল্প আর কথা দিয়ে নিয়মের বাইরে পাঠককে আঁকড়ে ধরে রাখার যে মন্ত্র শিখিয়েছেন তার বিস্তার যে ছড়িয়েছে লক্ষ কোটি আলোকবর্ষ হয়ে স্থায়ী নক্ষত্রের পুঞ্জে! হাসান আজিজুল হক স্যারই বলেছেন, ‘সমকালকে সর্বকালের করা দায়িত্ব লেখকেরই!’ কী এক অদ্ভুত সুন্দর উচ্চারণে লেখককে তার সম্মানী দিয়ে দিয়েছে এই কালজয়ী মানুষটি! ‘পানির রুপোলি মেঝেয় হাতড়ে বেড়ায় নাক-মুখ। হিম নামে যেন শব্দ করে, বাতাস আসে শিরশির, খড়মড় উড়ে যায় বাদাম খোলা। খাদের আসশেওড়ার পাতা থেকে আলো চলকে ওঠে, কাঁঠাল গাছের পুবদিকের ডাল হাত নাড়িয়ে ডাকতেই থাকে বিচ্ছিরি। অজস্র খঞ্জনি বেজে ওঠে ঝনঝন।’
তার আত্মজা ও একটি করবী গাছ ছোট গল্পের এই স্বপ্নময় উচ্চারণের মতো হাজারো নির্বিঘœ লোকো প্রণয় আমাকে বিমুগ্ধ করে রাখে! বইয়ের পাতায় পাতায় আমাদের প্রিয়জনরা হয়তো থাকবেন সান্নিধ্যে; কিন্তু যখন ভাবব কলমের নতুন হরফে আর নীলাভ আকাশে সাদা মেঘ নিয়ে কোনো শান্তির বার্তার সঙ্গে এই মানুষগুলোর কণ্ঠ প্রতিধ্বনিত হবে না তখন এই জনম বড্ড বেশি ভারি মনে হবে! প্রবীণ মানুষ, শেখার মানুষ অনেকেই আমাদের ছেড়ে কোথাও লুকিয়ে গেছেন; কিন্তু তাদের স্পর্শ এতটাই গভীর যে, মনে হয় এখনো পাশে থেকে কথা বলে যাচ্ছেন অবিরাম! মানুষ মৃত ব্যক্তিকে এমনভাবে তার নিজের মধ্যে অস্তিত্বকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করে যে, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি মৃত ব্যক্তিই একজন মানুষের পুরো ঘোর লাগা চিন্তাকে বেশি করে গ্রাস করে যায়! স্যার, আপনি ভালো থাকবেন। আমাদের শিক্ষকদের কাছে আপনার কথা শুনতে শুনতে এক সময় আপনাকে নিজেদের ঘরের বারান্দার জলচকিতে বসা পাঠরত কোনো আপন মানুষের অবয়বে মনে হতো। আপনাকে আমরা পড়েছি, পড়তেই থাকব, আপনি থেকে যাবেন শব্দের খেলার অসামান্য ছন্দের সুরেলা অবগাহনে, জ্ঞানের ও সময়ের আলো হয়ে। শ্রদ্ধা আপনার প্রতি।
সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়