মিরপুরে দর্শক প্রবেশে সতর্ক বিসিবি

আগের সংবাদ

৫ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

পরের সংবাদ

দেড় টন বই বিক্রির ঘটনার সত্যতা মিলেছে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২১ , ১:৩৫ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২১ , ১:৩৫ অপরাহ্ণ

দেড় টনের বেশি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী বহুমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। ওই স্কুলের বরাদ্দ দেওয়া গত আট বছর ধরে জমে থাকা ১ হাজার ৬০০ কেজি বিনামূল্যের পাঠ্যবই ১৩ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে দিয়েছেন তিনি।

তবে বই বিক্রির ঘটনাটি সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পড়ে বই বিক্রির ঘটনার তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়।

গত ২৭ অক্টোবর দৈনিক ভোরের কাগজ পত্রিকায় ‘ ‘রৌমারীর চর শৌলমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে সরকারি বই বিক্রি করলেন প্রধান শিক্ষক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি নজরে এলে তদন্তের উদ্যোগ নেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। পরে এ ঘটনা তদন্তের জন্য উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোকতার হোসেনকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

গত মঙ্গলবার বই বিক্রির তদন্তের প্রতিবেদন উপজেলা নিবর্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান এর নিকট জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোকতার হোসেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোকতার হোসেন বলেন, ‘বই বিক্রির ঘটনায় সরেজমিনে গিয়ে তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। পড়ে তদন্ত প্রতিবেদন ইউএনও মহোদয়কে দেয়া হয়।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইবুল ইসলাম জানান, ‘প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে বই বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় তদন্ত করতে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে বলা হয়। তদন্তে সরকারি বই বিক্রির ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই বিক্রির ঘটনার তদন্তের প্রতিবেদন পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বইগুলো বিক্রি করা হয়েছে। তবে তদন্তে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বই বিক্রির রেজুলেশন কপি উল্লেখ করা হয়েছে। এখন কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর তদন্ত প্রতিবেদনটি দেয়া হবে।

বই বিক্রির ঘটনা ও তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শামছুল আলম জানান, ‘সরকারি বিনামূল্যের পাঠ্যবই কোনক্রমেই বিক্রি করা যাবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান কিংবা কেউ বিক্রি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন এখনও হাতে পায়নি। তবে তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘সরকারি বইগুলো না বুঝে বিক্রি করেছি। তবে এমন ঘটনা আর হবে না।

উল্লেখ্য, গত ২০ অক্টোবর রাতের আঁধারে প্রধান শিক্ষক তার প্রতিষ্ঠানে গচ্ছিত রাখা মাধ্যমিক স্তরের ২০১৩ সাল হতে ২০২১ সালের সরকারি বই ১৬০০ কেজি ১৩ টাকা দরে চরশৌলমারী বাজারের আবুল কাসেম সিকদার নামে এক ব্যবসায়ীর নিকট অবৈধভাবে বিক্রি করেন।

রি-এমপি/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়