মৌলবাদের অন্তরাত্মা

আগের সংবাদ

বাস মালিক-শ্রমিকরা বেপরোয়া

পরের সংবাদ

কেন এমন নৃশংসতা?

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৯, ২০২১ , ১:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৯, ২০২১ , ১:২৮ পূর্বাহ্ণ

শিশুদের প্রতি নৃশংসতার ভয়াবহ ঘটনা কিছুদিন পরপরই আমরা দেখতে পাই। একটি ঘটনার নৃশংসতা ছাড়িয়ে যাচ্ছে আরেকটিকে। এসব কেবল আইনশৃঙ্খলার অবনতির দৃষ্টান্তই নয়, সামাজিক অসুস্থতারও লক্ষণ। এসব ঘটনা বলে দেয় মানুষের নৈতিক স্খলন, লোভ ও হিংস্রতার ভয়াল রূপের কাছে টিকতে পারছে না সামাজিক কিংবা পারিবারিক বন্ধন। ভোরের কাগজের খবরে প্রকাশ, পরকীয়ার জের ধরে ৫ বছর বয়সি শিশুকন্যা ফাহিমাকে হত্যা করে তার বাবা। বাবাকে অন্য নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে মায়ের কাছে বলে দেয়ার কথা জানায় সে। আর এটিই কাল হয়ে দাঁড়ায় নিষ্পাপ এ শিশুর। পরকীয়ায় পথের কাঁটা সরাতে মেয়েকেই হত্যা করে লাশ গুম করে। কুমিল্লার দেবিদ্বারের চাঞ্চল্যকর শিশু ফাহিমা হত্যাকাণ্ডে ঘাতক বাবা ও তার পরকীয়া প্রেমিকাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে র‌্যাব। আরেকটি খবরে জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৫ বছরের শিশু সানিকে বলাৎকারের পর হত্যা করে খালু চাঁন মিয়া। দুই বছর আগে রাজধানীর গুলিস্তান পার্ক এলাকায় সানি হত্যার রহস্য উন্মোচন শেষে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ঘাতক খালু চাঁন মিয়াকে গত বুধবার সকালে রাজধানীর পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্কুলে, পরিবারে, কর্মক্ষেত্রে বা এর বাইরেও শিশুদের অমানবিক নৃশংসতার শিকার হতে হচ্ছে। শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যার ঘটনা প্রায়ই পত্রিকায় দেখছি আমরা। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে শিশু নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। শিশুর প্রতি এই সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজও যথেষ্ট মাত্রায় সচেতন নয়। বলার অপেক্ষা রাখে না শিশু ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, শিশু হত্যার এই প্রবণতার জন্য মূলত আমাদের নৈতিক ও মানবিক অধঃপতন দায়ী। এই সামাজিক অবক্ষয়ের শুরু অনেক আগে থেকেই। এক সময় সামাজিক যে বন্ধন ও মূল্যবোধ ছিল, তা এখন অন্তর্হিতপ্রায়। শুধু ধর্ষণ নয়, সব ধরনের অন্যায়, অবিচার, অনাচারের বিরুদ্ধেই সামাজিক সংহতি প্রয়োজন। পুলিশের কোনো কোনো সদস্যের গাফিলতি, অসাধুতা নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে মানুষ একতাবদ্ধ ও প্রতিবাদমুখর হলে প্রশাসনও যে তার দায়িত্ব ঠিকঠাকভাবে পালন করতে বাধ্য হয়। এর কিছু উদাহরণও রয়েছে। শিশু রাজন ও রাকিব হত্যা মামলায় অপরাধীদের সর্বোচ্চ দণ্ড দেয়া হয়েছে। আমরা উপরোক্ত দুটি ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেখতে চাই। শিশুর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সব অভিভাবককে রুখে দাঁড়াতে হবে, হায়েনাদের নৃশংসতা বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোমলমতি শিশুদের আপন মহিমায় বেড়ে ওঠার সুযোগ দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এই দায়িত্ব পালনে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক হতে হবে। রাষ্ট্র কর্তৃক শিশুদের বেঁচে থাকা এবং বিকাশের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক নিশ্চয়তা বিধানের উল্লেখ করা হয়েছে জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৬ ধারায়। রাষ্ট্রকে তার অঙ্গীকার পূরণে সচেষ্ট থাকতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়