করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বস্তি মিলছে না এখনই

আগের সংবাদ

নগর গণপরিবহন: ওয়েবিল প্রতারণা বন্ধে বিআরটিএ নীরব

পরের সংবাদ

পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো ধৃষ্টতা, বিক্ষুব্ধ সচেতন মহল

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২১ , ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০২১ , ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ

পঞ্চাশ বছরেও আচরণ বদলায়নি পাকিস্তানের। ক্রিকেট থেকে রাজনীতি- সর্বত্র ধৃষ্টতার ছোঁয়া। আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দ্রুত এগিয়ে যাওয়া, বদলে যাওয়ার গতিতে তারা যেমন হিংসার আগুনে জ্বলে; তেমনি ক্রিকেট বিশ্বে বাংলাদেশের উন্নয়নেও ঈর্ষান্বিত একাত্তরের জল্লাদ পাকিস্তানিরা। বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বারবার উদ্যত আচরণ করে সেই পরাজয়ের পুরনো প্রতিশোধকেই যেন টেনে এনেছে তারা। গত সোমবার কোনো কারণ ছাড়াই মিরপুর স্টেডিয়ামে পাকিস্তানি পতাকা উড়িয়ে ফের ধৃষ্টতা দেখিয়েছে পাকিস্তানি ক্রিকেট দল। এ নিয়ে খেলার আগেই সমালোচনার ঝড় বইছে সব মহলে। পাকিস্তান ক্রিকেট টিমকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি উঠেছে। নতুবা পত্রপাঠ তাদের বিদায় করে দেয়ার কথা বলেছেন অনেকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এখনি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদে দিয়েছেন তারা। নতুবা সংশ্লিষ্ট কর্মকতারাও এর দায় এড়াতে পারবেন না। বাংলাদেশকে হেয় করার অধিকার কারো নেই।

৫ বছর পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ১৯ নভেম্বর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে মাঠে গড়াবে দুই দলের লড়াই। গত সোমবার মিরপুরের একাডেমিতে পাকিস্তান দল নিজেদের জাতীয় পতাকা উড়িয়ে অনুশীলন করেছে। সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবি ভাইরাল হওয়ার পরই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী স্বাগতিক দেশসহ প্রতিপক্ষ দলের পতাকা বিসিবি অফিসে ম্যাচ চলাকালীন থাকতে হবে। সেই হিসেবে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে বিসিবি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের পতাকা একাধিকবার উড়েছে। তবে গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশে পতাকা দোলানোর নিয়মনীতি থাকলেও অনুশীলনের সময় সরাসরি মাটিতে পাকিস্তানের পতাকা গাঁথাকে অনুচিত মনে করছেন ক্রিকেটবোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, বাংলাদেশে আগে কখনো কোনো সফরকারী দল এভাবে নিজ দেশের পতাকা টাঙিয়ে অনুশীলন করেনি। জাতীয় পতাকা নানাভাবেই তাদের সঙ্গে রাখেন। কেউ মাথায় বেঁধে, কেউবা কাঁধে পেঁচিয়ে। কোনো ক্ষেত্রে সাপোর্ট স্টাফদের হাতেও দেখা যায় নিজ দেশের পতাকা। বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ২০১৫ বিশ্বকাপে ভিনদেশে মাথায় জাতীয় পতাকা বেঁধে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। ক্রিকেট ইতিহাসে সেটিও বিরল ঘটনা।

প্রথম সফরেও ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল পাকিস্তান : স্বাধীনতার পর প্রথম কোনো টেস্ট দল হিসেবে বাংলাদেশ সফর করেছিল পাকিস্তান। ১৯৭৯-৮০ সালের সেই সফরটি ছিল পাকিস্তানের ভারত সফরের মধ্যবর্তী সফরের একটি অংশ। ওই সফরে চট্টগ্রামে দুই দিনের একটি ম্যাচ ও ঢাকায় তিন দিনের একটি ম্যাচ খেলার কথা ছিল তাদের। কিন্তু চট্টগ্রামের দুই দিনের ম্যাচ চলাকালে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ধৃষ্টতার কারণেই বাংলাদেশ সমর্থকদের প্রতিবাদের মুখে পণ্ড হয়ে যায় ম্যাচ। ফলে পত্রপাঠ বিদায় নিতে হয় পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ওই সময় ঢাকা থেকে সোজা চট্টগ্রাম যায় পাকিস্তান দল। অভিযোগ ওঠে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আচরণ ছিল অগ্রহণযোগ্য। তাদের অভ্যর্থনা জানাতে আসা ক্রিকেটপ্রেমীদের সালামের জবাবে ইমরান খানসহ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার নমস্কার দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়েও নানা অগ্রহণযোগ্য মন্তব্য করেছিলেন কয়েকজন পাকিস্তানি ক্রিকেটার। এতে ক্ষুব্ধ হন ক্রিকেটপ্রেমীরা। চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামে দুই দিনের ম্যাচের দ্বিতীয় দিন চা বিরতির পর গ্যালারির দিকে ফিরে জাভেদ মিয়াঁদাদ নমস্কারের ভঙ্গি করলে ক্ষুব্ধ দর্শকরা গ্যালারি থেকে মাঠে ঢুকে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের ধাওয়া করেন। এরপর পণ্ড হয়ে যায় খেলা। সে দিন মাঠে ছিলেন তরুণ ক্রিকেটার (পরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক) রকিবুল হাসান। এ ব্যাপারে তিনি ভোরের কাগজকে বলেন, ভারতে ক্রিকেট সিরিজ খেলে তারা বাংলাদেশে এসেছিল। বিমানবন্দরে সালামের জবাবে তাদের নমস্কার দেয়ার বিষয়টি তখন দৈনিক আজাদী পত্রিকায় প্রকাশিতও হয়েছিল। এতে মানুষ ক্ষুব্ধ হয়। খেলার দিন দুপুরে ক্ষুব্ধ দর্শকরা মাঠে ঢুকে তাদের ওপর চড়াও হয়। আমরা রাত ৮টা পর্যন্ত আটকা পড়েছিলাম। এরপর খেলা পণ্ড হয়ে যায়। ক্রিকেট নিয়ে যেন কোনো রাজনীতি না হয়, এটিই আমার চাওয়া বলে মন্তব্য করেন এই সাবেক টাইগার অধিনায়ক।

বাংলাদেশকে হেয় করার অধিকার বিশ্বের কারো নেই : একাত্তরের বধ্যভূমি মিরপুর। নিরীহ বাঙালিদের ওপর গণহত্যার উল্লাসে মেতেছিল পাক হানাদাররা। বিজয়ের পরও পরাধীন মিরপুরকে শত্রু মুক্ত করতে ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি শহীদ হন লে. সেলিম, জহির রায়হানসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। গত ৫০ বছরে সেখানে ১০ টি বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। মিরপুর স্টেডিয়ামটি চারদিকে ঘিরে রয়েছে বধ্যভূমি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দাঁড়িয়ে কোনো কারণ ছাড়াই সেই মিরপুরে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা উড়াল পাকিস্তানের পতাকা। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে কেনা স্বাধীন দেশে পরাজিত শক্তির পতাকা উত্তোলন দেশের সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা ক্ষুণ্ন করে কিনা- এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। এ ঘটনায় পাকিস্তানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত বলে মনে করেন অনেকেই। তাদের কাছে কৈফিয়ত চাইতে হবে এবং তাদের এই ঔদ্ধত্যের জন্য বাংলাদেশের কাছে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে বলে মত সচেতন মহলের। নয়তো তাদের ক্রিকেট টিমের এই দেশে খেলার কোনো দরকার নেই বলেও মন্তব্য তাদের। জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির ভোরের কাগজকে বলেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রটাই দুর্বৃত্ত। তারা কখনোই বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, পাকিস্তান কর্তৃক গণহত্যা কোনো কিছুই স্বীকৃতি দেয়নি। যেই মিরপুর স্টেডিয়ামে তারা এই কাজটি করেছে, এই গোটা মিরপুরই একাত্তর সালে ছিল পাকিস্তানের বধ্যভূমি। ঢাকার সবচেয়ে বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এই মিরপুরে। সেই শহীদদের প্রতি তো তাদের বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা নেই। একাত্তর সালে তারা যাদের হত্যা করেছে, এখন সেই জায়গায় পাকিস্তানের পতাকা উড়াচ্ছে। প্রতিবাদ করাটা ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্ব। তিনি বলেন, বারবার পাকিস্তান মশকরা করবে, আমরা তা সহ্য করব কেন? ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড তাদের কাছে কৈফিয়ত তলব করবে যে কেন তারা প্রথা ভেঙে এটা করেছে? পাশাপাশি এ ঘৃণ্য কাজের জন্য তাদের ক্ষমা চাইতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন কাণ্ড না ঘটায় তার জন্য সতর্ক করে দেবে। যদি পাকিস্তান এটা না করে তাহলে তাদের পত্রপাঠ বিদায় দিতে হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রিকেট না খেললে আমাদের কিছু যাবে আসবে না। বাংলাদেশ আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র, এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশকে হেয় করার অধিকার কারো নেই এটি পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দিতে হবে।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়