বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের গুলিতে এক জেলে নিহত

আগের সংবাদ

পাকিস্তানের পতাকা ওড়ানো ধৃষ্টতা, বিক্ষুব্ধ সচেতন মহল

পরের সংবাদ

করোনা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও স্বস্তি মিলছে না এখনই

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৭, ২০২১ , ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৭, ২০২১ , ১১:৩৩ পূর্বাহ্ণ

* টিকায় সামাল দেয়ার চেষ্টা * ভাবা হচ্ছে বুস্টার ডোজ নিয়েও * বস্তিতে টিকাদান শুরু * জেলার শিক্ষার্থীরাও পাচ্ছে টিকা

বিগত প্রায় দুই মাস ধরে দেশে কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই হার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেড় শতাংশেরও কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, কোনো দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করা হয়। সোমবার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি সন্তোষজনক বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, গত সাত দিনে করোনায় কম মৃত্যুর দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে তৃতীয়। প্রথম স্থানে আছে চীন, এরপর আছে জাপান। আমরা করোনা সংক্রমণ মোকাবিলা করতে পেরেছি। গত এক মাস ধরে দেশে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক বলে মনে হলেও বৈজ্ঞানিক তথ্য ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। কারণ, সংক্রমণ কম থাকায় মানুষের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার কমেছে। স্বাস্থ্যবিধি মানার তো কোনো বালাইই নেই। এদিকে করোনা ভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট (ধরন) ডেল্টা প্লাসও (এওয়াই.৪.২) ছড়িয়েছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে।

টিকা নেয়ার পরও করোনায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবে মৃতের তালিকায় টিকা নেয়নি এমন আক্রান্তের সংখ্যাই বেশি। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। যাদের ৮৯ শতাংশেরই টিকা দেয়া ছিল না। করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং আক্রান্তদের মাঝে জটিলতা কমানোর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি সবাইকে টিকার আওতায় আনার কথা সরকারের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে। এদিকে টিকা প্রাপ্তির জট কেটে যাওয়ার পর থেকেই দেশে টিকাদান কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এ পর্যন্ত ১১ কোটির বেশি টিকা এসেছে। শুরুতে টিকা প্রাপ্তির বয়সসীমা ৪০ ঊর্ধ্ব থাকলেও বেশিসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যে বয়সসীমা কমিয়ে ১৮ ঊর্ধ্ব করা হয়। তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষ ক্যাম্পেইনসহ কয়েকবারই টিকাদানের বিশেষ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। ৬ নভেম্বর থেকে কমিউনিটি ক্লিনিকেও দেয়া হচ্ছে টিকা। গতকাল মঙ্গলবার থেকে ঢাকার বিভিন্ন বস্তিতে বস্তিবাসীদের মধ্যে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে ঢাকার (১২ থেকে ১৭ বছর বয়সি) শিক্ষার্থীদের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে জেলা পর্যায়ের স্কুলগামী শিক্ষার্থীরাও।

এদিকে গতকাল রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সৌদি আরবের ১৫ লাখ এস্ট্রাজেনেকার টিকা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের বুস্টার ডোজ টিকা দেয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনা টিকার বুস্টার ডোজের কথা চিন্তাভাবনা করছে সরকার। দেশের বেশির ভাগ মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার পর বুস্টার ডোজ দেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের টিকা কার্যক্রম সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক এবং কোভিড ১৯টিকা ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ডা. মো. শামসুল হক বলেন, রাজধানীর আটটি কেন্দ্রে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের টিকাদান কার্যক্রম চলমান। গতকাল থেকে এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও। আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি জেলায় গতকাল টিকা প্রয়োগ শুরু হলেও দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সবমিলিয়ে ২৩টি জেলার শিক্ষার্থীরা টিকার আওতায় চলে আসবে। এমনকি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পর্যায়ক্রমে সারাদেশের শিক্ষার্থীরাও এই কার্যক্রমে যুক্ত হবে।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে টিকা দেয়ার মধ্য দিয়ে বস্তিবাসীদের মাঝে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয় গতকাল মঙ্গলবার। কড়াইলবস্তি ছাড়াও ভাসানটেক ও মোহাম্মদপুর বস্তিতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য বস্তিতেও টিকা দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখে স্বস্তিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই। বরং শঙ্কার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। মানুষের আচরণ দেখে মনে হয় করোনা নির্মূল হয়ে গেছে। বিশ্বের কোথাও এমন পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। ব্যক্তি পর্যায়ে উদাসীনতা বাড়ছে। সচেতনতা নেই বললেই চলে। আগামী দিনে সংক্রমণ বাড়ার একটি আশঙ্কাতো থেকেই যায়। টিকা নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের জনগণের যতটা আগ্রহ; সর্বোত্তম টিকার (সঠিক নিয়মে মাস্ক পড়া, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা) ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই উদাসীনতা। একেক টিকা ভাইরাসের একেক ধরণের থেকে সুরাক্ষা দিলেও স্বাস্থ্যবিধি ও মাস্কের সঠিক ব্যবহার ভাইরাসের সব ধরন থেকেই সুরক্ষা দেবে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, কম সংক্রমণ থেকে ব্যাপকহারে বেড়ে যাওয়ার অনেক উদাহরণ আছে। ভারতের কেরালা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, ভুটানের ক্ষেত্রে তেমনটাই হয়েছে। যার ফলে দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি আপাতত স্বস্তিদায়ক অবস্থায় থাকলেও করোনা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছেন এটি ভাবার সুযোগ নেই। করোনা নিয়ন্ত্রণ হলে বিশ্বের সব দেশকে একসঙ্গেই করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম ভোরের কাগজকে বলেন, এখন করোনার সংক্রমণের হার কম আছে। তবে মানুষের আচরণের যে দিকটি আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে তা হলো, মানুষ আবারো আগের মতোই অসচেতন হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং মাস্কের ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের উদাসীনতা যে কোনো সময় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়