সমতাভিত্তিক সমাজ নির্মাণে সংসদীয় অংশীদারিত্ব জরুরি: স্পিকার

আগের সংবাদ

শীতকালে কেন ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে

পরের সংবাদ

র‌্যাব পরিচয়ে টিকটক, রাজের ফাঁদে শতাধিক তরুণী

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৬, ২০২১ , ৮:৫৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৬, ২০২১ , ৮:৫৫ অপরাহ্ণ

নওগাঁওয়ের বাসিন্দা আব্দুর রাকিব ওরফে খোকন টেনেটুনে স্কুলের গন্ডি পার হয়েছিলেন। এরপর পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। এখন বগুড়ার একটি আবাসিক হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী। কিন্তু ভার্চুয়াল দুনিয়ায় তাকে সবাই চেনে ‘টিকটক রাজ’ হিসেবে। নারীদের টার্গেট করে বানান নানা ভিডিও।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং এলিট ফোর্স র‌্যাবের ইউনিফর্ম পরা তার অসংখ্য ছবি, ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর টিকটক সাইটে। নিজেকে পরিচও দেন বিজিবি-র‌্যবের কর্মকর্তা হিসেবে। ভুয়া ভিডিও তৈরি ও মিথ্যা পরিচয়ে শতাধিক নারীর সঙ্গে করেছেন প্রতারণা, বিয়ে করেছেন চারটি। শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে ধরা পড়ার পর উন্মোচন হয় তার মুখোশ।

সোমবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে র‌্যাব-২ ও র‌্যাব-৫ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। র‌্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, রাকিব মূলত প্রতারক চক্রের সদস্য। সে র‌্যাবসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অভিযান বা না কার্যক্রমের ছবি ও ভিডিও এডিট করে সেখানে নিজের ছবি বসিয়ে দিতো। এই ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে বিশ্বাস স্থাপন করতো। তার ইউটিউবে দুই মিলিয়নের বেশি ভক্ত। এই ভক্তদের মধ্যে নারীদের টার্গেট করে টিকটক ভিডিও তৈরি করার নামে তাদের ব্লাকমেইল করে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয় সে।

মঙ্গলবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে টিকটক রাজ ওরফে রাকিবকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন র‌্যাব কর্মকর্তারা। সেখানে সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার রাকিব টিকটক, ফেসবুক, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ ও ভাইবারসহ বিভিন্ন সাইবার মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিল। সে দুই বছর ধরে অনলাইন প্লাটফর্মে মুখরোচক ভিডিও তৈরি করে তা প্রচার করে আসছিল। নারীদের প্রলুব্ধ ও প্রতারিত করে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করত।

তিনি বলেন, এই প্রতারক বিশ্বাস স্থাপনের জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতো চুল কাটাসহ পোশাক পরতো। হাতে রাখতো ভুয়া ওয়াকিটকি। নিজেকে ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান হিসেবে পরিচিতি পেতে অন্যের বাড়ি ও আমবাগান নিজের বলে চালিয়ে দিত। নানা ঠকবাজি করে বা প্রতারণার মাধ্যমে নারীদেরকে প্রলুব্ধ করে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করে। এরপর টাকা, স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেয়। তার কাছে শাতাধিক নারী প্রতারণার শিকার হয়েছেন। চার বিয়ের মধ্যে সর্বশেষ দেড় বছরে তিনটি বিয়ে করেন। তার বিরুদ্ধে র‌্যাবের কাছে ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ করেছেন।

এই প্রতারক র‌্যাব বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পেল কোথায়?-জানতে চাইলে কমান্ডার মঈন বলেন, তার কাছ থেকে যে ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়েছে, তা ভুয়া। কালো রঙের এই পোশাক সাধারণ কাপড়ে তৈরি করা। তার হাতে থাকা ওয়াকিটকিও খেলনা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাকিব নিজেকে বিজিবির একজন ল্যান্স নায়েক পরিচয় দিত। বিজিবি থেকে র‌্যাবে তার পদায়নের ফলে সে র‌্যাব-১২ তে কর্মরত বলে তার অনুসারীদের কাছে পরিচয় দিতো। এরপর র‌্যাব-১২ থেকে র্যাবব-৫ এ বদলি এবয় সর্বশেষ তার পোষ্টিং ঢাকায় বলে অনুসারীদের জানিয়েছিল। তা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে বগুড়া থেকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আসে। সেখানে তার উদ্দেশ্য ছিল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো স্থাপনার সামনে র‌্যাবের পোশাক পড়ে ভিডিও তৈরি করবে। তাকে আগেই অনুসরণ করায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়