এসএসসি পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে অনুপস্থিতি ২৩ হাজার ৫৫৩ জন

আগের সংবাদ

এ বছরও হচ্ছে না ফোক ফেস্ট

পরের সংবাদ

জেএমবির ২ জঙ্গির বিষয়ে তথ্য চেয়েছেন আপিল বিভাগ

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৫, ২০২১ , ১০:২৮ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২১ , ১০:২৮ অপরাহ্ণ

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবির দুই জঙ্গির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য চেয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে জঙ্গি সালাউদ্দিন সালেহীন ও রাকিব হাসান ওরফে হাফেজ মাহমুদের আপিল শুনানিকালে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৫ নভেম্বর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ তথ্য চান। এদিকে তাদের আপিলের রায়ের জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার দিন ধার্য রয়েছে।

বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ও বিচারপতি ওবায়দুল হাসান।

২০০৪ সালে জামালপুরে গণি গোমেজকে হত্যা করে জেএমবির জঙ্গিরা। ওই হত্যা মামলায় ২০০৬ সালে সালেহীন ও রাকিবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সেই মামলায় একই বছর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে ফাঁসি বহাল রাখেন হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে এই জঙ্গিরা।

এরআগে ২০০৬ সালে কাশিমপুর কারাগার থেকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় বরাবর একটি চিঠি দেন জঙ্গি রাকিব। সেখানে তিনি বলেন, জজ কোর্ট হতে …আইনের মৃত্যুদণ্ড মানি না। হাইকোর্ট যদি আল্লাহর আইনে বিচার করে তবে আমার আপিল আল্লাহর আইনের কাছে। তাগুতি বা …..কোনো কোর্টে আমি আপিল করব না।

ওই আপিলের শুনানিতে মামলার বিষয়বস্তু তুলে ধরেন আসামি পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত কৌসুলি নাহিদ মাহতাব। তিনি বলেন, দুই জঙ্গি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন শায়খ আব্দুর রহমানের নির্দেশে গণি গোমেজকে হত্যা করে তারা। যাকে হত্যা করেছেন ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ায় ওই হত্যাকাণ্ড ঘটায় আসামিরা।

এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, নিজ নিজ ধর্ম পালনে প্রত্যেকের স্বাধীনতা রয়েছে। তাহলে কেনো এ ধরনের হত্যাকাণ্ড? এরপরই আসামির জবানবন্দি পড়ে শোনান আইনজীবী। তখন প্রধান বিচারপতি বলেন, দেখুন, আসামিদের জবানবন্দি থেকে বোঝা যায় কিভাবে এসব যুবকদের ‘ব্রেন ওয়াশ’ করে বিপথগামী করা হয়েছে। বৃটেনে সম্প্রতি এক এমপিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে হত্যাকারী কি অর্জন করলো? এ ঘটনায় তো পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিলো ওই হত্যাকারী।

রাষ্ট্রপক্ষে এই মামলা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মেহেদী হাসান চৌধুরী। আপিল বিভাগে সংযুক্ত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ। শুনানির এক পর্যায়ে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, এই দুই জঙ্গির ফাঁসি কি অন্য কোনো মামলায় কার্যকর হয়েছে? আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী বলেন, এ তথ্য আমার কাছে নেই। তখন রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলিদের উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে তথ্য নিন।

পরে বিশ্বজিত দেবনাথ আদালতকে জানান, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছেন ২০১৪ সালে ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তিন সঙ্গীকে ছিনিয়ে নেয় জঙ্গিরা। তার মধ্যে সালেহীন ছিলো। তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। সে এখনো পলাতক। তবে জঙ্গি রাকিবকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তিনি পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সালেহীনের বিষয়ে কোর্টকে লিখিতভাবে তথ্য দিন। কাল (মঙ্গলবার) রায় দেব। বিচারপতি ইমান আলী বলেন, জঙ্গি রাকিব যদি মারা গিয়ে থাকেন, তাহলে তার আপিল অ্যাবেটেট (বাতিল) হবে।

ডি-ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়