৫ পুরুষ প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে চেয়ারম্যান হলেন সোনিয়া

আগের সংবাদ

এমন বেপরোয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া যায় না

পরের সংবাদ

ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা : নির্বাচন কমিশনকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১৩, ২০২১ , ১:০৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১৩, ২০২১ , ১:০৯ পূর্বাহ্ণ

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছেই। রক্তাক্ত হচ্ছে নির্বাচনের মাঠ। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর নেতাকর্মীদের মাঝে সংঘাতের খবর আসছে। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৫ ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে হামলা-সংঘর্ষে প্রাণ হারান অন্তত সাতজন। আহত হয়েছেন প্রার্থী ও তার কর্মী-সমর্থক, পুলিশ, সাংবাদিকসহ কয়েকশ ব্যক্তি। বিভিন্ন স্থানে প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের নানা অভিযোগ উঠছে। শুধু অভিযোগ নয়, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অনেক ঘটনা দৃশ্যমানও। কেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মারা, ব্যালট ছিনতাই, সিলের কালি সংকটসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনায় দেশবাসী উদ্বিগ্ন না হয়ে পারে না। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য এই প্রতিষ্ঠানকে অগাধ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এই ক্ষমতা প্রয়োগের বিষয়টি নির্ভর করে নির্বাচন কমিশনের দৃঢ়তার ওপর। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকার পর্যায়ের অসংখ্য নির্বাচনসহ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এই নির্বাচনগুলোয় কোনো ধরনের সংঘাত-সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি। অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হিসেবেই ওই নির্বাচনগুলো স্বীকৃতি পেয়েছে। উল্লেখ্য, প্রথম ধাপে ৩৬৯ ইউপির ভোট সম্পন্ন করেছে ইসি। দ্বিতীয় ধাপে ৮৩৫ ইউপিতে ভোট গ্রহণ করে ১১ নভেম্বর। আর তৃতীয় ধাপে ১ হাজার ১টি ইউপিতে ভোট হবে ২৮ নভেম্বর। চতুর্থ ধাপে ৮৪০ ইউনিয়নে আগামী ২৩ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে সংঘাতের মাত্রা তত বাড়বে। এছাড়া তৃণমূল আওয়ামী লীগে হাইব্রিড প্রার্থীদের কারণে এই সংঘাতের আশঙ্কা আরো বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিকল্প নেই। আপামর জনগণের প্রত্যাশাও তাই। নির্বাচনের আগে ও পরে আপনাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটা ভালো ভূমিকা থাকতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আচরণবিধি প্রয়োগ করতে গিয়ে এমন কিছু করবে না যেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। শুধু নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছাতেই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমনটি বলতে চাই না। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, প্রার্থী ও ভোটারদেরও আন্তরিক হতে হবে। প্রার্থীদের উচিত হবে- বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, কারচুপি বা দখলদারিত্বের আশ্রয় না নিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকা। আর সরকারি দলকে মনে রাখতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলে সরকারের তেমন কিছুই আসে যায় না। সুতরাং গণতন্ত্রের স্বার্থে সবার মধ্যে শুভবোধ জাগ্রত হোক।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়