ড.-রাহমান-নাসির-উদ্দিন

‘মূল্যবোধের অবক্ষয়’ নিয়ে কিছু খুচরা চিন্তা!

আগের সংবাদ

টি-টোয়েন্টিতে নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে চলেছে ক্রিকেট বিশ্ব

পরের সংবাদ

জাতীয় পরিচয়পত্রে ভোগান্তি শেষ হচ্ছে না

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২১ , ২:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০২১ , ২:১৩ পূর্বাহ্ণ

দেশে বর্তমানে ১০ কোটির বেশি ভোটার রয়েছে। লক্ষ্য ছিল, সব ভোটারের হাতে স্মার্টকার্ড তুলে দেয়া। কিন্তু স্মার্টকার্ড পেয়েছেন মাত্র ৫ কোটির কাছাকাছি ভোটার। বাকিরা লেমিনেটেডে এনআইডি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যারা স্মার্টকার্ড পেয়েছেন অধিকাংশ আবার ভুলে ভরা। জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ড দৈনন্দিন জীবনে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু অনেক কার্ডে তথ্য ভুল থাকায় সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, পরিচয়পত্রে ভুল থাকায় চাকরি হচ্ছে না, কেউ বেতন পাচ্ছেন না, কেউবা ব্যাংকের নিয়মের গ্যাঁড়াকলে পড়ে টাকা উত্তোলন করতে পারছেন না। পরিচয়পত্রে ভুল থাকায় অনেক হতদরিদ্র ভিজিএফসহ বিভিন্ন ত্রাণ নিতে পারছেন না। এ রকম অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই ভুলের জন্য ইসির কর্মীরাই দায়ী। তাদের ভুলের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের। কার্ডের তথ্য সংশোধনের জন্য গুনতে হচ্ছে টাকা। সঙ্গে ভোগান্তি তো আছেই। কার্ড সংশোধনে মাসের পর মাস ও অনেক ক্ষেত্রে বছরও লেগে যাচ্ছে। এমন অবস্থার জন্য দায়ী কে? অদক্ষ কর্মী ও দায়িত্বে অবহেলার জন্য এই ভুলের ছড়াছড়ি। যখন জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয় তখন ইসির অদক্ষ কর্মীরা তথ্য সংরক্ষণে যে ভুল করেছেন তার কারণে আজকে নাগরিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভোগান্তি দূর করতে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয় জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তির সেবা কার্যক্রম। ভোটার জাতীয় পরিচয়পত্রের সংশোধন, হারানো কার্ড উত্তোলন এবং নতুন কার্ড মুদ্রণে উপজেলা অফিস, জেলা অফিস, আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) কার কী ক্ষমতা তাও নির্ধারিত হয় প্রজ্ঞাপনে। তারপরও বিড়ম্বনা কমছে না। গতকাল ভোরের কাগজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ কোটি স্মার্টকার্ড তৈরির জন্য ইসির এনআইডি উইংয়ের সঙ্গে ফ্রান্সের অর্বাথ্রুর চুক্তি হয়। সেখানে ১৮ মাসের মধ্যে ৯ কোটি স্মার্টকার্ড সরবরাহ করার কথা ছিল কোম্পানিটির। কিন্তু কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও তারা কার্ড দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে ফ্রান্সের অর্বাথ্রু কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করতে বাধ্য হয় ইসি, মামলাও হয়। এরপর সরকারি অর্থায়নে নিজেরাই স্মার্টকার্ড তৈরির প্রকল্প হাতে নেয় ইসি। কয়েক দফা প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়, যা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। ইসি বলছে, এ পর্যন্ত ৬ কোটি ১০ লাখ কার্ড পার্সোনালাইজ করা হয়েছে। এর মধ্যে জনগণের কাছে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার কার্ড। আর ৫ কোটি ৪০ লাখ কার্ড এখনো প্রস্তুত করা হয়নি। ২০২৫ সাল নাগাদ আরো প্রায় ৪ কোটির মতো ভোটার যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে ১০-১৭ বছর বয়সিদেরও স্মার্টকার্ড দেবে ইসি। সেই হিসেবে এ সময়ের মধ্যে আরো প্রায় ১০ কোটির মতো স্মার্টকার্ড তৈরি ও বিতরণ করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র এখন জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ হয়ে পড়েছে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও এনআইডি প্রয়োজন। ভুলত্রæটি সংশোধন করে স্মার্টকার্ড বিতরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হতে হবে। সাধারণ নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়