বিনা ভোটে রেকর্ড সংখ্যক ইউপি চেয়ারম্যান

আগের সংবাদ

বৈশ্বিক মানবতার স্বার্থে দৃঢ় অংশীদারিত্বের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

পরের সংবাদ

অলক কাপালির কলাম: বোলারদের ব্যর্থতায় পাকিস্তানের বিদায়ঘণ্টা বেজেছে

প্রকাশিত: নভেম্বর ১২, ২০২১ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০২১ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ক্রিকেট অনুরাগীরা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবে। ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ডের ম্যাচটিও অনেক দিন দর্শকদের চোখের সামনে ভাসবে। এবার বিশ্বকাপের দুইটি সেমিফাইনাল ম্যাচ ছিল উপভোগ্য। সমর্থকরা এমন ম্যাচই দেখতে আগ্রহী। ১৭৬ রান করে পাকিস্তান এবং ১৬৬ রান করে হেরেছে ইংল্যান্ড।

এবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানের শুরুটা দুর্দান্ত হলেও সমাপ্তিটা মোটেও ভালো হয়নি। পাকিস্তান কী কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরেছে তা নিয়ে চলছে নানা অনুসন্ধান। যে বোলাররা পাকিস্তানের ভরসার কেন্দ্রবিন্দু তারাই সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাজে বল করেছেন। শাহিন আফ্রিদি শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চকে আউট করে আশার আলো দেখালেও তার চতুর্থ এবং দলের ১৯তম ওভারে ম্যাথু ওয়েড ৩ ছক্কা হাঁকিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ফাইনালের টিকেট এনে দেন। আফ্রিদি ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়েছেন। আরেক পেসার হাসান আলী ৪ ওভারে দিয়েছেন ৪৪ রান। এখানে ৩০-৩৫ হলে ঠিক ছিল। তৃতীয় পেসার হারিস রউফ ৩ ওভারে দিয়েছেন ৩২ রান। পাকিস্তানের পেসাররা যদি একটু সতর্ক হয়ে বোলিং করত তাহলে ম্যাচের ফলাফল অন্য রকম হতে পারত। পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম ৬ জন বোলার ব্যবহার করেও ম্যাচ বের করে আনতে পারেননি। স্পিনার শাদাব খান ছিলেন একমাত্র সফল বোলার। তিনি ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে তোলে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

ম্যাচে টস ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ বিশ্বকাপে আমরা দেখেছি পরে যারা ব্যাট করে তারা রান চেজ করে জিতেছে। পাকিস্তান ১৭৬ রান করেছে, এখানে ১৯০ হলেও অস্ট্রেলিয়া চেজ করে জিতত। পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই উইকেট হারালেও অজি ব্যাটসম্যানরা রানের চাকা সচল রেখেছে সব সময়। উইকেট কয়টি পড়েছে তা নিয়ে তারা ভাবেনি। স্ট্রাইক রেট ঠিক রেখেছে তারা। ব্যাটসম্যানরা নিজেদের দায়িত্ব পালনে ছিল সচেষ্ট।

হাসান আলী ম্যাথু ওয়েডের ক্যাচটি লুফে নিতে পারলে ম্যাচের চেহারা অন্য রকম হতে পারত। মিড উইকেটে বল উড়িয়ে মারেন ম্যাথু ওয়েড, হাসান আলী দ্রুত দৌড়ে এলেন, হাত ফসকে গেল বল। তারপর টানা তিন ছক্কায় এক ওভার হাতে রেখে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন ওয়েড। ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট ছিল মার্কাস স্টয়নিস ও ম্যাথু ওয়েডের পার্টনারশিপ। স্টয়নিস আর ওয়েড ষষ্ঠ উইকেটে ৪১ বলে ৮১ রানের অপরাজিত জুটি গড়েন। যাতে ১৭ বলে ৪১ রানের ঝড় তুলে ম্যাচসেরা ওয়েড। স্টয়নিস অপরাজিত ৩১ বলে ৪০ রানে। এর আগে ডেভিড ওয়ার্নারই হয়তো ম্যাচটা শেষ করে দিয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু তিনি সেটি পারেননি, নিজের বড় এক ভুলে। আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নেননি, আউট না হওয়া সত্ত্বেও ভুল ভেবে ডাগআউটের দিকে হাঁটা দিয়েছিলেন। পরে টিভি রিপ্লেতে পুরো ব্যাপারটি ধরা পড়ার পর সবাইকে অবাক করেছে।

ওয়ার্নার নিজেও হয়তো নিজের বোকামিতে ভেতরে ভেতরে আক্ষেপের আগুনে পুড়ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত ম্যাথু ওয়েড আর মার্কাস স্টয়নিসের বীরত্বে জয়টা না পেলে হয়তো নিজেকে কোনো দিনই ক্ষমা করতে পারতেন না তিনি।

আর- এস / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়