কোহলির মেয়েকে ধর্ষণের হুমকিদাতা গ্রেপ্তার

আগের সংবাদ

তারুণ্যের যুবলীগের ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

পরের সংবাদ

ইংল্যান্ডের স্বপ্ন চুরমার করে ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২১ , ১১:৪৪ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০২১ , ১১:৪৭ অপরাহ্ণ

দাপুটে জয়ে প্রথম সেমিফাইনালে বুধবার ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিল নিউজিল্যান্ড। ৫.১ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১০৭ রান তোলে দল যখন চাপে তখন পঞ্চম উইকেটে জিমি নিশাম ও ড্যারেল মিচেল হাল ধরলে ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে কিউইরা। এ জুটি ৪০ রানের পাটনার শিপ গড়ে তোলেন। ১৮ বলে ৩৪ রান প্রয়োজন এসময় আদিল রশিদের বলে জিমি নিশাম ইয়ান মরগানের হাতে ক্যাচ গিয়ে সাজ ঘরে ফিরলে ড্যারেল মিচেল ইংলিশ বোলারদের উপর আক্রমন চালিয়ে যেতে থাকেন। কিউই ওপেনার মিচেল শেষ পর্যন্ত ম্যাচ বের করে নেন। ওপেনার ড্যারেল মিচেল ৪৮ বলে পরাজিত ৭৩ রানের ইনিংস খেলে দলকে ফাইনালে টিকেট এনে দেন। এ জয়ের মধ্যে দিয়ে দুই বিশ্বকাপে স্বপ্ন ভঙ্গের বদলা নিল নিউজিল্যান্ড।

ভারতের মাটিতে ২০১৬ সালের ষষ্ঠ আসরের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরে বিদায় নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। ম্যাচ জিতলে ফাইনালে আর হারলে বিদায়। টস থেকে শুরু করে কোথাও ভুল করা চলবে না। আবুধাবিতে বুধবার বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড। ইংলিশ ব্যাটসম্যান মইন আলী ৫১ রানে এবং অধিনায়ক ইয়ন মরগান ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মঈন আলী বুধবার নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন। কিউই বোলারদের মধ্য সাউদি, মিলনে, সোধি ও নিশাম একটি করে উইকেট তুলে নেন। ফাইনালের টিকিট পেতে নিউজিল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৬৫ রান।

এর আগে টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরুটা ভালোই ছিল ইংল্যান্ডের। দুই ওপেনার জশ বাটলার ও জনি বেয়ারস্টোরের জুটিতে প্রথম ৫ ওভারে ৩৭ রান তুলতে সক্ষম হন। বাটলার হাত খুলে খেলতে থাকলেও বেয়ারস্টো বারবার কিউই বোলারদের লাইন মিস করছিলেন। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে বল করতে এসেই দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অ্যাডাম মিলনে। তার শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে বেয়ারস্টোর ব্যাট থেকে ১৭ বলে আসে ১৩ রান। ইনিংসে দুটি চার হাঁকান তিনি।

দলীয় ৫৩ রানে ইংলিশরা হারায় দ্বিতীয় উইকেট। কিউই স্পিনার ইশ সোধির বলে লাইন মিস করে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়েন হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান বাটলার। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ নিয়ে লাভ হয়নি, সাজঘরে ফিরতে হয় ২৪ বলে ২৯ রান করে। তার ইনিংসে কোনো ছক্কার মার না থাকলেও ৪টি চারের মার ছিল। দলীয় ৬২ রানে সাজঘরের পথ ধরতে পারতেন আরেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান ডেভিড মালানও। ইনিংসের ১০তম ওভারে জেমস নিশামের বল ব্যাটের কানায় লেগে উইকেটরক্ষক ডেভন কনওয়ের গ্লাভস ছুঁয়ে বের হয়ে যায়। প্রাণ পেয়ে মইন আলীকে নিয়ে দলের হাল ধরার চেষ্টা করেন মালান। দলীয় ৯৮ রানে আরেকটি জীবন পান মালান। এবার বোলার মিলনে ক্যাচ মিস করেন। তবে জোরালো শট থাকায় তা তালুবন্দি করা কঠিন ব্যাপার ছিল। দুই ব্যাটসম্যানের হাত ধরে ১৪ ওভারে ১০০ রানের ঘরে পৌঁছায় ইংল্যান্ড। কিন্তু বলের তুলনায় রানের গতি ঠিক মানানসই ছিল না ইংল্যান্ডের স্কোরবোর্ডে। তাই হাত খুলে ব্যাট চালানোর চেষ্টা চালান দুই ব্যাটসম্যান। ১৬তম ওভারের প্রথম বলে টিম সাউদিকে ছক্কা হাঁকানোর পর দ্বিতীয় বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়েন মালান। মারতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে উইকেটরক্ষকের গ্ল্যাভসবন্দি হন তিনি।

সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ বলে ৪১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তার ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কার মার ছিল। তার বিদায়ের পর দলের হাল ধরার চেষ্টা চালান মঈন আলী। অন্যদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তুলতে থাকেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ইনিংসের শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে লিভিংস্টোনকে সাজঘরে ফেরান জেমস নিশাম। তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারিতে মিচেল স্যান্টারের তালুবন্দি হন তিনি। একটি চার ও একটি ছক্কার সাহায্য ১০ বলে ১৭ রান আসে তার ব্যাট থেকে। অন্যদিকে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে চলতি বিশ্বকাপে প্রথম অর্ধশতক হাঁকান মঈন আলী। ৩ বাউন্ডারি ও ২ ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৭ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। অন্যপ্রান্তে ২ বলে ৪ রানে অপরাজিত ছিলেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান ইয়ন মরগান। কিউই বোলারদের মধ্যে টিম সাউদি, অ্যাডাম মিলনে, ইশ সোধি ও জেমস নিশাম এক টি করে উইকেট তুলে নেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়