সাবরিনা-আরিফের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ ৮ ডিসেম্বর

আগের সংবাদ

করোনায় আরও ২ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৩৫

পরের সংবাদ

আবারও উঁকি দিয়েছে কাঞ্চনজঙ্ঘা

প্রকাশিত: নভেম্বর ১০, ২০২১ , ৫:২৬ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০২১ , ৫:২৬ অপরাহ্ণ

‘হিমালয়কন্যা’ খ্যাত দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা পঞ্চগড়ের বিভিন্ন দিক থেকে আবারও উঁকি দিয়েছে পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘা। গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় ভারতের সিকিম ও নেপাল সীমান্তে অবস্থিত পৃথিবীর অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতিচ্ছবি কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলছে। চোখ জুড়ানো সৌন্দর্য মেলে ধরে কাঞ্চনজঙ্ঘা যেন দুই হাত বাড়িয়ে প্রকৃতিপ্রেমীদের বলছে- আয়, আয়।

সূর্যের লাল আভা কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়ায় আসার সঙ্গে সঙ্গে যেন আকাশ রক্তিম হয়ে উঠেছে। মনে হয় কেউ যেন নববধূর কপালে সিঁদুরের আঁচড় দিয়েছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ক্ষণে ক্ষণে রূপ বদলায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। সূর্যদোয়ের পরে থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এবং বিকেল চারটা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা ভালোভাবে দেখা যায়। তবে এ নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখার উপযুক্ত স্থান হচ্ছে তেতুঁলিয়া ডাকবাংলো। চায়ের কাপ হাতে নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আলাদা অনুভূতি কাজ করে দর্শনার্থীদের।

এর আগে চলতি বছরের ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেছিল। আকাশ মেঘমুক্ত না থাকায় এরপর আর দেখা মেলেনি তার। বুধবার ভোর থেকে আবার চোখের সামনে এ অপরূপ দৃশ্য স্পষ্ট ভেসে উঠেছে। বিগত বছরগুলোতে অক্টোবরের শুরু থেকে এমন দৃশ্য দেখা যেত। চলতি বছর সেপ্টেম্বরেই আকস্মিকভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দেওয়ায় মূলধারার গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

প্রতি বছর শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেশ-বিদেশের দর্শনার্থীরা তেঁতুলিয়ায় আসতে শুরু করেন। কিন্তু মেঘের কারণে তা না দেখতে পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান। গত কয়েকদিন থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা দেওয়ায় তা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকে তেঁতুলিয়ার সরকারি-বেসরকারি সব রেস্ট হাউজ ও হোটেলগুলো অগ্রিম বুকিং শুরু হয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহনীয় সৌন্দর্য উপভোগ করেন স্থানীয়রা। এবারও তারাই প্রথম দর্শন করেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। শীতকাল ও কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করতে নভেম্বর-ডিসেম্বরে দেশ-বিদেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিড় করেন তেঁতুলিয়ায়।

আশরাফুল ইসলাম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, মেঘমুক্ত আকাশে ভোর থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্য দেখা যায়। জেলার সব স্থান থেকেই এ দৃশ্য খালি চোখে দেখা যায়। তবে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো সংলগ্ন সীমান্ত নদী মহানন্দার তীর এবং শালবাহান ও বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো থেকে সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। মঙ্গলবার ভোর থেকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা।

রংপুর কারমাইকেল কলেজের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান জানান, ভোরের আকাশে কালচে, এরপর শুভ্র বরফের সর্বশেষ সোনালী বর্ণের কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য সব আমাদের আনন্দ দেয়। পাশাপাশি সূর্যাস্তের সময় নানা বর্ণের কাঞ্চনজঙ্ঘা সকলকে মুগ্ধ করে। এক কথায় নিজের চোখে না দেখলে এর সৌন্দর্য বর্ণনা করার মতো নয়।

তেতুঁলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, প্রতি বছরই অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখের পর থেকে ডিসেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলত। এবার সেপ্টেম্বরে তিন-চারদিন দেখা দিয়েছিল। এরপর থেকে আকাশে মেঘ থাকার কারণে আর দেখা মেলেনি। তবে গত কয়েকদিন ধরে আকাশ মেঘমুক্ত থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে স্পষ্টভাবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাচ্ছে।

আর- এএসএমআর / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়