বাংলাদেশিদের জন্য দ্বার খুলল দক্ষিণ কোরিয়া

আগের সংবাদ

আলোচিত-সমালোচিত পরী মনি

পরের সংবাদ

ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল বুধবার

প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২১ , ১০:০৯ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০২১ , ১০:২২ অপরাহ্ণ

অন্তিম মুহূর্তে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর। আগামী ১৪ নভেম্বর দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এবারের আসরের। তার আগে সেমিফাইনালের প্রথম ম্যাচে বুধবার আবুধাবিতে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড। এর আগে ষষ্ঠ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই দল পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল। সে যাত্রায় ৭ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে ব্ল্যাক ক্যাপসদের আসর থেকে বিদায় করেছিল ইংলিশরা। তাছাড়া গত ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালেও তাদের বিপক্ষে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করেছিল কেন উইলিয়ামসনরা। এবার তাদের হারিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে যাওয়ার পথ খুঁজছে কিউইরা।

নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে পাঁচবার। সে পরিসংখ্যানে অবশ্য এগিয়ে ইংল্যান্ড। পাঁচ বারের দেখায় তিন বারই জয় পেয়েছে ইংলিশরা। বাকি দুই দেখায় জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড। বিশ্বকাপে দুই দলের প্রথম দেখা ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডার্বানে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। কিউইরা সে ম্যাচে জয় পায় ৫ রানের ব্যবধানে। পরের আসর, ২০১০ সালে ফের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়। কিউইদের ৩ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে সে ম্যাচে জয় তুলে নেয় ইংলিশরা। পরের আসর ২০১২ সালেও আধিপত্য ধরে রাখে ইংল্যান্ড। শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলেতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ১৪৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৭ বল হাতে রেখেই ৬ উইকেটের জয় তুলে নেয় ইংলিশরা।

এরপর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে ৯ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় কিউইরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুই দল গ্রুপ পর্বের বাইরে প্রথমবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ২০১৬ সালে। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে কিউইরা নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান তুলে নেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অনবদ্য ৭৮ রানের ইনিংসে ১৭ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড। এবার তারা আবার সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পরস্পরের। আগের আসরের ক্ষোভ মিটিয়ে এবার কেন উইলিয়ামসনরা চাইবেন ফাইনালে যাত্রা করতে। তবে পুরো আসরে দুর্দান্ত ইংল্যান্ডও কি সহজে হার মেনে নিবেন?

বিশ্বকাপ নিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মধ্যে মোট দেখা হয়েছে ২১ বার। সেখানে অবশ্য এগিয়ে ইংলিশরা। নিউজিল্যান্ডের ৭ জয়ের বিপরীতে ১৩ জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড, বাকি এক ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। এদিকে আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়েও বেশ এগিয়ে মরগানরা। নিউজিল্যান্ড আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান করছে চারে, আর ইংলিশরা আছে শীর্ষস্থানে। তাছাড়া চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ইংলিশরা। পাঁচ ম্যাচের একটিতে হারলেও বাকি চার ম্যাচে জয় তুলে নিয়েছে মরগানের নেতৃত্বাধীন দলটি। টানা চার ম্যাচে তারা হারিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া ও শ্রীলঙ্কাকে। গ্রুপ পর্বের নিয়মরক্ষার ম্যাচে শুধু হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। তার মধ্য উইন্ডিজকে তো একবারের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ৫৫ রানে বধ করে ৬ উইকেটের জয় তুলেছে ইংলিশরা। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছে ২৬ রানের ব্যবধানে। বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেয়েছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তারা হেরেছে ১০ রানের ব্যবধানে।

প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফিরিয়ে ইংলিশ ফিল্ডারদের উল্লাস

এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের অর্জনের খাতায় নেই কোনো ট্রফি। টানা গত দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেও ট্রফি না পাওয়ার আক্ষেপ কিউইরা ঘোচাতে চাইবে চলতি টি-টোয়েন্টি আসরেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে হেরে আসরের শুরুটা ভালো না হলেও ভারতের মতো হট ফেভারিটকে হারিয়ে এখন তারাই অন্যতম হট ফেভারিট দল। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে নিউজিল্যান্ডের বর্তমানে অবস্থান চারে। র‌্যাঙ্কিং পরিসংখ্যান, পারফরম্যান্স, অভিজ্ঞতা সব দিক দিয়ে ইংলিশদের তুলনায় কম যান না নিউজিল্যান্ড। পর পর দুই ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে তারা। যদিও ভাগ্য সহায়ক না হওয়ায় ট্রফি ঘরে তুলতে পারেনি। এবার তাদের অন্যতম লক্ষ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা।

এদিকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হয়তো পেছনে ফিরে গেছে অনেকে। ফ্ল্যাশব্যাক ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনাল। দুঃস্বপ্ন, উদ্বেগ আর অনিদ্রায় ভুগলেও ভুগতে পারেন নিউজিল্যান্ড ভক্তরা। ওইবারের মতো আজ আবুধাবিতে হতে যাওয়া ম্যাচেও যদি টাইব্রেকিংয়ের পুনরাবৃত্তি হয়, তখন কী হবে? ব্ল্যাক ক্যাপ ভক্তরা তো বটেই, গোটা ক্রিকেট বিশ্ব ২০১৯ সালের ১৪ জুলাই বিস্মিত হয়েছিল। ওই দিন ফাইনালে অদ্ভুত ক্রিকেট আইনে নির্ধারণ করা হয় চ্যাম্পিয়নকে। নির্ধারিত ওভার টাই হওয়ার পর সুপার ওভারের সেই ফল নির্ধারণী ১২ বলের খেলাতেও একই রান হয় দুই দলে। কিন্তু বিজয়ী নির্ধারণ করা হয় ৫০ ওভারের ইনিংসে কে কয়টি বাউন্ডারি মেরেছে। এই হিসাবে এগিয়ে থাকায় চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।

প্রহসন নাকি অদ্ভুতূড়ে, কী বলা যায় একে? আবার যদি ইংল্যান্ড-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ টাই হয়, সেই প্রশ্ন উঠতে পারে। যদি নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলা শেষে স্কোর দুই দলের একই থাকে, তখন পুরোনো নিয়মেই হবে সুপার ওভার। যেখানে প্রত্যেক দল ছয় বল করে খেলবে। প্রতিপক্ষ বোলারের বিরুদ্ধে ২ উইকেটে যতটা সম্ভব রান করা যায়, করবে। কিন্তু সুপার ওভারে যদি দুই দলই একই রান করে, তখন? প্রথমবারের মতো ফল যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ সুপার ওভার চলতেই থাকবে। মানে আরো ৬ ওভার করে খেলা হবে। লক্ষ্য তাড়া করে যে সফল হবে, সেই বিজয়ী।

আরো উদ্বিগ্ন ভক্তদের প্রশ্ন থাকতে পারে, সুপার ওভার শুরু হওয়ার পর যদি কোনো কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়? সেক্ষেত্রে সুপার টুয়েলভে যে দল ভালো অবস্থানে ছিল, তারাই যাবে ফাইনালে। শুধু ফাইনালে ম্যাচ বাতিল হলে দুই দলকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এবার একটা বিষয় পরিষ্কার, ২০ ওভারের ম্যাচ শেষে স্কোর সমান থাকলে ফল না হওয়া পর্যন্ত সুপার ওভার চলবে। তবে একটা দুশ্চিন্তার বিষয় হলো, নিউজিল্যান্ড তাদের ইতিহাসে আটবার সুপার ওভারে খেলেছে, হেরে গেছে সাতটি।

রি-এসএস/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়