অতিরিক্ত ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে

আগের সংবাদ

উইন্ডেজ ইলেভেন পাওয়া যাচ্ছে বাংলাদেশে

পরের সংবাদ

বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২১ , ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০২১ , ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত পুরো হলো। থেমে থেমেই স্লোগান ওঠছে ‘শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার’, ‘শেখ হাসিনার জন্য, বাংলাদেশ ধন্য’, ‘শেখ হাসিনার আগমন, শুভেচ্ছা, স্বাগতম’। মুহূর্তেই মনে হলো এ যেন রাজধানী ঢাকার ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা। জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত লন্ডনের ওয়েস্টমিনিস্টারের এলিজাবেথ সেন্টার। ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্ব’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানটি ঘিরে পুরো সেন্টারটি যেন পরিণত হয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছে। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশকে সমৃদ্ধ করে আত্মমর্যাদাশীল করে তোলা আমাদের লক্ষ্য। জনগণের ভাগ্য গড়তে এসেছি। ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে তৃণমূলের উন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য। দেশকে সেভাবেই পরিচালনা করছি। এ সময় দেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রবাসী শিল্পপতিদের দেশে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। একশটি শিল্পাঞ্চলের কথা তুলে ধরে বিনিয়োগে যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার আশ্বাসও দেন তিনি।

বিএনপি-জামায়াতের কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, বিএনপির মানুষের ভাগ্য গড়তে জানে না, লুটতে জানে। তাদের দোসর যুদ্ধাপরাধী জামায়াত যারা একাত্তরে দেশের মানুষ হত্যা, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত।

তাদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে বিএনপি। আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, তবে তাদের ধ্বংসযজ্ঞ থেমে নেই। অগ্নিসন্ত্রাস করে মানুষ খুন করেছে। গাড়ি পুড়িয়েছে, গাছ কেটেছে। বিএনপির নেতৃত্বে কারা রয়েছে প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, যে দলের নেতৃত্বে সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের অস্তিত্ব থাকে কী করে? তাদের দুর্নীতি আমরা ধরিনি। আমেরিকার এফবিআই ধরেছে। তারা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু মনে করে, তাদের অর্থের উৎস কী? জনগণের অর্থ লুট করে বিলাসিতা করে।

জিয়াউর রহমানের স্বৈরশাসন আমলে ক্যু ও সেনাসদস্য হত্যার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর বারবার ক্যু হয়েছে। অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে। জিয়া অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি হয়ে ১৯ বার ক্যু করেছে। অনেকের লাশই খুঁজে পাওয়া যায়নি। ৭ নভেম্বর প্রকৃতপক্ষে সৈনিক হত্যা দিবস বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস বিকৃতি করেছে জিয়া। জাতির পিতার নাম মুছে ফেলতে চেয়েছিল। সত্য চাপা দিতে পারেনি। ইতিহাস বিকৃতিকারীরা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘বাঙালিকে দাবিয়ে রাখতে পারবা না’। বাঙালিকে দাবিয়ে রাখা যায়নি। বাবার আদর্শ বাস্তবায়নে কাজ করছি। দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানই আমার উদ্দেশ্য।

সরকারের উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে। আমাদের লক্ষ্য, প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। ইতোমধ্যে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘর পেয়েছে। কোভিডে প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। ভ্যাকসিন দিচ্ছি বিনা পয়সায়। ২৫ কোটি ডোজ টিকার ব্যবস্থা করেছি। পর্যায়ক্রমে এসব টিকা পৌঁছে যাবে দেশে।

লন্ডনের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আশির দশকে নিজের হাতে ঘুরে ঘুরে সংগঠন গুছিয়েছি। সব সময় প্রবাসীদের পাশে পেয়েছি। প্রত্যাবর্তন দিনটি স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সরকার আমাকে দেশে ফিরতে দিচ্ছিল না। প্লেনে উঠাতে নিষেধ করে দিয়েছিল। সে সময় আমেরিকা থেকে লন্ডনে এসে অনেক কষ্টে দেশে ফিরি। আপনারা আমার পাশে ছিলেন। বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের পাশে থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। আইসিটি সেক্টর, কাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে এলে বুঝতে পারবেন না লন্ডনে আছেন নাকি দেশে আছেন।

জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। প্রথমে ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক নীরবতা পালন করা হয়। পরে পবিত্র কুরআন থেকে পাঠ করেন মুফতি নজরুল ইসলাম। গীতা পাঠ করেন ডা. বিশ্বজিৎ, বাইবেল পাঠ করেন মিল্টন কস্টা, ত্রিপিটক পাঠ করেন এডভোকেট দীপক বড়ুয়া। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজেদুর রহমান ফারুকের পরিচালনায় বক্তব্য দেন- সিনিয়র সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, সহসভাপতি আবুল হাশেম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আহাদ চৌধুরী ও মহিলাবিষয়ক সম্পাদক মেহের নিগার চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগে যুগ্ম সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান, শামীমা শাহরিয়ার, পারভীন হক সিকদার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জিয়া-মোশতাকের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন। এছাড়া একমাসের মধ্যে সংসদ ভবন এলাকা থেকে জিয়ার ভুয়া কবর সরানো, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে দণ্ড কার্যকর করা ও ঢাকা-সিলেট বুলেট ট্রেন চালু করার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দাবি জানানোর প্রয়োজন নেই। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রবাসীদের যথাযথ সেবা দিন : এদিকে প্রবাসীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করে তাদের সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য দূতাবাস কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিধির সঙ্গে সম্মিলন ঘটিয়ে দেশকে কীভাবে আরো এগিয়ে নেয়া যায়, সেই বিষয়েও ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি। লন্ডন সফররত প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভবনের নতুন সম্প্রসারিত অংশ এবং বঙ্গবন্ধু লাউঞ্জ উদ্বোধনকালে এই নির্দেশ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যারা প্রবাসে আছেন, তারা সবসময় দেশের জন্য অবদান রেখে যাচ্ছেন। যে দেশে থাকেন সেই দেশের এবং আমাদের বাংলাদেশ উভয় দেশেই আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিরাট অবদান রাখেন প্রবাসীরা। কাজেই প্রবাসীদের যথাযথ সেবা দেয়া, তাদের সমস্যাগুলো দেখা, তাদের দিকে নজর দেয়া দরকার।

দেশের ব্যবসা সম্প্রসারণের দিকে কূটনীতিকদের মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান যুগে আসলে আমাদের কূটনীতিটা শুধু রাজনৈতিক কূটনীতি নয়, এটা অর্থনৈতিক কূটনীতিতে পরিণত হয়েছে। সেখানে আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ কীভাবে হবে, কীভাবে আমরা দেশকে আরো উন্নত করতে পারব, তার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিধির সম্মিলন ঘটানো সেটাও একটা বিশেষ দিক।

সরকারপ্রধান বলেন, কূটনীতিকদের দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে তুলে ধরা, বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। এর পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আমাদের রপ্তানি কীভাবে বাড়াতে পারি, বিনিয়োগ কীভাবে বাড়াতে পারি, দেশের আর্থসামাজিক উন্নতি কীভাবে হতে পারে, দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে অবদান কীভাবে রাখা যেতে পারে, সেই বিষয়টিও বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে সারাবিশে^র সঙ্গে এখন বাংলাদেশের অত্যন্ত সুসম্পর্ক চলছে মন্তব্য করে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, আজকে জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে তারই নির্দেশিত পদাঙ্ক অনুসরণ করে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আর এই মর্যাদা ধরে রেখেই আমরা বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব বলে আশা করি।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ডি-এফবি

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়