সৌদিতে সাড়ে ১৫ হাজার অভিবাসী আটক

আগের সংবাদ

সড়কে মৃত্যুমিছিল দায় কার?

পরের সংবাদ

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জরুরি উদ্যোগ নিন

প্রকাশিত: নভেম্বর ৮, ২০২১ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৮, ২০২১ , ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ

করোনা সংক্রমণের ভয়াবহতা হ্রাস পাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিন্তু এর মধ্যে ডেঙ্গুজ্বরের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা নতুন করে বেড়েছে। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু প্রতিরোধে আগাম কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ না নেয়ায় আজকের এই পরিস্থিতি। গত শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩৮ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১০৪ জন। ঢাকার বাইরে এ সংখ্যা ৩৪ জন। দিন যতই যাচ্ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ ততই প্রকট হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে আক্রান্তের মধ্যে শিশু রোগী বাড়ছে। অনেক শিশু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। অনেকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতেও নিতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ১০৩, বৃহস্পতিবার ১৫৭, বুধবার ১৭৭, মঙ্গলবার ১৪২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। চলতি বছরের ৬ নভেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৫১৮ জন। মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ২৩ হাজার ৭০৩ জন। করোনা সংকটে ডেঙ্গুর বিষয়টি অনেকটা ঢিলেঢালা ছিল। ঢিলেঢালা পরিস্থিতি হলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে অনেক মানুষের প্রাণহানির শঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। এখনই মশক নিধনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া না হলে ডেঙ্গু ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। দুই বছর আগে দেশে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে ডেঙ্গু রোগে তখন ১৭৯ জনের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা বলছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া অনুসরণ ও জনসচেতনতা সৃষ্টি হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। এখনো ডেঙ্গুজ্বরের কোনো প্রতিষেধক বের করতে পারেনি সরকার। ডেঙ্গু থেকে রেহাই পেতে হলে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আইইডিসিআরের তথ্য মতে, সাধারণত জুন-জুলাই থেকে শুরু করে অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ডেঙ্গুর বিস্তার থাকে। সাধারণত মশক নিধন কার্যক্রমের স্থবিরতা, গাইডলাইনের অভাব এবং মানুষের অসচেতনতাই ডেঙ্গুর প্রকোপের জন্য দায়ী। হঠাৎ থেমে থেমে স্বল্পমেয়াদি বৃষ্টিতে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার লার্ভা খুব বেশি মাত্রায় প্রজনন সক্ষমতা পায়। ফলে এডিস মশার বিস্তারও ঘটে বেশি। এ মশা যত বেশি হবে ডেঙ্গুর হারও তত বাড়বে। উৎস বন্ধ না করতে পারলে ডেঙ্গুর ঝুঁকি থেকেই যাবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু চোখ রাঙালেও, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে করপোরেশনের তৎপরতা এখনো আগের মতোই। যদিও ঢাকা সিটির দুই মেয়র ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালাচ্ছেন বলে দাবি করছেন। গত বছর এডিস মশা নিয়ে সিটি করপোরেশন তৎপরতা দেখালেও, এ বছর তৎপরতা নামেমাত্র। ফলে ক্রমেই মশার বিস্তার বাড়ছে। আমরা দুই মেয়রের বক্তব্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চাই। প্রথমত, সবখানে মশা নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এডিস মশা নিধন এবং এডিসের বংশবিস্তার রোধে জোরদার অভিযান পরিচালনা করবে। ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার। পরীক্ষা ও চিকিৎসার পরিসর শুধু বাড়ানোই নয়, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় গভীর মনোযোগ দিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়