বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতা হত্যা এবং সাত নভেম্বর একই সুতায় গাঁথা

আগের সংবাদ

জেলায় জেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, দ্বন্দ্বে স্থবির সংগঠন

পরের সংবাদ

৫ শ্রমিক পুড়ে অঙ্গার : পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন কখন সরবে?

প্রকাশিত: নভেম্বর ৭, ২০২১ , ১:২৭ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৭, ২০২১ , ১:২৭ পূর্বাহ্ণ

পুরান ঢাকায় ফের আগুন ট্র্যাজেডি। গত বৃহস্পতিবার সোয়ারীঘাটের কামালবাগে একটি জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ শ্রমিক পুড়ে অঙ্গার হয়ে গেছেন। ফায়ার সার্ভিস জানায়, কারখানাটির ভেতরে রাখা রাসায়নিক (কেমিক্যাল) থেকে আগুনের সূত্রপাত। এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা নিহত শ্রমিক পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। খবরে প্রকাশ, অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই কারখানায় ঘুমিয়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন শ্রমিক। কারখানার লোহার ফটকটি ছিল বন্ধ। কিছু শ্রমিক বের হয়ে আসেন। পাঁচজন বের হওয়ার সুযোগ পাননি। আগুন নেভানোর পর যখন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা তাদের উদ্ধার করেন, তখন পাঁচজনই পুড়ে অঙ্গার। উদ্ধার কর্মীরা বলেছেন, কারখানার দোতলা ভবনের নিচতলার ওপরের অংশে পাটাতন দিয়ে শ্রমিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে আগুন নেভানোর কোনো ব্যবস্থাই ছিল না। সে সঙ্গে নিচতলায় রাসায়নিকের ড্রাম ও রাবার জাতীয় দ্রব্য মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এর আগে ২০১০ সালের ৩ জুন নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ১২৪ জন, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারের চুড়িহাট্টা অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন ৭১ জন। দেশে বিভিন্ন কলকারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনা বাড়লেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও দায়িত্বশীলদের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। নিমতলী ট্র্যাজেডিকে ‘ওয়েকআপ কল’ হিসেবে নিতে যখন প্রশাসন ব্যর্থ হলো, তখনই চুড়িহাট্টায় তার বেদনাদায়ক পুনরাবৃত্তি ঘটল। আমাদের মনে আছে, নিমতলীর ঘটনার পর কেমিক্যাল গোডাউনের বিরুদ্ধে কিছুদিন দৌড়ঝাঁপ হওয়ার পর তা আবার থেমে যায়। আমরা দেখেছি, চকবাজারের চুড়িহাট্টার অগ্নিকাণ্ডের পর কারণ অনুসন্ধানে সে সময় গঠিত একাধিক সংস্থা তদন্ত প্রতিবেদনে কয়েকটি জরুরি সুপারিশ করে। এর মধ্যে দাহ্য পদার্থের গোডাউন সরানো, পুরান ঢাকার সরু রাস্তায় মানুষ ও যান চলাচলে অযোগ্য হওয়ায় সেখানকার বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে অন্যত্র সরিয়ে পরিকল্পিত নগরায়নে পদক্ষেপ নেয়া, গ্যাস-বিদ্যুৎ-পানি-টেলিফোন লাইনের যথাযথ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। কিন্তু এসবের প্রায় কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি! এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন না হলে পুরান ঢাকার ট্র্যাজেডি কোনোভাবেই রোধ করা সম্ভব হবে না। আমাদের দেশে কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থাকে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের মুনাফার দিকে যতটা মনোযোগ থাকে, নিরাপত্তার দিকে তারা ততটাই উদাসীন থাকেন। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি। দেশে শিল্পায়নের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিল্প খাতে নিরাপদ কর্মপরিবেশের বিষয়টিতে যথাযথ গুরুত্ব দিতে না পারলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কারখানা সংস্কার, বিস্ফোরণ এবং অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে শিল্প মালিক-শ্রমিক সবাই লাভবান হবেন। কলকারখানা পরিদর্শন অধিদপ্তর, শিল্প মালিক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা যেন নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। সোয়ারীঘাটের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কাদের গাফিলতি কাজ করেছে তা শনাক্ত করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়