এএসপি আনিসুল হত্যা মামলার আসামির মৃত্যু

আগের সংবাদ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজাদপুরবাসীর দুঃখ

পরের সংবাদ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি নয়জনস্বার্থ রক্ষায় সরকার বিবেচনা করুন

প্রকাশিত: নভেম্বর ৬, ২০২১ , ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৬, ২০২১ , ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে পরিবহন ভাড়ার ন্যায্যতা নিয়ে ধর্মঘটও চলছে। এছাড়া কৃষিতে সেচ, সার, বেসরকারি খাতে উৎপাদিত বিদ্যুতের খরচও বৃদ্ধি পাবে। কমবে টাকার মান, বাড়বে মূল্যস্ফীতির হার। যার প্রভাবে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত চাপের মুখে পড়বে। তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। সরকার অপেক্ষা করতে পারত। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের এখানে ভাবনার সুযোগ ছিল। বাজারে এখন নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এ অবস্থায় জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জানা গেছে, ডিজেল ও কেরোসিনের মূল্য প্রতি লিটারে ভোক্তা পর্যায়ে ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়েছে। নতুন দাম গত বুধবার থেকে কার্যকর করা হয়। এদিকে গত জুলাই থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা এখন বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯০ ডলারে পৌঁছায়। গত বছর এপ্রিলে দাম সর্বনিম্ন ২০ ডলারে নেমে গিয়েছিল। এদিকে দেশে জ্বালানি তেলের দাম এমন সময় বাড়ানো হলো, যখন ভারতে দাম কমানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক দরও নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৯০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এর আগে সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম কমানো হয়েছিল। সেই সময় ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৩ টাকা কমিয়ে ৬৮ টাকা থেকে ৬৫ টাকা করা হয়। তার আগে ২০১৩ সালে প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ছিল ৬৮ টাকা। এর আগে ২০১২ সালে ছিল ৬৩ টাকা। ২০১১ সালে ৪ দফা দাম বাড়ানো হয়। তখন এই দুই পণ্যের দাম ছিল ৬১ টাকা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, গত কয়েক বছর ধরে তেল বিক্রি করে সরকার যে লাভ করেছে, সেই টাকা কোথায় গেল? তাছাড়া পেট্রল ও অকটেন এখন আর আমদানি করতে হয় না। দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের উপজাত হিসেবে পাওয়া ‘কনডেনসেট’ দেশেই পরিশোধন ও প্রক্রিয়াকরণ করে তৈরি হচ্ছে পেট্রল ও অকটেন, যা দিয়ে দেশের পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এই পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করেও মুনাফা করছে সরকার। কাজেই সরকারের উচিত জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে আর্থিক চাপ কমানোর বিকল্প চিন্তা করা। করোনা মহামারি মোকাবিলায় লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন দেশের গণপরিবহন বন্ধ ছিল। পরিবহন মালিকরা লোকসান গুনেছেন। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। এই মুহূর্তে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে গণপরিবহনে ভাড়া নিয়ে অস্থিরতা দেখা দেবে। সর্বোপরি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জায়গাটা দুর্বল এবং আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে দেখা দেবে। সরকার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়