শেষটি রাঙিয়ে বিদায় নিলেন আজগর আফগান

আগের সংবাদ

১০ হাজার টাকায় ভর্তি পরীক্ষায় প্রক্সি, ধরা খেলেন বিসিএস পরীক্ষার্থী

পরের সংবাদ

লঙ্কানদের সামনে অপ্রতিরোধ্য মরগান বাহিনী

প্রকাশিত: নভেম্বর ১, ২০২১ , ১:১১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১, ২০২১ , ১:১১ পূর্বাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চলতি আসরে দুর্দান্ত খেলছে ইংল্যান্ড। সুপার টুয়েলভের প্রথম তিন ম্যাচে জিতে সেমিফাইনালের পথে এক ধাপ এগিয়ে ইয়ন মরগানরা। অন্যদিকে বাংলাদেশকে হারিয়ে উড়ন্ত সূচনা করলেও পরের দুই ম্যাচ হেরে সেমিফাইনালের স্বপ্ন ধূসর প্রায় শ্রীলঙ্কার। সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় সোমবার (১ নভেম্বর) রাত আটটায় ইংলিশদের মোকাবেলায় মাঠে নামবে লঙ্কানরা।

চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ-১ এ অপরাজিত দল ইংল্যান্ড। প্রথম ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র ৫৫ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে তারা জয় তুলে নিয়েছে ৬ উইকেটের ব্যবধানে। দ্বিতীয় ম্যাচে ১২৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশরা ৮ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। তৃতীয় ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়াকে ১২৫ রানে বেঁধে নিয়ে জয় তুলে নেয় ৮ উইকেট ব্যবধানে। টানা তিন ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালের পথ অনেকটা সুগম এখন মরগান বাহিনীর। চতুর্থ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ তারুণ্যনির্ভর দল শ্রীলঙ্কা।

অন্যদিকে বাছাইপর্বে দুর্দান্ত শ্রীলঙ্কা সুপার টুয়েলভের যাত্রাটাও শুরু করেছে অসাধারণ জয় তুলে নিয়ে। মূলপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তারা বাংলাদেশকে হারায় পাঁচ উইকেট ব্যবধানে। এরপর অবশ্য লঙ্কানদের আর উড়তে দেয়নি অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া তাদের বিপক্ষে জয় তুলে নেয় ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে। তৃতীয় ম্যাচে অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালায় দাসুন শানাকা বাহিনী। কিন্তু তাদের মাত্র ১৪৩ রানের লক্ষ্য শেষ পর্যন্ত ১ বল হাতে রেখে টপকে যায় প্রোটিয়ারা। ফলে ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপজয়ীদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ যাত্রা ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

সেমিফাইনালের যাত্রা অটুট রাখতে শারজায় ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই কুমার সাঙ্গাকারার উত্তরসূরিদের।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে চারবার। এর মধ্যে তিনবারই জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। দুই দলের প্রথম দেখা হয় ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বকাপ আসরের সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইংলিশ বোলিং তোপে ১২৮ রানে থেমে যায় লঙ্কানদের ইনিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪ ওভার হাতে রেখেই মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংলিশরা। দ্বিতীয় দেখায় প্রতিশোধ তুলে নিতে ভুল করেনি লঙ্কানরা। নিজেদের ঘরের মাটিতে ইংলিশদের বিপক্ষে ১৯ রানের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় লঙ্কানরা। ১৭০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ইংলিশ ব্যাটিং শিবিরে চির ধরান লঙ্কান ফাস্ট বোলার লাসিথ মালিঙ্গা। ৪ ওভারে ৩১ রানের বিনিময়ে তিনি শিকার করেন ৫ ইংলিশ ব্যাটসম্যানকে। দুই দলের তৃতীয় দেখা ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে। সেবার অবশ্য স্বল্প রানে লঙ্কানদের বেঁধে রাখতে পারেননি ইংলিশ বোলাররা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪ উইকেট হারিয়ে দিলশান ও জয়াবর্ধনের ফিফটিতে ১৮৯ রানের বড় পুঁজি পায় শ্রীলঙ্কা। বড় রানের লক্ষ্য ক্ষীণ হয়ে যায় ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স হেলসের ব্যাটিং তাণ্ডবে। তার ৬৪ বলে ১১৬ রানের অনবদ্য ইনিংসে ৪ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। শেষ দেখায় ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে ১০ রানের জয় তুলে নেয় ইংল্যান্ড।

এদিকে শুধু বিশ্বকাপ আসরে নয়, দুই দলের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে ইংলিশরা। বিশ্বকাপ নিয়ে দুই দল ১২ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্য চারটিতে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা, বাকি ৮ ম্যাচের সবগুলোতে জয় ইংল্যান্ডের। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচারেও বেশ এগিয়ে মরগানরা। চলতি বছরের জুন মাসে দুই দলের মধ্যে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিপক্ষের মাঠে সিরিজের সবগুলো টি-টোয়েন্টিতে হেরে হোয়াটওয়াশ হয়েছিল লঙ্কানরা। প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারে সাঙ্গাকারার উত্তরসূরিরা। পরের দুই ম্যাচেও নিষ্প্রভ শ্রীলঙ্কা। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৫ উইকেট ও তৃতীয়টিতে সফরকারীদের ৮৯ রানের বড় ব্যবধানে হারায় ইংলিশরা। আইসিসি টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়েও বিশাল ব্যবধান দুই দলের মধ্যে। ইংল্যান্ড যেখানে র‌্যাঙ্কিংয়ের সিংহাসন দখল করে আছে, সেখানে শ্রীলঙ্কার অবস্থান র‌্যাঙ্কিংয়ের দশে। সুতরাং র‌্যাঙ্কিং এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিচারে বলা যায় আজকের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার চেয়ে বেশ এগিয়ে ইংল্যান্ড। তা ছাড়া এবারের আসরের হট ফেভারিটদের অন্যতম মরগানরা, অর্থাৎ চলতি বিশ^কাপ আসরের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার দৌড়ে তাদের খুব সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বিশ্বকাপে লঙ্কানদের গত ছয় ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে নতুনদের নিয়ে গড়া দলটিতেও নেই পারফরম্যান্সের ঘাটতি। বাছাইপর্বে তিন ম্যাচের সবগুলোতে জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। সুপার টুয়েলভে এসে বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নেয় তারুণ্যনির্ভর দলটি। তা ছাড়া ম্যাচ ঘোরানোর দারুণ ক্ষমতা আছে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদেরও। চারিথ আসালাঙ্কা ও বানুকা রাজাপাকসে যে কোনো সময় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে পারেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে এই দুই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানের ওপর ভর করে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনায় প্রথমে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও আসালঙ্কার ৪৯ বলে ৮০ রানের অপরাজিত ইনিংস এবং রাজাপাকসের ৩১ বলে ৫৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস বাংলাদেশকে হতাশার সাগরে ডোবায়। তাছাড়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৫৪ রানের লড়াকু ইনিংসেও অবদান ছিল এই দুই হার্ড হিটার ব্যাটসম্যানের। চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আসালাঙ্কার ৮০ রানের ইনিংসটি এখনো সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের ইনিংস। আবার ১৬৯ রান সংগ্রহ করে চলতি আসরে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক লঙ্কান ব্যাটসম্যান পাথুম নিসাঙ্কা।

তবে ঝড় থামানোর ভালো মন্ত্র জানেন ইংলিশ বোলাররাও। ক্রিস ওকস, টাইমাল মিলস, ক্রিস জর্ডানদের বোলিং তোপে ভেস্তে যেতে পারে লঙ্কান ব্যাটিং শিবির। মইন আলী, আদিল রশিদের স্পিন ঘূর্ণিতে কতটা দিশেহারা হতে পারে লঙ্কানরা, তার নজির ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচেই দেখেছিল ক্রিকেট বিশ্ব। সে ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ৫৫ রানের গুঁড়িয়ে দেয়ার দিনে ২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট তুলে নেন আদিল, অন্যদিকে ১৭ রানের বিনিময়ে ২ উইকেট তুলে নেন মইন আলী। আর জশ বাটলার, জেসন রয়দের ব্যাটিং তাণ্ডবে উড়ে যেতে পারে দাসুন শানাকার বোলিং শিবির।

আর- এস / ডি- এইচএ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়