ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্ভাবনা ফিফটি ফিফটি

আগের সংবাদ

মৌলবাদীদের স্থান নেই বাংলাদেশে

পরের সংবাদ

পাকিস্তান সিরিজের আগে ছন্দে ফিরবেন মোস্তাফিজ!

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২১ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০২১ , ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যাওয়ার আগে আশার কথা শুনিয়েছিল বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা। কিন্তু সেগুলোর কিছুই হয়নি। সুপার টুয়েলভের তিনটি ম্যাচে যথাক্রমে শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরে গেছে টাইগাররা। ফলে বিশ্বকাপের সেমিতে যাওয়ার স্বপ্নও শেষ হয়ে গেছে। এখন বাংলাদেশ সুপার টুয়েলভে যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে। দুটো ম্যাচই এখন বাংলাদেশের জন্য নিয়ম রক্ষার ম্যাচ।

এবারের বিশ্বকাপে যেন কিছুতেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না চিরচেনা মোস্তাফিজকে। তিনি সব ম্যাচেই রান দিয়েছেন কিন্তু উইকেটের দেখা পাননি। অথচ মোস্তাফিজ হলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ডেথ বোলার স্পেশালিস্ট। বিশ্বকাপে শুরু হওয়ার আগে আরব আমিরাতে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খেলেন তিনি। আইপিএলেও বেশ ভালো বোলিং করেন ফিজ। আর আইপিএলে তার পারফরম্যান্স দেখে টাইগার সমর্থকরা আশা করেছিল ভালো কিছুই করবে বাংলাদেশ। কিন্তু এখন পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের সেমির আশা যেহেতু শেষ, তাই সুপার টুয়েলভের বাকি দুটি ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরে আসবেন রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা।

বিশ্বকাপে শেষ করে দেশে এসে টাইগাররা তাদের প্রস্তুতি শুরু করবে পাকিস্তান সিরিজের জন্য। আগামী ১৯ নভেম্বর থেকে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি ও দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামবেন রাসেল ডমিঙ্গোর শিষ্যরা। বিশ্বকাপে ভালো করতে না পারায় এখন লক্ষ্য থাকবে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অন্তত ভালো করার চেষ্টা থাকবে টাইগারদের। আর বাংলাদেশের ভালো করতে হলে মোস্তাফিজকে এ সিরিজটিতে জ্বলে উঠতেই হবে। এখন প্রশ্ন হলো মোস্তাফিজ কি জ্বলে উঠতে পারবেন।

বিশ^কাপে মোস্তাফিজের সময়টা একদমই ভালো যায়নি। তিনি ইতোমধ্যেই ভেঙে ফেলেছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক আসরে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হজম করার রেকর্ড। ২০০৭ বিশ্বকাপে ৯টি ছক্কা হজম করেছিলেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান পেস বোলার ও বর্তমান পাকিস্তান বোলিং কোচ ভারনন ফিলান্ডার। চলতি বিশ্বকাপে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই ইতোমধ্যে ১০টি ছক্কা হজম করে ফিলান্ডারকে হটিয়ে এই তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছেন মোস্তাফিজ। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওভারেই দিয়েছিলেন তিনটি ছয়। এর আগে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে ৯টি করে ছয় হজম করেছেন আল আমিন হোসেন, শেন ওয়াটসন, আন্দ্রে রাসেল এবং ব্র্যাড হুইল।

তবে বিশ^কাপ খেলতে যাওয়ার আগে ঘরের মাঠে বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে যে সিরিজ সিরিজ খেলেছিল সেখানে দুর্দান্ত বোলিং করেন মোস্তাফিজ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি হয়েছিলেন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি।

টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে মোস্তাফিজের সময়টা ভালো না গেলেও ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে কাটার মাস্টার ছিলেন দুর্দান্ত। ইংল্যান্ডের মাটিতে হওয়া সে বিশ্বকাপে মাত্র আটটি ম্যাচ খেলে তিনি ২০টি উইকেট শিকার করেছিলেন। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জোফরা আরচারের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার হয়েছিলেন। আরচার মোস্তাফিজের চেয়ে তিনটি ম্যাচ বেশি খেলেছিলেন। মানে সবমিলিয়ে তিনি ১১টি ম্যাচ খেলেছিলেন। কারণ ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল ও ফাইনালও খেলেছিল। মোস্তাফিজও যদি আরচারের সমান ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতেন তাহলে পুরো বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ বোলারও হয়ে যেতে পারতেন তিনি, তার পারফরমেন্স এমনই ছিল। ওই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ২৭টি উইকেট পেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক। তিনি খেলেছিলেন ১০টি ম্যাচ। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১টি উইকেট পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডে লুকি ফার্গুসন। তিনি খেলেছিলেন নয়টি ম্যাচ।

কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপে এসে নিজের সেরাটা তিনি কি কারণে দিতে পারছেন না তা অনেকের কাছে বোধগম্য নয়। মোস্তাফিজ ডেথ বোলার স্পেশালিস্ট হলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি চার ওভার বল করে ৪৩ রান দেন। যা তার নামের সঙ্গে বড্ড বেমানান।

মোস্তাফিজ টি-টোয়েন্টি বিশ^কাপ মিশন শুরু করে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের মাধ্যমে। সে ম্যাচে তিনি ৪০ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। এরপর বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩২ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। স্কটিশদের বিপক্ষে অবশ্য এটিকে ভালো বলা যায় না। নিজের নামের প্রতি মোস্তাফিজ সুবিচার করেন ওমানের বিপক্ষে। এদিন ৩৬ রান দিয়ে তিনি চারটি উইকেট তুলে নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। কিন্তু এরপর টানা তিনটি ম্যাচে উইকেট পাননি তিনি। পাপুয়া নিউগিনির বিপক্ষে ৩৪, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২২ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৩ রান দিয়ে তিনি কোনো উইকেট পাননি।

এদিকে টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ৫৮টি ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফিজ। এসব ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ৮৪টি। এক ম্যাচে ২২ রান খরচায় সর্বোচ্চ পাঁচটি উইকেট তুলে নিয়েছিলেন তিনি। ৫৮টি ম্যাচে ৮৪টি উইকেট নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু বিশ^কাপে এসে যেন খেই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়