মৌলবাদীদের স্থান নেই বাংলাদেশে

আগের সংবাদ

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক চেতনার মর্মই উপলব্ধি করতে হবে

পরের সংবাদ

ক্রিকেট নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমালোচনা হোক

প্রকাশিত: অক্টোবর ৩১, ২০২১ , ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ৩১, ২০২১ , ৬:৩৫ পূর্বাহ্ণ

ক্রিকেট মাঠে তো আমরা কয়েকদিন ধরে হারছিই সঙ্গে সঙ্গে ক্রিকেট দুনিয়ায় মনস্তাত্ত্বিক দিকেও আমাদের পরাজয় অনেক। কিন্তু যে বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের এত আলোচনা ও সমালোচনা এবং এর থেকে বের হতে করণীয় সম্পর্কে যার যার মতো ধারণা পোষণ করা ও তা ছড়িয়ে দেয়া, তা কি সত্যিই সবকিছু অনুকূলে আনতে পেরেছে আমাদের ক্রিকেটে? আমরা বিশ্বকাপের শুরুতে স্কটল্যান্ডের কাছে হারলাম, তারপর দুটো জয়ের পর দুটো হার। আশরাফুল অধিনায়ক থাকা অবস্থায় একটা কথা বলেছিলেন, যখন আমরা জিতি তখন পুরো দেশের সবাই জেতে আর যখন আমরা হারি তখন আমরা ১১ জনই শুধু হারি। এ কথাটি তিনি দায় নেয়ার ক্ষেত্রে বলে থাকবেন হয়তো।
এই যে আক্ষেপের কথাটি এটি কিন্তু একটি পুরো দেশের চিত্র। যখন আমাদের বাংলাদেশ দল পরাজিত হচ্ছে তখন সবাই সরব হয়ে একে নিলে ভালো হতো, ওকে বাদ দিলে ভালো হতো, পুরো টিম এভাবে না হয়ে অন্যভাবে হলে ভালো হতো, অধিনায়ক আরেকজন হলে এটা এরকম নাও হতে পারত এমন সব হাজারো কথা! এই কিছুদিন আগেও অজিদের আমরা চার একে হারিয়ে সিরিজ জিতেছি। তখনই আমাদের স্বপ্ন বেড়েছে। কিন্তু যখন শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এত ভালো রান করেও আমরা পেরে উঠলাম না তখনই পুরো দলের মন ভেঙে গেছে। আমিও ফেসবুকে লিখেছিলাম বাংলাদেশের পক্ষে কেনই যেন আসছে না সব কিছু!
ওই ম্যাচটা হারার কথা নয় কিন্তু হেরে যাওয়ার পর দলের মনস্তাত্ত্বিকতার ওপরও বড় আঘাত এসেছে। আমাদের আগের কর্মঠ অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য একটা কথা বলেছেন যা খুবই কার্যকরী কথা। কোচার মধ্যসময় মাঠে গিয়ে মাহমুদউল্লাহকে কী বলে এসেছিলেন? এমন প্রশ্ন আমারও। ক্রিকেটাররা কি মনস্তাত্ত্বিক সাপোর্ট সাইলোজিক্যাল এক্সপার্টের কাছ থেকে পাচ্ছেন?
ম্যাচ হারার পেছনে কারণ খুঁজে বের করে পরের ম্যাচগুলোতে স্বরূপে ফেরাই এখন কার্যকরী। কিন্তু প্লেয়ারদের নিয়ে যখন এত আলোচনা-সমালোচনা তখন তারা কীভাবে মাঠে ভালো খেলবে? তারা কি ভালো খেলবে না কি মাঠের বাইরের আলোচনা আর সমালোচনাগুলোর কথা ভাববে? ম্যাচ শেষে এভাবে দলকে হেয় প্রতিপন্ন করতে থাকলে বাংলাদেশ ফুটবলের মতো ক্রিকেটও একসময় চাপা পড়ে যেতে পারে ব্যর্থতার তলে।
ক্রিকেট আমাদের আনন্দ দেয় এবং অবশ্যই জিতলেই বেশি আনন্দ দেয়। কিন্তু তাই বলে ক্রিকেটারদের রোবট ভেবে তাদের যাচ্ছে তাই বলে গেলে তারা তো ভালো খেলতে পারবে না। এগুলো সবই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হয়ে তাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে!
বোর্ড সভাপতিরও কথা-বার্তায় আরো সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যে কথাগুলো টকশোর মাধ্যমে টিভি স্ক্রিনে আসছে সেগুলো বলা হোক ক্রিকেট প্রশিক্ষণের সময়। ক্রিকেটকে বাঁচাতে হবে। ক্রিকেটারদের অনেক টাকা দেয়া হয়, তারা দেশের সব টাকা দিয়ে ক্রিকেট খেলে একটাও জিততে পারে না এমন কথাগুলো বলা সত্যিই আমাদের জাতির পুরো ভাবমূর্তির সঙ্গে মেলে না। নির্মল আনন্দের ক্রিকেট ফিরবে তো আবার অবশ্যই। তখন সমালোচনাকারীরা কোনো উপায় না পেয়ে আবার বলবে আমরা জানতাম বাংলাদেশ পারবেই!
আসুন গ্রহণযোগ্য সমালোচনা করি। ক্রিকেট আমাদের বাঁচাতে হবে, ক্রিকেট থেকে আমাদের নির্মল বিনোদনের জায়গাকে খুঁজে বের করতে হবে। অনেক অসহ্য যন্ত্রণাময় সংবাদের পরও সকালে উঠে পত্রিকায় যখন দেখি ক্রিকেট নিয়ে কোনো ভালো শব্দ তখন মনে হয় আমরা বাঙালিরাই বুঝি ক্রিকেটকে বেশি ভালোবাসি।
আবার তো জিতবেই বাংলাদেশ। তখন সমালোচনাকারীরা যাতে বলে ওঠে না আমরা আগেই জানতাম বাংলাদেশ জিতবেই। খেলায় হার থাকলে জিত থাকবেই। সবাই যখন বিপক্ষে কথা বলছে তখন বলে ফেলুন না আমরা জিততে পারি। এখন সবার কথা কম বলে বাংলাদেশ দল, বাংলাদেশের ক্রিকেট ও মনস্তাত্ত্বিক ক্রিকেট চর্চার দিকে জোর দেয়া খুব জরুরি আমাদের জন্য। কারণ ক্রিকেটকে বাঁচাতে হবে আমাদের প্রজন্মকে খেলার মধ্যে রেখে তাদের মানসিকতাকে উন্নত করতে, নেশা দূরে সরিয়ে রাখতে।
সাঈদ চৌধুরী
শ্রীপুর, গাজীপুর।
[email protected]

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়