ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠানের নতুন নাম ‘মেটা’

আগের সংবাদ

সাম্প্রদায়িক গালি দিলেন সাংসদ আয়েন উদ্দিন!

পরের সংবাদ

ইএফডির দাম নিয়ে জটিলতা, বিপাকে পড়বেন ছোট ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২১ , ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৯, ২০২১ , ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ

ভ্যাট আদায়ে স্বচ্ছতা আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইলেক্ট্রনিক্স ফিজিক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) বসানোর উদ্যোগ নেয়। বিনামূল্যে ব্যবসায়ীদের ইএফডি সরবরাহ করলেও এবার এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে এনবিআর। এখন থেকে বিনামূল্যে ব্যবসায়ীদের মাঝে ইএফডি সরবরাহ করবে না প্রতিষ্ঠানটি। এক্ষেত্রে ইএফডির দাম পরিশোধ করতে হবে। প্রয়োজনে কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে দাম। এনবিআরের ভ্যাটের কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন কোন কোন দোকানে ইএফডি বসবে। ইতোমধ্যে ইএফডির দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু এই দামে বেশ আপত্তি ব্যবসায়ীদের। তারা বলছেন, এনবিআরের সরবরাহ করা ইএফডির বাজারমূল্য ৮-১০ হাজার টাকা। কিন্তু দাম নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ২০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এই দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা না বলে এনবিআর তাদের সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এনবিআর বলছে, আমদানি মূল্যেই ব্যবসায়ীদের ইএফডি সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে সরকার কোনো ধরনের মুনাফা করছে না। বরং এনবিআরের খরচ বিক্রয়মূল্যের চেয়ে আরো বেশি।

এনবিআরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনবিআরের পক্ষ থেকে নতুন করে বিনামূল্যে আর ইএফডি মেশিন সরবরাহ করা হবে না। যেসব দোকানে ইএফডি সরবরাহ করা হবে, তার জন্য ২০ হাজার ৫৫৩ টাকা পরিশোধ করতে হবে ব্যবসায়ীদের। এনবিআরের পক্ষ থেকে ইএফডি সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠান ঝততঞ-কগগঞ-ঝণঘঊঝওঝ-ঊঅঞখঔঠ. চীনা এই প্রতিষ্ঠানটি এনবিআর নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী ইএফডি সরবরাহ করবে। তবে ইএফডি বসাতে ব্যবসায়ীদের আপত্তি না থাকলেও দাম নিয়ে চরম আপত্তি রয়েছে তাদের। এনবিআর প্রতিটি ইএফডি মেশিনের দাম নির্ধারণ করেছে ২০ হাজার ৫৩৩ টাকা। তবে চাইলে একজন ব্যবসায়ী এককালীন বা ৩ মাসের কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন। আর মেশিন বসানোর ১ মাসের মধ্যে প্রথম কিস্তিতে ১০ হাজার ৫৩৩ টাকা পরিশোধ করতে হবে। পরের দুই মাসে ৫ হাজার টাকা করে পরিশোধ করা যাবে। ইএফডির পাশাপাশি সেলস ডেটা কন্ট্রোলার (এসডিসি) মেশিনও বসানো হবে। ওই মেশিনের দামও নির্ধারণ করেছে এনবিআর। একেকটি এসডিসির দাম পড়বে ২৪ হাজার ৫৯৬ টাকা। সেক্ষেত্রে প্রথম মাসে ১২ হাজার ৫৯৬ টাকার পরিশোধ করতে হবে। পরের দুই মাসে ৬ হাজার টাকা করে পরিশোধ করতে পারবেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে এনবিআরের ভ্যাট বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য আবদুল মান্নান শিকদার ভোরের কাগজকে বলেন, সরকার বাজারদরের তুলনায় ইএফডির দাম কমই নির্ধারণ করেছে। সরকার কেনা দামেই ব্যবসায়ীদের ইএফডি মেশিন দিচ্ছে। এনবিআরকে কিছু টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে। এছাড়া ইএফডি কেনার ক্ষেত্রে সরকার আরো সুবিধা দিচ্ছে। চাইলে একজন ব্যবসায়ী কিস্তিতে ইএফডির টাকা পরিশোধ করতে পারবেন। প্রথম দিকে বিনামূল্যে দিলেও এখন আর সম্ভব হচ্ছে না। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, এই ইএফডির মালিক তো ব্যবসায়ীরা। তাই টাকা দিয়ে ইএফডি কিনলে ব্যবসায়ীরা এই মেশিনের প্রতি আরো বেশি যতœবান হবেন।

এনবিআর সূত্র জানায়, বেচাকেনা যাই হোক না কেন, বর্তমানে চব্বিশ ধরনের ব্যবসায় ইএফডি মেশিন বসানো বাধ্যতামূলক। সেগুলোর মধ্যে মিষ্টির দোকান, রেস্তোরাঁ, ফাস্ট ফুডের দোকান, আবাসিক হোটেল, বিউটি পারলার, পোশাকের শোরুম, ডিপার্টমেন্ট স্টোর, সুপারশপ, লন্ড্রি, জুয়েলারি বা গয়নার দোকান, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার বা জিম, গৃহস্থালিতে ব্যবহার্য ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক পণ্য, বড় ও মাঝারি ব্যবসা (পাইকারি ও খুচরা) উল্লেখযোগ্য। ইএফডি বসানোর ক্ষেত্রে প্রতিটি ভ্যাট কমিশনারেটকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ইএফডি মেশিন বরাদ্দ দেয়া হবে। মাঠপর্যায়ের ভ্যাট কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিপণিবিতান বা পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ঠিক করবেন, কোনো কোনো দোকানে ইএফডি লাগবে। পরে ভেণ্ডার প্রতিষ্ঠান এসজেডজেডটি-কেএমএমটি-এসওয়াইএনইএসআইএস-ইএটিএল জেভির প্রতিনিধি গিয়ে ওই দোকানে ভ্যাটের মেশিন বসিয়ে দিয়ে আসবেন। আর প্রতি মাসে কত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন বসানো হলো, তা এনবিআরকে জানাবে এনবিআর অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান।

দোকান মালিক সমিতির তথ্যানুযায়ী, রাজধানী ঢাকা মহানগরীতে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ দোকান রয়েছে। আর সারাদেশ মিলে দোকানের সংখ্যা হবে প্রায় ২৫ লাখ। এসব বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন ভোরের কাগজকে বলেন, বাজারে ইএফডি মেশিনের দাম ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই ইএফডির দাম নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এনবিআর সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু ব্যবসায়ীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। দাম নির্ধারণের আগে এফবিসিসিআই, এনবিআর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিসহ একটি কমিটি হতে পারত। তাহলে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতো না বলেও অভিমত এই ব্যবসায়ী নেতার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইএফডি মেশিনের ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়বেন পুরান ঢাকার ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা। কারণ, সেখানকার ছোট ছোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হিসাব-নিকাশ সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার নিয়ম খুবই কম। অনেকে টালি খাতায় হিসাব রাখেন। ব্যবসায়ীরা আরো বলছেন, পুরান ঢাকার ছোট ব্যবসায়ীদের প্রায় সবাই করোনার কারণে লোকসানে পড়েছেন। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভাড়া ও কর্মীদের বেতন বকেয়া রয়ে গেছে। এখন যদি ইএফডি মেশিন কেনার জন্য আরো সাড়ে ২০ হাজার টাকা চাপিয়ে দেয়া হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না বলেও অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ভোরের কাগজকে বলেন, এনবিআরের দায়িত্ব রাজস্ব আহরণ করা। ইএফডি কীভাবে ব্যবসায়ীরা সরবরাহ করবেন তা এনবিআরের বিষয় নয়। এক্ষেত্রে এনবিআরের উচিত নির্ধারিত সময় নির্ধারণ করে দেয়া এই সময়ের মধ্যে ব্যবসায়ীদের ইএফডি বসাতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়