টপ অর্ডার থেকে রান আসতে হবে

আগের সংবাদ

ভিন্ন ধর্মের প্রতি সহনশীলতা

পরের সংবাদ

ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তবতা ও সাশ্রয়ী নেট সেবা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৮, ২০২১ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৮, ২০২১ , ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ

ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবতা। শহর থেকে শুরু করে দুর্গম প্রান্তিক এলাকার পিছিয়ে পড়া জনসাধারণের জীবনেও লেগেছে ডিজিটাল স্পর্শ। নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন এবং সহজেই নাগরিক সেবা প্রাপ্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবস্থাপনা, কর্মপদ্ধতি, শিল্প-বাণিজ্য ও উৎপাদন, অর্থনীতি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনধারা ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালনা করার লক্ষ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। এর প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি। তবে সামনে চ্যালেঞ্জও রয়েছে। তা মোকাবিলায় পরিকল্পনা জরুরি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যখন ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প ঘোষণা করে তখন অনেকের কাছেই বিষয়টি ছিল গুরুত্বহীন। অনেকে সমালোচনা করেছেন। সমালোচকদের কথা ভুল প্রমাণিত করে আজ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত। জানা গেছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপে বর্তমানে দেশের ৪ হাজার ৫৫০টি ইউনিয়ন পরিষদে স্থাপন করা হয়েছে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার। দেশের সব উপজেলাকে আনা হয়েছে ইন্টারনেটের আওতায়। ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’-এর সুবিধা কাজে লাগিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ফলে দ্রুত দেশের যে কোনো প্রান্তে অর্থনৈতিক লেনদেনের সুবিধা সাধারণ মানুষের জীবনে এনে দিয়েছে স্বস্তি। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ এবং ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা ৪ কোটি ৪৬ লাখে উন্নীত হয়েছে। সেবা প্রদান প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে চালু করা হয়েছে ই-পেমেন্ট ও মোবাইল ব্যাংকিং। কৃষি বাতায়ন ও কৃষক বন্ধু কলসেন্টার চালু করা হয়েছে। ফলে সহজেই কৃষকরা ঘরে বসে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন। ১২ বছর ধরে সরকারের তথ্যপ্রযুক্তির নানা উদ্যোগের ফলে শিক্ষা কার্যক্রম এখন অনেকাংশেই সহজতর হয়েছে। পেয়েছে বৈশ্বিক মান। প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি ও অনলাইন প্রযুক্তিগত ডিজিটাল জ্ঞান তৈরি করছে নানা কর্মসংস্থান। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে খোদ প্রধানমন্ত্রীর যেমন কার্যকর প্রতিশ্রæতি রয়েছে তেমনি ২০৩০ সালে এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা ও ২০৪১ সালের সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশের স্বপ্ন, এমনকি ২১০০ সালের বদ্বীপ তার এতদসংক্রান্ত উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদও অব্যাহতভাবে এই খাতের প্রকল্প-কর্মসূচিগুলোকে নিবিড় নজরে রেখেছেন। শতভাগ বাস্তবায়নে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেই বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রথম জাতীয় অঙ্গীকার হচ্ছে ডিজিটাল টুলস ব্যবহার করে দেশ থেকে দারিদ্র্য ও বৈষম্য দূর করা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অগ্রাধিকার থাকতে হবে। সারাদেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা। প্রতিটি ঘরকে তার বা বেতার পদ্ধতিতে ডিজিটাল নেটওয়ার্ক-ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল অবকাঠামো ইন্টারনেট। কিন্তু ইন্টারনেট যেমনি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় নেই তেমনি ইন্টারনেটের ব্যান্ডউইদথ নেই। বিশেষ গুরুত্ব ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করতে হবে সর্বত্র। সাশ্রয়ী দামে সংযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়