জাতীয় প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আগের সংবাদ

পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনায় বিএনপির সম্পৃক্ততা নেই: ফখরুল

পরের সংবাদ

কারাগারে তৈরি হচ্ছে ডাকাতদের নতুন গ্রুপ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৭, ২০২১ , ১২:৫৯ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০২১ , ১:০৫ অপরাহ্ণ

বিভিন্ন ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্যদের কারাগারে পাঠালে সেখানে তারা আবার সংগঠিত হয়। নতুনভাবে তৈরী করে ডাকাত দল। পরে জামিনে বেড়িয়ে এসে আবারো ডাকাতি শুরু করে। রাজধানীর মতিঝিল ও মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ভুয়া ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ডাকাতি করা চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তারের পর বুধবার বেলা ১২টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) হারুন অর রশিদ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আবদুল্লাহ আল মামুন, ইমদাদুল শরীফ, খোকন, মাসুদুর রহমান তুহিন, মামুন শিকদার, কমল হোসেন, ওয়াহিদুল ইসলাম, ফারুক বেপারী ও মতিউর রহমান। মঙ্গলবার তাদেরকে গ্রেপ্তারের সময় একটি ওয়াকিটকি, একটি নকল পিস্তল, একজোড়া হাতকড়া, দুইটি ডিবি জ্যাকেট, ৪টি গামছা, একটি প্রাইভেটকার, একটি মাইক্রোবাস ও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, করোনা মহামারী কাটিয়ে অর্থনীতি আবার চাঙা হয়ে উঠেছে। ফলে মানুষের ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের হার বাড়ছে। এই সু্যোগে চক্রটি মতিঝিলের ব্যাংকপাড়ায় অবস্থান নিয়ে টাকা উত্তোলন করে আসা ব্যক্তিদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে গাড়িতে তুলতো। পরে ভয় দেখিয়ে মূল্যবান সবকিছু লুট করে নিতো। যারা চেচামেচি করার চেষ্টা করতো তাদের গলায় গামছা পেচিয়ে ফাঁস দিতো। অনেককে গামছা দিয়ে চোখ বেধে নির্জন এলাকায় নিয়ে সবকিছু লুট করে নিতো।

জব্দকৃত সরঞ্জাম

ডিবি কর্মকর্তা আরো বলেন, টার্গেটকৃত ব্যক্তি বাসে উঠলেও রেহাই মিলতোনা। চক্রের সদস্যরা তাদের ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে ওই বাসের পিছু নিতো। বাসটি একটু নির্জন এলাকায় গেলে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে বাসের গতিরোধ করে, সেই ব্যক্তিকে নিজেদের গাড়িতে তুলতো। সবকিছু লুট করা হয়ে গেলে ভিকটিমকে আশুলিয়া ও রূপগঞ্জের নির্জন এলাকায় ফেলে দেয়া হতো। অনেক সময় তারা নারীদের টার্গেট করে মূল্যবান কিছু না পেয়ে ধর্ষণ ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিক ধর্ষন ও নারী নির্যাতন আইনে মামলা রয়েছে।

কেউ ডিবি পরিচয় দিলেই তাকে আসল মনে করবেন না জানিয়ে হারুন অর রশিদ বলেন, কেউ ডিবি পরিচয় দিলে যাচাই করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট থানা ও জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে নিশ্চিত হন। না হলে ভয়াবহ বিপদ ঘটতে পারে। যদি কোনোভাবে ডাকাতির ঘটনা ঘটেও যায়, তাহলে থানায় মামলা করুন, ডিবি কার্যালয়ে অন্তত জানান। অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে। প্রাণে বেঁচে গেছি ভেবে শুকরিয়া আদায় করে চুপ না থাকার আহ্বান জানান ডিবির যুগ্ম কমিশনার হারুন। গ্রেপ্তারকৃত চক্রটির বিরুদ্ধে ডাকাতি ও মাদক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।

রি-আইআর/ইভূ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়