সাম্প্রদায়িক হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান সন্তোষজনক

আগের সংবাদ

এল ক্লাসিকোয় ২-১ গোলে বার্সাকে হারাল রিয়াল মাদ্রিদ

পরের সংবাদ

ভারতকে লজ্জায় ডুবিয়ে ১০ উইকেটে জিতল পাকিস্তান

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৪, ২০২১ , ১১:৩৭ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৫, ২০২১ , ১২:০১ পূর্বাহ্ণ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আজ রবিবার ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে পাকিস্তান। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে হওয়া এ ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫১ রান করে ভারত। জবাবে পাকিস্তানের দুই ওপেনার বাবর আজম ও মোহামদ রিজওয়ান অপরাজিত থেকে পাকিস্তানকে জয়ের বন্দরে পৌছে দেন। বাবর ৬৮ রান করেন। অপরদিকে রিজওয়ান ৭৯ রান করেন।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে এ ম্যাচটির আগে মোট ১২টি ম্যাচ খেলে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বি। যেখানে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সাতটি ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পাঁচটি ম্যাচেই জয় তুলে নেয় ম্যান ইন ব্লুরা। কিন্তু ১৩তম ম্যাচে এসে জয়ের দেখা পেল ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আনলাকি থার্টিনে এসে হারের স্বাদ পেল ভারত।

এদিন টসে হেরে ব্যাটিং করতে নামে রবি শাস্ত্রীর শিষ্যরা। প্রথমদিকে দ্রুত উইকেট হারালেও দলের হাল ধরেন অধিনায়ক কোহলি। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সমর্থ হয় ম্যান ইন ব্লুরা।
ম্যাচটিতে ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৯ বল খেলে ৫৭ রান করেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। এই রান করে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ খেলে তিনটি ম্যাচেই হাফসেঞ্চুরি করেছেন তিনি। বিশ্বকাপে এটি তার দশম হাফসেঞ্চুরি। আর সব মিলিয়ে টানা তৃতীয়। ২০১৬ বিশ্বকাপে তিনি অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যথাক্রমে ৮২ ও ৮৯ রান করেন । ম্যাচটিতে ভারতের হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৯ রান আসে ঋসভ পন্তর ব্যাট থেকে। অপরদিকে পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট তুলে নেন শাহিন আফ্রিদি ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে কোহলি যে তিনটি ম্যাচে খেলেছিলেন, সেই তিনটি ম্যাচের সবগুলোতে তিনি ছিলেন অপরাজিত। আজকের ম্যাচটিতেও শেষ পর্যন্ত যদি ব্যাট করতে পারতেন তাহলে চারটি ম্যাচের সবগুলোতেই অপরাজিত থাকার অনন্য কীর্তি গড়তে পারতেন তিনি। তবে ১৮.৪ ওভারের সময় শাহিন আফ্রিদির বলে ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন।

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটিতে টসে জেতেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। এর মাধ্যমে ২০১২ বিশ্বকাপের পর প্রথম পাকিস্তানী অধিনায়ক হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টসে জয় পাওয়ার স্বাদ পেয়েছেন। এর আগে যথাক্রমে ২০১৪ ও ২০১৬ সালের বিশ্বকাপ ম্যাচে টস জিতেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি।

বাবর টসে জিতে ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। এর মাধ্যমে ২০১০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে ম্যান ইন ব্লুরা। ২০১২, ২০১৪ ও ২০১৬ বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্তানের দেয়া লক্ষ তাড়া করেছে। আর প্রত্যেকবারই খুব সহজেই সেই লক্ষে পৌছে যায় তারা।

ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই শাহিন আফ্রিদির গতির কাছে পরাস্ত হন দুই ভারতীয় ওপেনার রোহিত শর্মা ও লুকেশ রাহুল। ম্যাচটিতে আফ্রিদির প্রথম ওভারেই মাত্র একটি বল খেলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পরে সাজঘরে ফিরে যান রোহিত শর্মা। এরপর শাহিন আফ্রিদির দ্বিতীয় ওভারেই সরাসরি বোল্ড আউট হয়ে যান লুকেশ রাহুল। রোহিত শর্মা ও লুকেশ রাহুলকে তিনি যে দুটি বলে আউট করেন সে দুটি বলই ছিল দুর্দান্ত। মানে ব্যাট চালানোর অনুপযোগী। দ্রুত দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যাওয়া ভারতকে টেনে তোলার দিকে মনযোগ দেন বিরাট কোহলি। ফলে দেখেশুনে খেলতে থাকেন তিনি। রাহুল আউট হওয়ার পর ক্রিজে আসেন সূর্যকুমার যাদব। তবে যাদবকে বেশিদূর আগাতে দেননি হাসান আলী। পাকিস্তানী এ পেসার সূর্যকুমার যাদবকে ১১ রানের মাথায় ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এরপরই পন্তকে নিয়ে সামনে এগুতে থাকেন কোহলি। দুজন মিলে বড় পার্টনারশিপও গড়ে তোলেন। অবশেষে দলীয় ৮২ রানের সময় পন্ত শাদাব খানের বলে ক্যাচ আউট হন। এরপর দলীয় ১২৫ রানে ১৩ রান করে ববিন্দ্র জাদেজা ও ১৩৩ রানের সময় কোহলি বিদায় নেন। ভারতের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে হার্দিক পান্ডিয়া ৮ বলে ১১ করে হারিস রউফের বলে ক্যাচ আউট হন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়