অভিবাসী পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করছে মালয়েশিয়া

আগের সংবাদ

সহিংসতা সনাতনদের অস্তিত্বের সংকট নয়!

পরের সংবাদ

উত্তরের চার জেলা প্লাবিত : বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখুন

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২১ , ১:১৬ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২১ , ১:১৬ পূর্বাহ্ণ

হঠাৎ ফুঁসে উঠছে নদ-নদী। জানা গেছে, অসময়ের বন্যায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে তিস্তাঘেরা উত্তরের চার জেলা। ফলে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিভিন্ন উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ হয়ে পড়েছে পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, আবাদি জমিসহ ফসলের ক্ষেত। গত বুধবার সকালে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। নীলফামারীতে কয়েকটি বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। লালমনিরহাটে একটি সড়কের প্রায় ৪০০ মিটার ধসে যায়। ব্যাপক ক্ষতি হয় ফসলের। ভারতের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ভারি বৃষ্টি হওয়ায় তিস্তায় পানি বেড়েছে। ফলে এই নদীর বাংলাদেশ অংশে বন্যা দেখা দিয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছরে এমন পানির ঢল দেখেননি তিস্তাপাড়ের মানুষ। উজানের নেমে আসা ঢলের পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়। জারি করা হয় সতর্কতা। এমন অবস্থায় বন্যা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা জানানো হয়েছে বিভিন্ন আবহাওয়া পূর্বাভাসে। এটা আমাদের জন্য শঙ্কার ব্যাপার বৈকি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ জরুরি। এদিকে পানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি শুরু হয়েছে নদীভাঙন। হঠাৎ নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় তা নদীর কূল উপচে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে প্রবেশ করছে। এতে ফসলি জমি তলিয়ে যাচ্ছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নদী পাড়ের মানুষের মধ্যে শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে। নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ এবং গবাদি পশু নিয়ে পড়েছে বিপাকে। দেখা দিয়েছে শুকনা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের লক্ষণ এখনো দেখা না গেলেও অচিরেই আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নদ-নদীর পানি উপচে বন্যার পদধ্বনি কেবল নয়, এমন পরিস্থিতি আমাদের জন্য দুর্ভাবনার। সামনে ভয়াবহ বন্যার যে আশঙ্কা করা হচ্ছে তা আমলে নিয়েই সরকারের এখন থেকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এড়ানো আমাদের সাধ্যাধীন নয়। তবে যথাযথ প্রস্তুতি নিলে মানুষের দুর্ভোগ, ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চয় নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নদী ভরাট হওয়ার কারণে যেমন বেড়েছে ভাঙন, তেমনি সামান্য ঢলে দুকূল উপচে আকস্মিক বন্যা ঘটায়। নদ-নদীর নাব্য রক্ষা করে একদিকে যেমন বন্যার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, তেমনি সম্ভব ভাঙন ঠেকানো। আমরা জানি ড্রেজিং নিয়ে সরকারের ‘মহাপরিকল্পনা’ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবায়নের খুব বেশি অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। বন্যার সময় বাঁধ একটা বড় আশ্রয়স্থল। যেভাবে বাঁধ ভাঙছে, তাতে সব বাঁধকে এখন নিরাপদ আশ্রয় মনে করা যাচ্ছে না। তারপর রয়েছে খাদ্য সংকট। আমরা আশা করছি, বন্যার্তদের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়ার সংস্থান করবে সরকার। বিশুদ্ধ পানি, ওষুধপত্র এবং চিকিৎসাসেবাও প্রস্তুত রাখা দরকার। সরকার ও প্রশাসন এ বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে- এটাই আমরা প্রত্যাশা করি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়