রাষ্ট্রধর্ম পরিবর্তনের পরিকল্পনা আওয়ামী লীগের নেই: হুইপ স্বপন

আগের সংবাদ

ধর্মকে কেন বারবার আঘাত করা হয়?

পরের সংবাদ

স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে

প্রকাশিত: অক্টোবর ২২, ২০২১ , ১:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২২, ২০২১ , ১:০০ পূর্বাহ্ণ

খবরে প্রকাশ, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকে উন্নতি হলেও পুষ্টি খাতে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনো অনেকটা পিছিয়ে বাংলাদেশ। দেশে নবজাতক, শিশু, নারী ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনো স্থায়ীভাবে অপুষ্টিতে ভুগছে। স্বাভাবিক সময়ে অপুষ্টির যে চিত্র, করোনা মহামারিতে বেড়েছে তার ব্যাপকতা। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণায়ও এমন তথ্য উঠে এসেছে। চলমান কোভিড পরিস্থিতি এ চ্যালেঞ্জ বরং কিছুটা বাড়িয়েছে। তথ্য বলছে, দেশে ৫ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি বা খর্বকায়তায় ভুগছে ৩১ শতাংশ। ৮ শতাংশ ভুগছে তীব্র অপুষ্টি বা কৃশতায়। বয়স অনুপাতে কম ওজন ২২ শতাংশ শিশুর। এছাড়া ৪০-৪২ শতাংশ শিশু ও নারী আয়োডিনস্বল্পতায় ভুগছে। রক্তস্বল্পতায় ভুগছে নারীদের একটা অংশ। এগুলো অপুষ্টিরই নানা অভিপ্রকাশ। সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই বাংলাদেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে তৈরি করার কথা বলেন। কিন্তু বিপুলসংখ্যক মানুষকে অপুষ্টিতে রেখে সেটি সম্ভব নয়। এ কারণে সরকারের সব উন্নয়ন কর্মসূচিতে পুষ্টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্য আমাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য অতি প্রয়োজনীয় নিয়ামক। অনিরাপদ খাদ্য ক্যান্সার, কিডনি রোগ, বিকলাঙ্গতাসহ মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও শিশু ও মাতৃপুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পর্যায়ে বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যের সমন্বয়ে পরিপূর্ণ পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ এখনো বিরাট চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শিশু পুষ্টির জন্য মায়ের দুধ পান ও পরিপূরক খাবার গ্রহণের হার এখনো অপ্রতুল। ব্যক্তির খাবারে খাদ্য উপাদান যথাযথ পরিমাণে না থাকা বা অতিরিক্ত থাকা অপুষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রধান কারণ। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘ শিশু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ছয়জনের একজন অপুষ্টিতে ভুগছে। বিশেষত জাতীয় অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকও বটে। অপুষ্টি দূর করতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৫ সাল পর্যন্ত একটি বৈশ্বিক পুষ্টি উন্নয়ন টার্গেট ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে অপুষ্টির প্রাধান্য থাকা দেশগুলো নিজেদের পুষ্টি কার্যক্রম ও নীতি-পরিকল্পনা সাজিয়েছে। জনসাধারণের পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিতে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দেশ ভালোও করেছে। মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ যথেষ্ট এগিয়েছে। স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রেও অগ্রগতি কম নয়। কিন্তু শিশু ও নারীর পুষ্টি পরিস্থিতি এখনো সন্তোষজনক নয়। কিন্তু জাতীয় অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্ত্বেও আমরা কেন অপুষ্টির চক্র থেকে মুক্ত হতে পারছি না। অপুষ্টির চক্র থেকে বেরোতে হলে পুষ্টি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়