এই হামলার চূড়ান্ত লক্ষ্য বাংলাদেশ রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে

আগের সংবাদ

অপশক্তি রুখতে মাঠে আওয়ামী লীগ

পরের সংবাদ

শেয়ারবাজার সংকটের সমাধান কী

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২১ , ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২১ , ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা ক্রমে স্থায়ী রূপ পেতে শুরু করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শেয়ার মার্কেট অস্থির ও অশান্ত ছিল। বাজারে টানা দরপতন চলছে। কোনোভাবে থামছে না। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস গত সোমবারও সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেয়ারের বিক্রি চাপে গতকাল ঢাকার শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। এ নিয়ে টানা ছয় কার্যদিবসের পতনে ডিএসইর প্রধান সূচকটি ২৭০ পয়েন্ট কমেছে। বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা। টানা দরপতনের কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মাঝে অস্থিরতা বাড়ছে। গত রবিবারও প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব মূল্যসূচকের বড় পতন হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্রায় সব কোম্পানির দাম কমায় এখন ধসে রূপ নিয়েছে। তারা বলছেন, নতুন করে এই ধসে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় আরো ঢুকেছে, বাজারে আরো পতন হতে পারে। তাই তারা দ্রুত শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে টাকা ক্যাশ করে নিচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, পাঁচ কারণে পুঁজিবাজারে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এগুলো হচ্ছে, দুর্বল আইপিও, বিশৃঙ্খল আর্থিক বিবরণী, বিও অ্যাকাউন্টে স্বচ্ছতার অভাব, সেকেন্ডারি মার্কেটে সন্দেহজনক লেনদেন ও প্রশ্নবিদ্ধ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হচ্ছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আরো বেশি শেয়ার ও বন্ড মার্কেটের শেয়ার জোগান দেয়া হলে পুঁজিবাজার হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে উদাসীন। শেয়ারবাজারের উত্থান-পতন নিয়ে চলছে লুকোচুরি খেলা। একটা তুঘলকি কাণ্ডের ভেতর দিয়েই শেয়ারবাজার দিন অতিক্রম করছে। অথচ সরকারের উদাসীনতা, অব্যবস্থাপনা ও সীমাহীন অনিয়মের কারণেই বিভিন্ন সময় এ বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে এবং সে ধারা এখনো অব্যাহত আছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, নানা প্রতিশ্রæতির পরও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। অথচ শেয়ারবাজার একটি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং অর্থনৈতিক চিত্রকে প্রতিফলিত করে। তাই দেশের উন্নতির স্বার্থেই শেয়ারবাজারের স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। তার জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপন্থা, নীতিমালা এবং গাইডলাইন। আশ্চর্যের বিষয়- তা হলো শেয়ারবাজারের এই শোচনীয় অবস্থা দেখার যেন কেউ নেই। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেয়ারবাজার নিয়ে নানা নয়-ছয় হয়েছে। ২০১০ সালেও দেখেছি এমন চিত্র। যার প্রতিকার এখনো মেলেনি। ফলে সহায় সম্বল তথা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছে লাখ লাখ মানুষ, যাদের অধিকাংশই ছিল বেকার ও নিম্নবিত্ত। আমরা মনে করি, শেয়ারবাজারকে পুনর্গঠন করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আর যারা এ খাতে বিনিয়োগ করছে, তাদের উচিত এ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করে বিনিয়োগ করা।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়