রামগড়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জরিমানা

আগের সংবাদ

চীনের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার খবরে উদ্বেগ আমেরিকার

পরের সংবাদ

এনজিও মালিক উধাও, নি:স্ব দুই হাজার গ্রাহক

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২১ , ৪:৪১ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২১ , ৪:৪২ অপরাহ্ণ

প্রায় দুই হাজার গ্রাহকের অন্তত ৪০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মালিক হন মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন (৪১)। ৯ অক্টোবর থেকে তিনি লাপাত্তা। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চান্দহর বাজারে নাম সর্বস্ব একটি এনজিও বেস্টওয়ে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি (বিএমসিএস) কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। এরই জেরে বাজারে তার মালিকানাধীন বালাদ মুদি দোকানটি এক পাওনাদার দখলে নিয়েছে।

সরেজমিনে জানা য়ায়, ২০১২ সাল থেকে শুরু করে প্রায় দু’হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আফজাল হোসাইন ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি আমানত সংগ্রহ করেন। উপজেলার চান্দহর এলাকার আশপাশ ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ ও দোহারে রয়েছে তার গ্রাহক। এরই মধ্যে গ্রাহকদের আমানত সংগ্রহ করে উধাও হওয়ার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হওয়ায় গ্রাহকরা হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। তালাবদ্ধ অফিসের সামনে এসে অনেকেই আহাজারি করছেন। সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়ে পড়েছেন তারা। বিএমসি এন্টারপ্রাইজ কার্যালয়ের সামনে কথা হয় তিন কোটি টাকার ওপরে গচ্ছিত রাখা ২৫ জন গ্রাহকের সঙ্গে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দু’হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৪০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে ওই এলাকার পশ্চিম মাধবপুর গ্রামের ইয়াকুব মেম্বারের পুত্র আফজাল হোসাইন।

রাজধানী ঢাকা, সাভারসহ নিজ এলাকায় ১০টি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এখন সে লাপাত্তা। মাঝে মধ্যে ভুক্তভোগীদের ফোন রিসিভ করে টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দিলেও এলাকায় ফিরছেন না তিনি। এতে গ্রাহকদের মধ্যে দিন দিন ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাঘুলি গ্রামের মৃত বারেক মোল্লার স্ত্রী ছবুরন (৬০) বলেন, ৭ লাখ টাকা আফজালের অফিসে রাখার পর লাভ তো দূরের কথা এখন সে আসল টাকা না দিয়েই পালিয়ে গেছে।

মাধবপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, মুনাফা দেয়ার আশ্বাস দিয়ে আমার পরিবার থেকেই ৩১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আফজাল। তজুমুদ্দিনের পরিবার থেকে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা, বিশা মাদবরের পরিবারের ২০ লাখ, ছকেল মাদবরের পরিবারের ১৪ লাখ, সুরুজের ৪৫ লাখ, আবু বক্করের ১৪ লাখ, বক্কার কাজীর ২০ লাখ, হাবিব মোল্লার ১৫ লাখ ও শাহজাহানের স্ত্রীর ৬ লাখ টাকাসহ এ রকম অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়েছে আফজাল।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালিয়েছেন আমানত সংগ্রহ ও ঋণ কার্যক্রম। মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমতি তো দূরের কথা স্থানীয় পর্যায় থেকেও নেয়া হয়নি কোনো নিবন্ধন।

মাওলানা আফজাল হোসাইনের মালিকানাধীন নাম সর্বস্ব বিএমসি এন্টারপ্রাইজের এ প্রতারণার বিষয়টি প্রশাসন জানা সত্ত্বেও নেয়নি কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ফলে ভুক্তভোগী গ্রাহকগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ নিয়ে বিএমসি এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী মাওলানা আফজাল হোসাইনের ব্যবহৃত মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

তবে চান্দহর বাজারে অবস্থিত আফজাল হোসাইনের মালিকানাধীন শেফা ফার্মেসীর ওষুধ বিক্রেতা শামিম আহমেদ আশিক বলেন, একটি ঝামেলার কারণে আফজাল স্যার কিছুদিন যাবত এখানে আসছেন না।

এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (সিংগাইর সার্কেল) মোহা. রেজাউল হক বলেন, শান্তিপুর-বাঘুলি তদন্ত কেন্দ্রের আইসিকে পাঠিয়েছিলাম, ঘটনার সত্যতা মিলেছে। গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়