শেয়ারবাজার সংকটের সমাধান কী

আগের সংবাদ

অপুষ্টি চক্রে দেশের পুষ্টি : করোনাকালে বেড়েছে ব্যাপকতা

পরের সংবাদ

অপশক্তি রুখতে মাঠে আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত: অক্টোবর ২০, ২০২১ , ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২০, ২০২১ , ৯:২৫ পূর্বাহ্ণ

জন্মলগ্ন থেকেই সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করে পথ চলতে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে। স্বাধীনতার পর নিজ ভ‚মেও বারবার রাজনৈতিকভাবে অপশক্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কী ক্ষমতায়, কী বিরোধী দলে- উভয় পরিবেশেই সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে যুদ্ধ করেই আওয়ামী লীগের এগিয়ে চলা। এই বন্ধুর এগিয়ে চলাকে নিয়তি ভেবেই সর্বংসহা শক্তি নিয়ে অপশক্তি রুখতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ। ঐক্যবদ্ধভাবে এই লড়াইয়ে জিততে চায় ক্ষমতাসীনরা। পাশে চায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিসহ সব প্রগতিশীলদের। শপথ লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়া। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা। কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের লড়াইকে আরো শক্তিশালী করার কথা ভাবছে দলটি। দলের একাধিক শীর্ষনেতা জানিয়েছেন, মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে উন্নয়নের সাফল্য যেন ম্লান না হয়ে যায়, সেজন্য কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। প্রয়োজনে সাঁড়াশি অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র মতে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকেই প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িকতা। এখুনি এর বিষদাঁত ভেঙে দিতে না পারলে উন্নয়ন অর্জন সব ভেস্তে যাবে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রশংসাও প্রশ্নবিদ্ধ হবে। দেশের সুনাম বিনষ্ট হবে। সরকার এসব হতে দেবে না। অন্যদিকে সাম্প্রদায়িকতা মাথাচাড়া দিলে আঞ্চলিক রাজনীতির যাঁতাকলে পিষ্ট হবে বাংলাদেশ। এর দায়ভার তখন সরকারের ওপরই বর্তাবে। সবদিক বিবেচনা করে আওয়ামী লীগ সরকারের সামনে কঠোর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা সৃষ্টি করছে তাদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি করেন সরকারপ্রধান।

সাম্প্রদায়িক অপশক্তির মোকাবিলা করে তাদের সমুচিত জবাব দিতে সারাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ রাজপথ ছাড়েনি। আওয়ামী লীগ রাজপথে আছে। যতদিন না এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষদাঁত আমরা ভেঙে দিতে পারব, ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে।

সূত্র মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীনরা। নির্বাচনকে ঘিরে অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে-এমন আশঙ্কা তাদের। আগাম সতর্কতা হিসেবে সারাদেশে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকবে তৃণমূল আওয়ামী লীগ। যেখানে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হবে, সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক করা হবে। দলীয়প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম সারাদেশে সফর করবে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সরকার খুব কঠোর হাতে এই সন্ত্রাস দমনে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অসাম্প্রদায়িক এই বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। আমাদের এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া আওয়ামী লীগের জন্য কতটা চ্যালেঞ্জ জানতে চাইলে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আবদুর রহমান ভোরের কাগজকে বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, অশুভ শক্তি বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। আমরা যারা শুভশক্তি তাদের অধিক শক্তি নিয়ে প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ মাঠে ছিল, মাঠে আছে, মাঠে থাকবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মৌলবাদ-সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অপশক্তিকে সমূলে উৎপাটন করতে না পারলে অসাম্প্রদায়িক চেতনা মুখ থুবড়ে পড়বে। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ভোরের কাগজকে বলেন, মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িকতা সারা বিশে^র জন্য চ্যালেঞ্জ। নানাভাবে মানুষ সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। এটি কাটিয়ে ওঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধের একটা বড় ধরনের প্রত্যাশা ছিল। আমাদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। মৌলবাদ আরো ঝেঁকে বসেছে। তিনি বলেন, পেছনের ইন্ধনদাতাদের দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি প্রয়োজন। কিছুদিন আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। ফেসবুকে পোস্ট নিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলা হয়েছে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা বড় সমস্যা। মহামারি ধারণ করার আগেই বিষফোঁড়া কেটে দেয়া প্রয়োজন। এজন্য দ্রুত বিচার আদালত করে হলেও বিচার ও রায় কার্যকর করা উচিত। পাশাপাশি মৌলবাদীরা যেন কিছুতেই অনুপ্রবেশ না করতে পারে সেজন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে আরো সতর্ক হতে হবে।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস ভোরের কাগজকে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মূল অঙ্গীকার ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার কারণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বারবার হুমকির মুখে পড়ছে। অপরাধীকে দ্রুত বিচার ও শাস্তির আওতায় আনা সরকারের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সব প্রগতিশীল সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ সম্মিলিত আন্দোলন গড়ে তোলা প্রয়োজন।

এসএইচ

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়