নিউজ ফ্ল্যাশ

আগের সংবাদ

পীরগঞ্জে সাম্প্রদায়িক হামলার ২ মামলায় ৪২ আসামি আদালতে

পরের সংবাদ

বিশ্ব জলবায়ু উন্নয়ন পরিকল্পনা চাই, ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয়

প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২১ , ৪:২৪ অপরাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ১৯, ২০২১ , ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক কপ২৬ জলবায়ু সম্মেলনকে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিশ্ব জলবায়ু উন্নয়ন পরিকল্পনা চাই, ফাঁপা প্রতিশ্রুতি নয়। গত সোমবার (১৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসে এক কলাম লিখে তিনি এই আহ্বান জানান।

ওই কলামে তিনি লিখেছেন, আমাদের সময়ের অস্বস্তিকর সত্য হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ এর আগে কখনোই এতো বেশি জরুরী মনে হয়নি। এ সংকটের সমাধানও এর আগে এতো জরুরি হয়ে দাঁড়ায়নি। বিভিন্ন দেশের সরকার আমার দেশের মতো একইসারির দেশগুলিকে নিরাপদ রাখার জন্য দ্রুত কার্বন নির্গমন হ্রাস করছে না। বাংলাদেশের উত্তরে, লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিবছর হিমালয়ের বরফ ক্ষেত্রগুলিতে জমা হওয়া টাটকা পানির উপর নির্ভর করে, উষ্ণ জলবায়ু এখন সেই উৎসকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। তা উপকূলীয় বন্যার হুমকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। ফসলের ফলন কমে যাওয়া জলবায়ুগত আরেকটি ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন যা আমাদের শঙ্কিত করছে।

ওই কলামে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের খুবই সামান্য অংশের জন্য বাংলাদেশের কার্বন নিঃসরণকে দায়ী করা যেতে পারে। তবুও, আমরা একটি সমাধানের পথে এগিয়ে চলার নেতৃত্ব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এটি কেবল এই কারণে নয় যে, আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহতা এড়াতে চাই; এটি অর্থনৈতিক গুরুত্বও অনেক। কার্বন-শূন্য উন্নয়নক্ষেত্রে বিনিয়োগ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির সর্বোত্তম উপায় এবং এ পথেই আমাদের জাতি জন্য আরও সমৃদ্ধি নিশ্চিত হতে পারে। এই বছরের শুরুতে আমার সরকার ১০দটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিকল্পনা বাতিল করেছে। কিন্তু এটি একটি অপেক্ষাকৃত ছোট পদক্ষেপ ছিল। পরবর্তীকালে,কপ২৬ সম্মেলনকে সামনে রেখে, আমরা বিশ্বের প্রথম জাতীয় “জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনা” তৈরি করেছি। এটি এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গি যার অধীনে আমরা স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি করব, আমাদের অর্থনীতি বৃদ্ধি করব, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং আমাদের নাগরিকদের জন্য সুযোগ প্রসারিত করবো এবং জলবায়ু পরিবর্তনের উপর অনুঘটক হিসেবে কাজ করব।

শেখ হাসিনা বলেন, এ পরিকল্পনার অধীনে, আমরা দশকের শেষ নাগাদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আমাদের ৩০ শতাংশ শক্তি অর্জন করব। আমরা বিশ্বাস করি যে উপকূল বরাবর বায়ুবিদ্যুতের জন্য উইন্ডমিল স্থাপন করা হলে তা ম্যানগ্রোভ বনকে পুনরুজ্জীবিত করবে, যা ঝড় এবং বন্যার হাত থেকে রক্ষার মাধ্যমে আমাদের ভঙ্গুর উপকূলকে স্থিতিশীল করতে ভূমিকা রাখবে। আমরা জীবাশ্ম জ্বালানি-মুক্ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলিতে অনুকূল শর্তাবলী প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলিকে ক্ষমতায়ন করব এবং সবুজ হাইড্রোজেনের মতো ক্ষেত্রগুলোতে উন্নত দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতা বজায় করব। স্থিতিস্থাপকতা অজন এবং শূন্য-কার্বন উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে আমরা এই যুগে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ১ মিলিয়েরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা একযোগে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ অর্থনৈতিক ক্ষতি রোধ করবে। অন্যথায় এ ক্ষতি শুধু জলবায়ু পরিবর্তন থেকেই হতো তা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক জীবাশ্ম জ্বালানি অবকাঠামো থেকেও হতো। আমরা মনে করি আমাদের জিডিপিতে সাড়ে ৮শ বিলিয়ন ডলারের সুবিধা পাওয়া যাবে। আমি বিশ্বাস করি অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ আগামী মাস ও বছরগুলিতে এই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করবে, যার নেতৃত্বে থাকবে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম। বাংলাদেশ অন্যান্য দেশ থেকে স্বাধীনভাবেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলের অর্থায়নে এসব বিষয় আরও গতিশীলতা পাবে। কিন্তু যদি আমরা প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য পূরণ করতে চাই, যা হলো প্রাক-শিল্প যুগের থেকে ১ দশমিক ৫ সেন্টিগ্রেড কম উষ্ণতা ধরে রাখতে পারা। এ জন্য বিশ্বের জন্য এ মুহূর্তে প্রয়োজন আমাদের জলবায়ু সমৃদ্ধি পরিকল্পনার একটি বৈশ্বিক সংস্করণ। গ্লাসগোতে এই বছরের কপ২৬ শীর্ষ সম্মেলনটি সেরকম একটি পরিকল্পনা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের জন্য একটি সেরা সুযোগ হতে পারে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়